চট্টগ্রামকে অনেক বেশি মিস করি : তিতান

0

বিডিজার্নাল প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মেয়ে তিতান। পুরো নাম তিতান চৌধুরী। বাবার চাকুরির সুবাদে শৈশব, কৈশোর কেটেছে টেকনাফে।স্কুল আর কলেজ জীবনও পার করেছেন সেখানে।বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুবাদে পরে চলে আসেন বন্দর নগরীতে। ছোটবেলা থেকেই মনের মধ্যে অভিনয়ের সুপ্ত বাসনা ছিল। পরিবার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় সে স্বপ্নে রং চড়ে আরো। সে স্বপ্নের ভেলায় চড়েই চট্টগ্রামের মেয়ে তিতান এখন ভেসে বেড়াচ্ছেন ঢালিউডের রঙিন দুনিয়ায়। কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নগর মাস্তান’।দর্শকদের ভালো সাড়া পাওয়ায় চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে চান। কিন্তু শর্ত হল, ভালো চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের সুযোগ থাকতে হবে। অভিনয়, ব্যক্তিজীবনসহ অনেক বিষয় নিয়েই ঢাকার নিজস্ব ফ্ল্যাটে তিতান মুখোমুখি হয়েছিলেন বিডি জার্নাল৩৬৫ ডট কম এর। একান্ত সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন পোর্টালের প্রতিবেদক রুবেল দাশ  শেখ মেহেদী হাসান ।পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হল।

18280650_1521219644557335_477999964_n

বিডি জার্নাল : কেমন আছেন ?

তিতান : ভালো। আপনি কেমন আছেন?

বিডি জার্নাল : ভালো। আপনার প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘নগর মাস্তান’ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

তিতান : হুম, খুবই ভালো। এতটা অবশ্য আশা করিনি। প্রথম হিসেবে কাজটা খুবই ভালো হয়েছে। আর সহশিল্পীরা খুবই আন্তরিক ছিলেন। তাই বুঝতেই পারিনি কখন ছবির কাজ শেষ হয়েছে। সবার সহযোগিতা পাওয়াতে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল কাজটা।সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছি।দর্শকদের ইতিবাচক সাড়াই দেখলাম।  

বিডি জার্নাল : তাহলে কি এখন থেকে চলচ্চিত্রেই তিতানকে বেশি দেখা যাবে?

তিতান : এটা নির্ভর করছে চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্যের উপর। ভালো কাহিনী ও চিত্রনাট্য হলে অবশ্যই করব। গৎবাধা কোন চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই না। যেহেতু বড় পর্দায় আমার ক্যারিয়ার মাত্র শুরু হয়েছে তাই একটু ভেবে চিন্তে পা ফেলতে চাচ্ছি।

বিডি জার্নাল : আপনি তো অনেকগুলো ধারাবাহিক ও প্যাকেজ নাটকে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের শুরুটা আসলে কিভাবে, একটু বলবেন?

1487311198_titaan_chowdhury

তিতান : ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের অনেক শখ ছিল। পরিবার থেকেও ইতিবাচক সাড়া ছিল।তিন বছর আগে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য থিয়েটার গ্রুপ ‘নাট্যাধার’ এ যোগ দিই। তখন থেকেই মূলত অভিনয়ের নেশা ভালোভাবে পেয়ে বসে। তবে আমার কোন কিছুই আসলে পরিকল্পনা করে হয় না। সব কিছুই হঠাৎ করে হয়ে গেছে।নাট্যাধারে থাকাকালীন অনেকেই আমার কাজের প্রশংসা করেন।ঢাকার একজন পরিচিত সাংবাদিক আমার কাজ দেখে প্রশংসা করেন এবং একজন নাট্য পরিচালককে আমার কথা বলেন। পরে পরিচালক আমার সাথে যোগাযোগ করেন।আমার অভিনয় তার ভালো লেগে যায়। এভাবেই নাটকের জগতে চলে আসা। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।   

বিডি জার্নাল : বর্তমানে কয়টি ডেইলি সোপে কাজ করছেন?

