যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টার্কি চাষ হচ্ছে এখন সীতাকুণ্ডে:পরিচালনা করছে বিপ্লব

0

সাব্বির আহমেদ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

‘থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’তে টার্কি ভোজনরসিকদের জন্য সুখবর! চর্বি কম থাকায় গরু কিংবা খাসির মাংসের বিকল্প হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এই টার্কি চাষ হচ্ছে এখন সীতাকুণ্ডে। উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ গ্রামে নিজ বাড়িতেই এই টার্কি চাষে আলো ছড়াচ্ছেন শিপ ইয়ার্ড হুইস মেশিন চালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিপ্লব।

টারকি পালনে বিপ্লবের স্বফলতা দেখে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারকারী পোল্ট্রি খামারিরা টার্কি চাষে দ্রুত ঝুকে পড়ছেন। গরু কিংবা খাসির মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে প্রতিদিনই অর্ডার পাচেছন অর্ডার নিচ্ছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

বুধবার (৯ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে কথা হচ্ছিল মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিপ্লবের সাথে। যিনি এই সীতাকুণ্ডে টার্কি পালনে প্রথম তরুণ উদ্যোক্তা। পোলিট্র মুরগীর মত দ্রুত মাংস উৎপাদনে সক্ষম হওয়াতে দুরদূরান্ত থেকে বিপ্লবের কাছে আসছেন টার্কি মুরগীর খামার কিভাবে করা যায় তার তালিম নেওয়ার জন্য। বিপ্লব এখন পুরোদস্তুর টার্কি পালনে প্রশিক্ষকের ভূমিকাও পালন করে যাচেছন।

20246010_161644511048441_8102839446533655442_n

টার্কি মুরগী সম্পর্কে বিপ্লব বলেন:

বাংলাদেশে টার্কি মুরগী পালন ব্রয়লার মুরগির বিকল্প হতে পারে এবং বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি মুরগী পালন দিনে দিনে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে । টার্কি বাণিজ্যিক মাংস উত্পাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত । তারা দেখতে খুব সুন্দর হয় এবং আপনার বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । টার্কি মাংস উৎপাদনশীল । কিন্তু বাণিজ্যিক ভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয় । তারা দ্রুত বড় হয়ে যায় এবং ব্রয়লার মুরগির মত খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে । আবহাওয়া ও বাংলাদেশের অন্যান্য পরিস্থিতিতে টার্কি মুরগী পালনের জন্য খুবই উপযুক্ত । এগুলো পালন মুরগি্র মত খুব সহজ (কিন্তু সঠিক যত্ন ও খামার পরিচালনার জন্য আপনাকে কিছু প্রশিক্ষণ নেয়া উচিৎ ) । বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন / ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে । এখানে আমি বাংলাদেশে টার্কি মুরগী পালন / ব্যবসা শুরু করার পদক্ষেপ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বর্ণনা করছি ।

20476047_165781947301364_3465181328542673720_n

প্রজাতির নির্বাচন:

টার্কি বাণিজ্যিক ভাবে মাংস উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত. ভারতে চাষকৃত টার্কির বিভিন্ন প্রজাতির নীচে তালিকা দেয়া হলো ।

ব্রোঞ্জ, বোরবন লাল, কালো এবং স্লেট, ছোট সাদা ও হোয়াইট হল্যান্ড ।

তালিকাভুক্ত প্রজাতির মধ্যে “হোয়াইট হল্যাড” ও “কালো এবং স্লেট” প্রজাতির টার্কি বাংলাদেশ ও এশিয়ার কিছু অন্যান্য গরম দেশের জন্য খুবই উপযুক্ত.এবং এটা আমাদের দেশে এখন পাওয়া যাচ্ছে ।

বিপ্লবের-খামারে-শোভা-পাচ্ছে-খাওয়ার-উপযোগী-টার্কি-মুরগী।--1024x615

ঘর ব্যাবস্থাপনা : 

