ওয়ার্ড অফিসে এখন মানুষ হয়রানির শিকার হয় না : কাউন্সিলর মোরশেদ আলম

0

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর সুখ-দুঃখ জানার জন্য বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম শুরু করেছে ওয়ার্ড পরিক্রমা। এর অংশ হিসেবে বিডিজার্নাল মুখোমুখি হচ্ছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের। দ্বিতীয় পর্বে বিডিজার্নালের মুখোমুখি হয়েছেন ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোরশেদ আলম । সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য নিচে তুলা ধরা হল।

বিডিজার্নাল: দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কাজটিকে বড়  সফলতা বলে মনে করেন?

মোরশেদ আলম :দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে বলব যে সাধারণ জনগণকে ওয়ার্ড অফিস থেকে দ্রুত সেবা দেয়া। আমার মূল লক্ষ্য হল এলাকাবাসী যেন আমার অফিস থেকে যে কোন কাজের জন্য দ্রুত সেবা পায়। অতীতে ওয়ার্ড অফিসে নানাভাবে মানুষ হয়রানির শিকার হতো। অনেক প্রচেষ্টায় জনগনের হয়রানি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অবস্থাটাকে ভাল পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।

বিডিজার্নাল : নিম্নাঞ্চল হওয়াতে এলাকায় জলাবদ্ধতার ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় জনগণকে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মোরশেদ আলম : আসলে আমার ওয়ার্ডটি নিচু অঞ্চল হওয়াতে অল্প বৃষ্টিতেই হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে যায়।এ কারণে জনগনের চলাফেরায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমার এলাকার ওপর প্রবাহিত হয় ৪টি খাল। এগুলো হল চাক্তাই খাল, চশমা খাল, পুলাতলী খাল ও মির্জা খাল। অনেক দিন যাবৎ খালগুলো খনন না হওয়ার দরুন এলাকায় পানি প্রবাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে এলাকাবাসীকে  পরিত্রাণ দিতে খালগুলো খননের একটি পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমি নিজেই বিষয়টি মনিটরিং করছি। যার ফলে অতীতের তুলনায় এবারে জলবদ্ধতার সমস্যা অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। আগামীতে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে ইনশাআল্লাহ।

কাউন্সিলর মোরশেদ আলমের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন প্রতিবেদক

কাউন্সিলর মোরশেদ আলমের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন প্রতিবেদক

বিডিজার্নাল : মেয়রের ক্লিনসিটি ও গ্রীনসিটি ঘোষণার কতটুকু আপনার ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়েছেন?

মোরশেদ আলম : যখন ওয়ার্ডের দায়িত্ব নিই তখন এলাকার চারদিকে ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যতটুকু পরির্বতন করা সম্ভব ছিল ততটুকু করতে সক্ষম হয়েছি।তবে ভবিষ্যতে এটা নিয়ে আরও পরিকল্পনা আছে। আমার মনে হয় খুব অল্প দিনের মধ্যে সফল করতে পারব। যেমন মেয়র মহোদয় ডোর টু ডোর ময়লা কালেকশনের জন্য একটি ঘোষনা করেছেন।ইতিমধ্যে ডোর টু ডোর বিন দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ।বিন দেওয়া শেষ হলে ডোর টু ডোর বিনগুলো থেকে ময়লা কালেকশনের ব্যবস্থার কাজ শুরু হবে।এছাড়াও মাননীয় মেয়র মহোদয় কিছু দিনের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিভাগে আরো কিছু সেবক নিয়োগ দেবেন। তবে আমার ওয়ার্ডে অবস্থিত হাইওয়ে রোডের সিংহভাগ জুড়ে ফ্লাইওভার তৈরির কাজ চলছে। যার কারণে কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি ক্লিন ও গ্রীন সিটি ঘোষণার বাস্তবায়র করতে পারছিনা। এজন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

তবে ঘোষণার অংশ হিসেবে ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তার মিডলাইন্, যে কোন মহল্লায় ঢোকার পথে পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে কিছু বাগান করার চিন্তাভাবনা করছি।এ কাজগুলো খুব শীঘ্রই শুরু করার চেষ্টা করছি।

বিডিজার্নাল : ওয়ার্ডের সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে বলুন।

মোরশেদ আলম : আমার ওয়ার্ডে দুটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। একটি মির্জাপুলস্থ ওয়ার্ড অফিসের পাশেই। অন্যটি ষোলশহর ২নম্বরগেটস্থ।এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুলোতে বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল তারা সেবা নিয়ে থাকে ।এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সঠিক চিকিৎসার কিছু অনিয়ম হতো। তা রোধ করার জন্য আমি নিজেই সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য টেকশিয়ানকে সাসপেন্ড করি। আমি চাই সবাই যেন ভাল, সুনিশ্চিত সেবা পায়। কোনরকম এুটি যেন না হয় সে খেয়াল রেখে আমি নিরলস ভাবে কাজ করছি।

বিডিজার্নাল : নির্বাচনের সময় ১১ জন প্রার্থী ছিল আপনার ওয়ার্ডে, তারা কী আপনার কাজে সাহায্য করে নাকি বিরোধীতা করে বলে মনে করেন?

