বিজয় দিবসে তারুণ্যের ভাবনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল নতুন একটি দেশ। বাংলাদেশ। পাকিস্তানি শাসকদের সকল বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধেও জয়গান ছিল তারুণ্যের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের তরুণরা ঝাপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে। আজ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে কি ভাবছে তরুণরা ? তাদের কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা কি? ভবিষ্যত বাংলাদেশেকে তারা কিভাবে দেখতে চায়? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম কথা বলে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সাথে। তারা তুলে ধরেন স্বাধীনতা নিয়ে তাদের অনুভূতি, দেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার কথা।

 

নাসরিন আক্তার, আইন বিভাগ

৪র্থ বর্ষ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় :

৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এ স্বাধীনতা। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। আর আমরা প্রতিবছর বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস পালন করলেও এটা আমাদের মানতেই হবে এখনো দেশের নারীরা সে অর্থে স্বনির্ভর বা স্বাধীন নয়। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনো নারীরা অনেক বঞ্চনার শিকার। কিন্তু নারীদের মাঝে এভাবে বিভেদের দেয়াল তুলে দিয়ে কোন জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পেতে হলে নারীদের আরো স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সামাজিকভাবে, পারিবারিকভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে মেয়েদের সহযোগিতা করতে হবে। তবেই এগিয়ে যাবে সোনার বাংলাদেশ।dsc01545

ঊষা আচার্য, আইন বিভাগ

এলএলএম, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় :  

 

পাকিস্তানিদের সাথে নয়মাস যুদ্ধের পর আমরা পাই স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন করলেও আমি মনে করি ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবিদের হত্যার অপূরণীয় ক্ষতি আমরা এখনো পূরণ করতে পারিনি। কারণ, যেসব বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করা হয়েছে তারা ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা বেঁচে থাকলে দেশ এখন আরো এগিয়ে যেত। তাদের অভাবটা হয়ত আমাদের সবসময়ই বয়ে বেড়াতে হবে। এছাড়া আমাদের দেশের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এখন একটি প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে যে তারা বিদেশ থেকে কোন স্কলারশীপ পেলে বিদেশে চলে যাচ্ছে এবং সেখানেই হিতু হচ্ছে। কিন্তু এভাবে মেধাবী তরুণরা যদি বিদেশে চলে যায় তাহলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। সোনার বাংলা গড়ার আমাদের সে স্বপ্ন সেটা পূরণ হতে দেরি হবে। তাই তরুণদের আরো দেশপ্রেমিক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

dsc01553

টিনা বড়ুয়া, মনোবিজ্ঞান,

মাস্টার্স, চট্টগ্রাম কলেজ :  

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীনতা উপভোগ করছি। না হলে সারাজীবনই পাকিস্তানি শাসকদের বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখনো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা আসেনি। আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। কিন্তু মেয়ে বলে আমার পরিবার থেকে এ বিষয়ে তেমন সাপোর্ট নেই। কিন্তু আমি এ অঙ্গনে কাজ করতে চাই। তাই নারী স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি।dsc01565

আরডি//এসএমএইচ// ১৬ ডিসেম্বর/ ২০১৬

Share.

Comments are closed.