সঠিক বৃদ্ধি এবং খামার পরিচালনার জন্য ভাল ঘর আবশ্যক । টার্কির ঘরের নকশা মুরগির ঘরের সঙ্গে সাদৃশ্য আছে । টার্কি বড় আকারের পাখি হিসাবে খাঁচায় পালন তাদের জন্য উপযুক্ত নয় । তাই সর্বাধিক কৃষক ডিপ লিটার পদ্ধতিতে টার্কি পালন করে ।
উন্মুক্ত পরিবেষে টার্কি পালন : — আপনি ঘেরা জমিতে এক একরে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টার্কি রাখতে পারেন. এই পদ্ধতিতে আপনি রাত্রিতে ভরণপোষণের জন্য পাখি প্রতি ৩-৪ বর্গ ফুট স্থান নিশ্চিত করবেন ।.
ডিপ লিটার পালন পদ্ধতি: — আপনি মুরগির মত একই ভাবে তাদের বাড়াতে পারেন । টার্কি জন্য ঘর তৈরির সময় পর্যাপ্ত জায়গার ( ৬ বর্গ ফুট পাখী প্রতি ) প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে । সবসময় ঝরঝরে ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । সঠিক বায়ুচলাচল এর ব্যাবস্থা নিশ্চিত করুন. আর শিকারী ও ক্ষতিকর সব ধরনের প্রানি থেকে তাদের রক্ষা করার ব্যাবস্থা করুন ।

খাবার:

স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো সঠিক বৃদ্ধির নিশ্চিয়তা সুতরাং সুষম ও পুষ্টিকর খাবার এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সাধারণত টার্কির শরীরের ওজন ১ কেজি হতে প্রায় ৩.১৫ কেজি খাবার প্রয়োজন. সহজেই বাজারে পাওয়া যায় এমন হাঁস / মুরগির ফিড টার্কিকে দিতে পারেন.খরচ কমাতে নিজে তৈরি করেও নিতে পারেন । কিন্তু সে ক্ষেত্রে সকল খাবার প্রয়োজন মত নিশ্চিত করতে হবে । তবে নরম কচি ঘাস ৫০ – ৬০ ভাগ পর্যন্ত ব্যবাহার করলে খরচের পরিমাণ আরো কমে আসবে, সবসময় তাদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের তাজা এবং পরিষ্কার পানি যথেষ্ট পরিমাণ পরিবেশন করার চেষ্টা করুন ।

সঠিক যত্ন ও ব্যাবস্থাপনা:

সঠিক যত্ন এবং ব্যবস্থাপনা ভালো উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারে. টার্কি অন্যান্য দেশীয় মুরগির মত. আর তারা বিভিন্ন ধরনের রোগ এবং প্যারাসাইট দ্বারা ভোগে. টার্কির সবচেয়ে বেশী সাধারণ প্যারাসাইট গোল কৃমি এবং ফাউল মাইট হয় ।নিয়মিত কৃমিনাশক ব্যাবহার করতে হবে. টার্কি ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক বা ভাইরাল রোগের দ্বারা প্রভাবিত. টার্কিকে ক্ষতিকর রোগ মুক্ত ও সুস্থ্য রাখতে ( ফাউল কলেরা, নীল ঝুঁটি রোগ, নিউ ক্যাসল রোগ,টাইফয়েড-সদৃশ জ্বর ) নিয়মিত টিকা দিন ।

টার্কির জন্য বয়স অনুযায়ী ভ্যাকসিন:

একদিনের বাচ্চা — নিউ কাসল রোগ এর বি১ স্টেরেইন ( New Castle Disease- B1 Strain )
৪র্থ ও ৫ ম সপ্তাহ— ফাউল পক্স ( Fowl Pox )
৬ ষ্ঠ সপ্তাহে —নিউ কাসল রোগ (New Castle Disease–R2B)
৮ – ১০ সপ্তাহ —কলেরা ভ্যাকসিন ( Cholera Vaccine )

বিপ্লব টার্কি পাখি পরিচিতি সম্পর্কে বলেন:

