মেয়র-কাউন্সিলরের স্বাক্ষর জালিয়াতি, আটক ১

0

বিডিজার্নাল বিশেষ প্রতিনিধি :

আমেনা খাতুন দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার ভাই মো. হানিফ হোসেন বাক প্রতিবন্ধী। তিনি রিকশা চালিয়ে বোনের লেখাপড়া ও খরচ বহন করছেন। কিন্তু দশম শ্রেণীর ছাত্রী আমেনা খাতুনের মাথায়ও পেটে টিউমার দেখা দেওয়াতে দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বহু টাকার প্রয়োজন। তাই সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতার অনুরোধ করছি। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলীর প্রত্যয়ন পত্র এটি। মেয়র ও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে এ ধরণের প্রত্যয়ন পত্র তৈরি করে চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র। আর এ চক্রের এক সদস্যকে গতকাল বুধবার আটক করা হয়েছে। হানিফ হোসেন (২২) নামের এ প্রতারককে পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডবাসীন্দারা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। এসময় তার কাছ থেকে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করা ৩ কপি ও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর জাল করা ২২০ কপি
প্রত্যয়নপত্র এবং নগদ ২ হাজার ৭০৩ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর স্ক্যানিং করে কিছুদিন যাবৎ হানিফ হোসেন চাঁদাবাজি করছে। সুমন নামের একজনের হয়ে সে কাজ করে। তার কাছ থেকে মেয়রের স্বাক্ষর স্ক্যানিং
করা ৩ কপি ও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর স্ক্যানিং করা ২২০ কপি প্রত্যয়ন পত্র এবং নগদ ২ হাজার ৭০৩ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের হামজারবাগ, শাহজাহান হাউজিং সোসাইটি, মোমেনবাগ আ/এ, বিবিরহাট খৃষ্টান সেমিট্টি রোড এলাকায় মেয়র ও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর স্ক্যানিং করে প্রত্যয়ন পত্র তৈরি করে প্রতারণা করে আসছে। এই প্রত্যয়ন পত্রে দুই জনের ছবি বসিয়ে তাদের সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়। এ ধরণের প্রতারণার বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ আসতে থাকে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর বিষয়টি অনুসন্ধান করতে থাকেন।  বুধবার দুপুরে হানিফ হোসেন প্রত্যয়ন পত্র সহ প্রতারণা করতে
গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে কাউন্সিলর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। তার শরীর তল্লাশী করা হলে মেয়রের স্বাক্ষর স্ক্যানিং করা ৩ কপি ও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর স্ক্যানিং করা ২২০ কপি প্রত্যয়ন পত্র উদ্ধার করা হয়। এসব প্রত্যায়ন পত্র দেখিয়ে প্রতারণা করা ২ হাজার ৭০৩ টাকাও জব্দ করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে প্রতারক চক্রটি সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। আজকে (বুধবার) প্রতারক চক্রের সদস্যকে হাতে নাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে স্ক্যানিং করা অনেকগুলো প্রত্যয়ন পত্রের ফটোকপি পাওয়া যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতারণার অভিযোগে আটককৃত মো. হানিফ হোসেন বলেন, সুমন নামের একজন আমাকে এসব করায়। বিনিময়ে প্রতিদিন সে আমাকে ৩০০ টাকা করে দেয়। ৯ দিন ধরে আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তুলছি। যে মেয়েটির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তাকে আমি চিনি না। আটককৃত হানিফ হোসেন নিজেকে রাউজান পৌরসভার বেবী চেয়ারম্যানের বাড়ীর মৃত রহিম মিয়ার ছেলে বলে দাবি করেছে। সে পাঁচলাইশ থানার মেয়র গলীর লোকমান মিয়ার বাড়ীতে ভাড়া বাসায় থেকে রিকশা চালায় বলে জানায়।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// পিবি/ এসএমএইচ// ২৬ নভেম্বর২০১৫

Share.

Leave A Reply