অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই : রাকা বিশ্বাস

0

বিডিজার্নাল প্রতিবেদক :

রাকা বিশ্বাস। বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন, নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করে ইতিমধ্যে মিডিয়ার আলোয় নিজেকে ভালোভাবেই মেলে ধরেছেন লাস্যময়ী এ অভিনেত্রী। ইতিমধ্যে ‘জয়িতা’ এবং ‘পাতাল পুরীর রাজকন্যা’ এ দুটো সিরিয়াল ছাড়াও টেলিফিল্ম ‘অতঃপর তিন গোয়েন্দা‘ ও ‘কহকন্যা কবুল’ এ অভিনয় করে দর্শক নন্দিত হয়েছেন আকর্ষণীয় স্লিম ফিগারের অধিকারী রাকা। এখন কাজ করছেন চলচ্চিত্রে। তার প্রথম সিনেমা ‘মরণনেশা’র শ্যুটিং চলছে। আগামী বছরের এপ্রিলের দিকে যেটির মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। রাকার অভিনয় জগতে পদার্পণ, ভবিষ্যত ভাবনা, ব্যক্তিগত জীবন ইত্যাদি নিয়ে সম্প্রতি তার ঢাকার শ্যামলীর বাসায় বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকমের মুখোমুখি হন তিনি। রাকার সাক্ষাতকার নিয়েছেন বিডিজার্নালের বার্তা প্রধান শেখ মেহেদী হাসান ও প্রধান প্রতিবেদক রুবেল দাশ

বিডিজার্নাল : অভিনয়ের জগতে কিভাবে এলেন?

রাকা : আসলে কোন পরিকল্পনা করে অভিনয়ে আসা হয়নি। মা-বাবার ইচ্ছে ছিল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হব। কিন্তু সরকারি মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় আর ডাক্তার হওয়া হয়নি।২০১২ সালের শেষের দিকে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য যখন ঢাকায় এসেছিলাম তখন আমার এক কাজিনের বাসায় উঠেছিলাম। ওর সাথে বিখ্যাত শাড়ির দোকান ‘শপার্স ওয়ার্ল্ড’ এর মালিক কাজল ভাইয়ের ভালো যোগাযোগ ছিল। একদিন ওই কাজিনের সাথে কাজল ভাইয়ের দোকানে যাই। তখন কাজল ভাই বলেন, মেয়েটা তো লম্বা আছে। ওকে শাড়ি পড়ালে ভালো লাগবে। তখন তিনি আমাকে শপার্স ওয়ার্ল্ডের মডেল হওয়ার প্রস্তাব দেন। আমিও রাজি হয়ে যাই। পরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানের বিলবোর্ডে আমার ছবিগুলো দেয়া হয়। এভাবেই শুরু। এরপর বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্সসহ আরো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টিভিসি তে কাজ করি। এভাবে মডেল হিসেবে একটু নামডাক হয়। পরে বৈশাখী টিভির ‘জয়ীতা’ নাটকের জন্য অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। নাটকে জয়ীতা’র বোনের চরিত্রে আমি অভিনয় করি। এটিই টেলিভিশনে আমার প্রথম কাজ।

11903888_977298475654390_8440010423495218982_n

বিডিজার্নাল : প্রথম নাটকে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

রাকা : আসলে আমি বলে বোঝাতে পারব না। নতুন মুখ হিসেবে দর্শক আমাকে এতটা পছন্দ করবে। খুব ভালো সাড়া পেয়েছি দর্শকের কাছ থেকে। 

বিডিজার্নাল : এরপর আর কোনো নাটকে কাজ করেছেন?

রাকা : হুম। এরপরে করেছি পাতালপুরীর রাজকন্যা। যেটি এখনও চলছে চ্যানেল আইতে। এটিতেও ভালো সাড়া পেয়েছি। এছাড়া আরো ৫-৬টি প্যাকেজ নাটক ও ২টি টেলিফিল্মে কাজ করেছি।

বিডিজার্নাল : আপনিতো বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন। এ ব্যাপারে কিছু বলুন।

রাকা : ২০১৪ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত মিস হ্যারিটেজ ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ৪র্থ হয়েছিলাম। ওই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৪৮টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেছিল। এছাড়াও ছোট বড় অনেক পুরস্কার পেয়েছি।

বিডিজার্নাল : এখনতো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। কেমন লাগছে?

রাকা : আসলে সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরইতো ইচ্ছা থাকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। আমি সে হিসেবে খুবই ভাগ্যবতী যে মিডিয়াতে আসার অল্প দিনের মধ্যেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। আমার প্রথম চলচ্চিত্র ‘মরণনেশা’র শ্যুটিং শুরু হয়েছে নভেম্বরের ২৮ তারিখ থেকে। ছবিটি পরিচালনা করছেন মিজানুর রহমান। আমার বিপরীতে আছেন সাদমান সামির। এছাড়াও আছেন আলেকজান্ডার বো, রুবেল প্রমুখ। রোমান্টিক-একশ্যানধর্মী চলচ্চিত্রটি আশা করি দর্শকদের ভালো লাগবে। এটি আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে মুক্তির সম্ভাবনা আছে। দর্শকদের কাছে অনুরোধ থাকবে তারা যেন হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখেন। কারণ দর্শকদের জন্যইতো সব।

বিডিজার্নাল : আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, অনেক পরিবার থেকেই মেয়েদের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে সাড়া দেয় না। তো আপনার ক্ষেত্রে কি তেমন কিছু হয়েছিল?

রাকা : না, আমার ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি। পরিবার থেকে পূর্ণ সমর্থন ছিল।

বিডিজার্নাল : আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলুন।

রাকা : আমার বাবা জহুরুল ইসলাম। মা নূর বেগম। আমরা দুই বোন, এক ভাই। আমি সবার বড়। আমাদের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ। ছোটবেলা গ্রামেই কেটেছে। স্কুল জীবন কেটেছে শৈলকূপায়। কলেজ ঝিনাইদহে। এখন ঢাকায় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ৩য় বর্ষে পড়ছি।

বিডিজার্নাল : দর্শকদের জন্য কিছু বলবেন?

রাকা : দর্শকদের জন্য এটুকুই বলব, আপনারা হলে আসুন। বাংলা চলচ্চিত্র দেখুন। আপনারা সিনেমা দেখলেই আমাদের সার্থকতা। আর আমি এমন চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই, যেখানে ভিন্নতা আছে। গতানুগতিক কাহিনীর চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই না। ভালো অভিনয় করেই চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিতে চাই। এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী, আমি পারবো। কারণ আমার মূল ভাবনা টাকা নয়, নিজেকে চলচ্চিত্রে এই সময়ের নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তবে পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাবো।

 

Share.

Comments are closed.