তিতান :  এখন মোট তিনটি ডেইলি সোপে কাজ করছি। এর মধ্যে ডিসেম্বর থেকে আরো একটির কাজ শুরু হবে। এছাড়া গত ঈদে সজলের বিপরীতে ‘এক্স বয়ফ্রেন্ড’ টেলিফিল্মে কাজ করেছি।এ টেলিফিল্মটিতেও দর্শকদের ভালো সাড়া পেয়েছি।তবে চলচ্চিত্রের জন্য অনেকগুলো নাটকের অফার ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। কারণ চলচ্চিত্রে অনেক বেশি সময় দিতে হয়।

বিডি জার্নাল : তাহলে এখন কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন, নাটক না সিনেমা?

তিতান : অবশ্যই নাটক। আর ভালো চলচ্চিত্র পেলে অবশ্যই করব। 

বিডি জার্নাল : চট্টগ্রাম থেকে এসে মিডিয়া জগতে খুব অল্প সময়েই আপনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এর পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন?

তিতান : প্রথমে অবশ্যই আমার মা-বাবা, ভাই-বোন অর্থাৎ পরিবারের। এরপর বন্ধু-বান্ধবরা। কারণ অভিনয়ের জন্য অনেক ক্লাস মিস করতে হয়েছে আমার। তারা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে এ ব্যাপারে।তবে অভিনয়ের ব্যাপারে এখনো অনেক আত্মীয়-স্বজন বাঁকা কথা বলে। কিন্তু পরিবার থেকে সহযোগিতা পাওয়ায় সেসব নিয়ে মাথা ঘামাই না।    

বিডি জার্নাল : চট্টগ্রাম থেকে অনেক তরুণ-তরুণী ঢাকায় এসে অভিনয় করতে চায়। তারা কীভাবে আসতে পারে বলে মনে করেন আপনি ?

তিতান :  প্রথমত, নিজের কাজ নিয়ে লেগে থাকতে হবে, কাজকে ভালোবাসতে হবে। কাজ ভালো হলে অবশ্যই ডাক আসবে।

বিডি জার্নাল : যেহেতু আমাদের সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক, তাই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে শক্ত অবস্থান করা একটু কঠিনই।এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মেধাবী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য কি কিছু করতে চান?

তিতান :  অবশ্যই। তবে এক্ষেত্রে আমাকে আগে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আমিতো মাত্র নতুন আসলাম এ জগতে। আমি এখনো শিখছি। তবে সেরকম সুযোগ পেলে চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় পৃথক দু’টি ইনস্টিটিউট করার ইচ্ছা আছে। যেখানে তরুণ অভিনেতারা স্বল্প খরচে অভিনয় শিখতে পারবেন।

IMG_9163

বিডি জার্নাল : ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলুন।

তিতান : মা-বাবা আর দুই ভাই-বোন নিয়েই আমাদের ছোট পরিবার। বাবা পেশায় ডাক্তার, মা শিক্ষকতা করেন। কাজের সুবাদে এখন ঢাকাতেই থাকছি। তবে চট্টগ্রামকে খুব বেশি মিস করি। চট্টগ্রাম গেলেই বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমুদ্র সৈকত, নেভাল, ফয়’স লেকে চলে যাই। চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকা অনেকটাই যান্ত্রিক। চট্টগ্রামে অনেক শান্তি।  

বিডি জার্নাল : বিয়ের ব্যাপার নিয়ে কিছু ভাবছেন?

তিতান :  সবে তো মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করলাম। আর আমার পড়াশোনাও এখনও শেষ হয়নি। ফাইনাল সেমিস্টার চলছে। আপাতত এসব নিয়ে কিছু ভাবছি না। এ ব্যাপারটি পরিবারের উপরই ছেড়ে দিয়েছি। তাদের পছন্দেই বিয়ে করার ইচ্ছে আছে।

বিডি জার্নাল : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

তিতান : আপনাকেও ধন্যবাদ। দর্শকদের বলতে চাই, আপনারা ভালো কাজগুলো দেখুন। কাজ দেখে সমালোচনা করুন। না দেখে সমালোচনা করা ঠিক নয়।কারণ আপনাদের জন্যই আমাদের সবকিছু। আর আমার জন্য অবশ্যই সবাই দোয়া করবেন যেন সবসময় আপনাদের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে পারি

সাব্বির// এসএমএইচ // ২০ জুলাই ২০১৭

Share.

Comments are closed.