মোরশেদ আলম : আমি কে পরাজিত, কে জিতলো সবকিছু ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে চাই। আর কমবেশি সবাই ওয়ার্ডের উন্নয়ন মূলক কাজগুলোতে সাহায্য করে।

বিডিজার্নাল : এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো সম্পর্কে বলুন।

মোরশেদ আলম : ইতিমধ্যে প্রায় ৪০টির মতো কাঁচা রাস্তার কাজ করেছি।এখনো কিছু কাজ বাকি আছে।পাশাপাশি খাল খনন করেছি। ড্রেন থেকে মাটি উত্তোলন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ খুব গুরুত্ব সহকারে আমি মনিটরিং করছি। গত বছর শীতকালে যারা আর্থিকভাবে দূর্বল তাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছি। অনেক চেষ্টা করছি যাতে ওয়ার্ডের জনগণের সুখে-দু:খে পাশে থাকতে পারি এবং এলাকার উন্নয়ন মূলক চলমান কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারি।

বিডিজার্নাল : মাদক ও জঙ্গীবাদ থেকে এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মোরশেদ আলম : চলতি বছরের মধ্যে এলাকায় মাদক বিরোধী অনেক সমাবেশ করেছি। এছাড়াও মাদক ও জঙ্গীবাদ দূরীকরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সাথে মতবিনিময় করেছি, এলাকাবাসীকে সচেতন করেছি। এছাড়াও মাদক, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে নানা সচেতনামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি।

বিডিজার্নাল : ওয়ার্ডের দায়িত্ব ছাড়াও নিজ থেকে উন্নয়নমূলক কাজ বা অ্ন্য কোন চিন্তাভাবনা আছে কী?

মোরশেদ আলম : ওয়ার্ডের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের মানবতাবোধ বজায় রাখতে আমি কিছু করতে চাই এবং করেছিও । যারা সুবিধা বঞ্চিত শিশু তাদের জন্য সান্ধ্যকালীন স্কুল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা আছে।যেসব ছেলে-মেয়েরা পরিবার থেকে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে না আর্থিক দূর্বলতার কারণে, যারা পেপার, ময়লা-আবর্জনা থেকে জিনিসপত্র খুঁজে বিক্রি করে সংসার চালায় সেসব শিশুদের যথাযথ শিক্ষার জন্য একটি সান্ধ্যকালীন স্কুল প্রতিষ্টা করার চিন্তা করেছি এবং খুব শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি।

অনেক সময় দেখা যায় আমরা ধনী, মধ্যবিত্ত সকলেই নতুন জামাকাপড় পরে ঈদের আনন্দে মেতে উঠি। কিন্তু অসহায় ও গরীব শিশুরা আর্থিক দুরবস্থার কারণে ঈদে নতুন জামা পড়তে পারে না। এজন্য গত বছরের ঈদে আমি প্রায় ৪০০ দুস্থ শিশুকে নতুন জামা দিয়েছি। এছাড়া ভ্যালেন্টাইনস ডে তে অনেকে প্রিয়জনের সাথে ভালোবাসা দিবস পালন করে। কিন্তু পথচারী এ শিশুগুলোর মাঝে ভালোবাসা দেয়ার মত যেন কেউ নেই। তাই তাদের মনে একটু ভালোবাসা দেয়ার জন্য গত ভ্যালেন্টানস ডে তে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা লাল জামা পরিধান করে অনেকগুলো দুস্থ শিশুর সাথে সময় কাটাই। তাদের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করি। এ কাজটি আমি প্রত্যেক ভ্যালেন্টাইনস ডে তে করতে চাই। কোন লোক দেখানোর ব্যাপার থেকে নয়, শুধুমাত্র মানবিক দিক থেকে এ কাজটি আমি করে যাব।

বিজিজার্নাল : বিডিজার্নালকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মোরশেদ আলম : আপনাকেও ধন্যবাদ   

Share.

Comments are closed.