সবচেয়ে বড় সফলতা জলাবদ্ধতা দূরীকরণ : কাউন্সিলর জিয়াউল হক

0

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর সুখ-দুঃখ জানার জন্য বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম শুরু করেছে ওয়ার্ড পরিক্রমা। এর অংশ হিসেবে বিডিজার্নাল মুখোমুখি হচ্ছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের। প্রথম পর্বে বিডিজার্নালের মুখোমুখি হয়েছেন ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য নিচে তুলা ধরা হল।

বিডিজার্নাল : দায়িত্ব নেয়ার পর আপনার সবচেয়ে বড় সফলতা কোনটি ?

সুমন : দায়িত্ব নেয়ার পর দক্ষিণ হালিশহর ৩৯ নং ওয়ার্ডে আমার সবচেয়ে বড় সফলতা হল জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন। জলাবদ্ধতা এ এলাকার পুরোনো ও বড় সমস্যা ছিল। মাননীয় মেয়র মহোদয় ড্রামট্রাক, স্কেভেটার ও সর্বোচ্চ শ্রমিক দিয়ে সহযোগিতার কারণে এলাকার সবগুলো খাল, ড্রেন, নালা পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। ফলে গত বর্ষায় এলাকায় তেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। বিশেষ করে আকমন আলী রোডে অতীতে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হত এলাকাবাসী। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে জলাবদ্ধতার সমস্যা উল্লেখ করে নৌকা চালানো যেত বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় তেমন জলাবদ্ধতা হয় না। হাসপাতাল গেটের রাস্তা দিয়ে শত-শত ছাত্রছাত্রী জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়ত। এছাড়া ব্যারিস্টার ফজলুল আহমেদ কলেজ রোডেও পানি জমে থাকত। এবার সেখানেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। বলা যায় এলাকাবাসী ও সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করেছি।

বিডিজার্নাল : মেয়রের ‘ক্লিন সিটি গ্রীন সিটি’ ভিশনের কতটুকু আপনার ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হয়েছে?

সুমন : আমার ওয়ার্ডে ৬৪ জেলার লোক বাস করে এবং একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। তাই এখনই এ ওয়ার্ডকে ক্লিন ওয়ার্ড বলা যাবে না। এখনো সিটি করপোরেশনের শ্রমিক এবং এলাকাবাসীদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যাপারে ঠিকমতো বুঝিয়ে উঠতে পারিনি। তাই কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার প্রত্যেকটি ভবনের নিচে ড্রাম দেয়ার ব্যবস্থা করেছি এবং পুরো এলাকায় এ কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে আমরা ক্লিন সিটির উদ্যোগে প্রত্যেক ঘরে ঘরে ডোর টু ডোর কার্যক্রমের আওতায় ময়লা ফেলার ঝুড়ি দেব, যাতে দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডকে ক্লিন ও গ্রীণ ওয়ার্ড হিসেবে বাস্তবায়ন করতে পারি। এছাড়া মেয়র মহোদয় যা বলেন তা করেই ছাড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় আমার ওয়ার্ডের সেবকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

আর গ্রীণ সিটির বিষয়ে বললে কার্যক্রমটি আমাদের ওয়ার্ডের এয়ারপোর্ট রোড থেকেই শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদল করে জামালখান ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের এলাকায় কিছু রাস্তাঘাটের কাজ চলছে। এগুলো চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তারপর রাস্তার দু’পাশে গ্রীণ সিটির যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়িত করব।

বিডিজার্নাল : আপনার ওয়ার্ডের মাদক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কিছু বলুন?

সুমন : আগেও বলেছি, দক্ষিণ হালিশহর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে শত শত শ্রমিক বসবাস করে। তবে ঘনবসতি এলাকা হলেও কোন কোন স্থানে মাদক ব্যবসা হয় সেটি আমার জানা আছে এবং এরকম ১৭-১৭টি স্পটের কথা প্রশাসনকে জানিয়েছি। কাউন্সিলর হিসেবে যতটুকু সম্ভব প্রতিবাদ করি। তবে দেখা যায়, আমরা যাদের প্রশাসনের হাতে তুলে দিই তারা জেল থেকে বাহির হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়। তাই এক্ষেত্রে আমাদের চেয়েও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে সঠিক সময়ে সঠিক সিন্ধান্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে মাদক প্রতিরোধ করা যায়। এক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

বিডিজার্নাল : আপনার ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশন পরিচালিত কয়টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে এবং এগুলোর সেবা সম্পর্কে বলুন।

সুমন : এই ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত মাতৃসদন স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে যেটি পুরো চট্টগ্রামে পরিচিত। এখানে শত শত মা-বোনদের বাচ্চা প্রসব করানো হয়। চিকিৎসার মানও অনেক ভালো। কিন্তু দুঃখের বিষয় সাবেক মেয়র মনজুর আলম মাতৃসদন পরিচালনায় মেরি স্টোপস নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সাথে ৫ বছরের চুক্তি করে। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সেবার মান কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি চুক্তিটি বাতিল করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আবারও সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য। এছাড়া এ ওয়ার্ডের নারিকেলতলায় আরো একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে, যেটির মাধ্যমে এলাকার লোকজন স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে।

বিডিজার্নাল : আপনার ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো সম্পর্কে বলুন।

সুমন : বিগত এক বছরে দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলি গলিতে রাস্তাঘাট নির্মাণে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া আরো ৭০টি কাঁচা রাস্তা ও ড্রেন রয়েছে যেগুলো সুষ্ঠু বাজেটের মধ্যে মেয়র মহোদয় করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। চলতি বছরের বাজেটের মধ্যে অন্তত  ৩৫টি রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি।

বিডিজার্নাল : বিডিজার্নালকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সুমন : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Share.

Comments are closed.