সকল বাড়িতে  সি.সি.ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ সিএমপি  কমিশনারের

0

বিডিজার্নাল প্রতিবেদক :

নগরীর সকল বাড়ির সামনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানোর জন্য মালিকদের পরামর্শ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল। বাড়ি নিরাপদ রাখলে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে বলেও তাদের পথ বাতলে দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। 

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর বাকলিয়ায় লাগানো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।  

অপরাধ রোধ ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে বন্দরনগরীকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনতে কাজ করছে নগর পুলিশ। cc-camera4

মঙ্গলবার বাকলিয়ার বৌবাজারে সুবর্ণ আবাসিক এলাকায় প্রথম ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বৌবাজার খাজা হোটেলের সামনে সুবর্ণ আবাসিক সমিতি আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিএমপি কমিশনার বলেন, নিজের বাড়ি নিজে নিরাপদ রাখুন। বাড়ির সামনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগান।  বাড়ির সামনে রাস্তায়, অলিগলিতে, সরু সড়কে, নালা-নর্দমার কাছে, বস্তির সামনে ক্যামেরা লাগান।  বস্তিতে অপরাধ বেশি হয়। বস্তির মালিকদের সেখানে ক্যামেরা লাগাতে হবে। 

‘ভাড়াটিয়া যদি এসে দেখেন, মালিক বাড়ির সামনে ক্যামেরা লাগিয়েছেন, এতে ভাড়াটিয়া সন্তুষ্ট হবেন।  মালিক যদি এক হাজার টাকা ভাড়া সেক্ষেত্রে বেশি চান, ভাড়াটিয়া দিতে কার্পণ্য করবেন না। কারণ, ভাড়াটিয়া যদি নিরাপদ বোধ করেন, তার ভাড়া বেশি দিতে আপত্তি থাকার কথা নয়। ’ বলেন মন্ডল। 

সিএমপি কমিশনার বাড়ির মালিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, বাড়ির সামনে ক্যামেরা লাগান আর যাকে বাসা ভাড়া দেবেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে রাখুন। নাম-ঠিকানা লিখে নিজের হেফাজতে রাখুন।  কোন অপরাধী যদি বাসায় অপরাধ করে আর তার বিষয়ে যদি কোন তথ্য না থাকে তাহলে আমরা বাড়ির মালিককে ছাড়বনা।  তখন মালিককে আমরা বাড়িতে থাকতে দেবনা, তার জায়গা হবে জেলখানা। 

এসময় সুবর্ণ আবাসিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন সিএমপি কমিশনারের হাতে বেশকিছু জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি তুলে দেন। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর মধ্যে বাকলিয়ায় প্রথম ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।  এক্ষেত্রে বাকলিয়া একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আস্তে আস্তে পুরো শহর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আসবে। 

অনুষ্ঠানে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, অনেকে বলেন- বাকলিয়া অনগ্রসর, পিছিয়ে আছে।  আমি বলি, বাকলিয়া অনেক এগিয়ে আছে।  আমার উপর আস্থা রাখুন।  আমি যেহেতু দীর্ঘদিন আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি, আমি এই বাকলিয়াকে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত করবই।  আর আমার এ প্রচেষ্টা অন্যতম একটি পদক্ষেপ হচ্ছে পুরো বাকলিয়াকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা। 

তিনি উপস্থিত স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যদি মাদক বিক্রেতাদের সহযোগিতা না করেন, তাহলে বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসা সম্ভব নয়।  আপনাদের এলাকার অনেক সম্মানিত লোকের ছেলে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।  সাবধান হয়ে যান।  যার সন্তানই হোক, আমি আইনের আওতায় আনব। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) কামরুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইয়াছিন চৌধুরী আছু ও সাবেক কাউন্সিলর শাহেদা কাশেম সাথী।  এসময় অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সহকারি কমিশনার (কোতয়ালি জোন) মো.মাঈনুদ্দিন এবং সিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার সহকারি কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। 

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ// ০৩ নভেম্বর২০১৫।

Share.

Leave A Reply