আমাদের দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে পশুপাখি পালন অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। আবার কিছু প্রাণী আছে যারা দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। আর টার্কি পাখি সে রকম একটি সহনশীল জাত, যে কোনো পরিবেশ দ্রুত এরা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এরা বেশ নিরীহ ধরনের পাখি, মুক্ত অথবা খাঁচা উভয় পদ্বতিতে পালন করা যায়। ৬-৭ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে এবং বছরে 90 থেকে ১১০টি করে গডে ডিম দেয়। একটি মেয়ে টার্কির ৫-৬ কেজি এবং পুরুষ টার্কি ৮-১০ কেজি ওজন হয়। এদের মাংস উৎকৃষ্ট স্বাদের। ঘাস, পোকামাকড়, সাধারণ খাবার খেতে এরা অভ্যস্ত, তবে উন্নত খাবার দিলে ডিম ও মাংসের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়।৩- ৪-৫ মাস বয়সের টার্কি ক্রয় করা ভালো, এতে ঝুঁকি কম থাকে এবং লিঙ্গ নির্ধারণ সহজ হয়, এরকম বয়সের এক জোড়া টার্কিও দাম হবে প্রায় ৪৫০০-৫০০০ -৬০০টাকা। প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে শুরু না করে ৮-১০ জোড়া দিয়ে শুরু করা ভালো, কারণ তাতে সুবিধা অসুবিধাগুলো নির্ণয় করা সহজ হয়।
রোগবালাই : টার্কি পাখির তেমন বড় কোনো রোগবালাই নেই। চিকেন পক্সের টিকা নিয়মিত দিলে এ রোগ এড়ানো সম্ভব। অতি বৃষ্টি বা বেশি শীতের সময় মাঝে মাঝে ঠা-াজনিত রোগ দেখা যায়, রেনামাইসিন জাতীয় ওষুধ দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে নিয়োমিত টিকা দিলে এসব রোগ থেকে সহজেই টার্কিকে রক্ষা করা যায়।

টার্কি-পালনে-যোগাযোগরে-জন্য-বিপ্লবের-বাড়ির-সামনে-ছোট-বিলবোর্ড-টাঙিয়ে-দেওয়া-হয়েছে।--1024x768

বিপ্লব টার্কির বাজার সম্ভবনা উল্লেখ করে বলেন:

টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে । যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু / খাসীর মাংস খায়না , টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ –ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার । এবং গরু / খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।

ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিপ্লব বলেন, টার্কি পালন অল্প পোজিতে অধিক লাবের হাতচানি:

দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা

আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’

টার্কি-বাচ্চা-পালনের-জন্য-পৃথকভাব-তৈরি-ঘর।--768x500

টার্কির দরদাম

দামের ব্যাপারে ‘আমরা যখন গত দুই বছর আগে কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম ২৫০০ হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত চার হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ৭ হাজার টাকা।’

টার্কির খাবার

খাদ্যের ব্যাপারে খামারের ‘যেসব টার্কির বয়স ৬০ দিনের উপরে, তাদেরকে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন শাক সবজি খাওয়ানো শুরু করি। এই খাদ্যের তালিকায় থাকে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক আমাদের তালিকায় থাকে। এই শাক সবজি খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও আমরা মান রক্ষা করি। একটি নির্দিষ্ট কোয়ালিটি ছাড়া আমরা আমরা টার্কিকে কিছুই খাওয়াই না। ফলে খাদ্যে কোয়ালিটি থাকায় আমাদের খামারের টার্কিগুলোতে রোগ আঘাত আনতে পারে না। টার্কির যাতে রোগ বালাই আঘাত না করতে পারে সেই জন্য আমরা আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি।’

‘আমাদের খামারে ঢুকতে হলে প্রত্যেকের ডেটল স্যাভলন দিয়ে রোগ জীবাণু মুক্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। পরতে হবে খামারের রোগ জীবাণুমুক্ত নিজস্ব জুতা। তবে টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য মুরগির চাইতে অনেক বেশি। দেখা যায়, বার্ড ফ্লু আঘাত হানলেই মুরগি সব মারা যায়। কিন্তু টার্কির কিছু হয় না। আমাদের দেশে অন্যান্য মহামারি রোগ যেমন রাণিক্ষেত হলে দেশের সব হাস মুরগি মারা যায়। কিন্তু টার্কির প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেশি যে এদের জ্বর-ঠান্ডা ছাড়া আর কোনো রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।’

unnamed-file-2-1024x768

টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি:

অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’

বাসায় পালনের ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।

বেকারত্ব ঘোচাতে টার্কি পালন:

এই ব্যবসায় আসার পেছনে মুলত আমার শখ সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। আর যখন শুনতে পারলাম টার্কি পালনে অন্যান্য হাস মুরগি পালনের মতো কোনো ঝামেলা নেই তখন এই ব্যবসায় করার প্রতি আমার আগ্রহ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আর এই ব্যবসায় অনেক মুনাফা পাওয়া যায়। পূর্ণবয়সী একটা টার্কি আমাদের খামার থেকে বিক্রি হয় গড়ে সাত হাজার টাকায়। যা আমাদের কেনা পড়েছিল মাত্র ২৫০০শ টাকা জোড়ায়। আর এগুলো খুব বাড়ন্ত স্বভাবের।

আমি বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলছি, ‘আমি দুই একটি কথা বলতে চাই। আপনারা অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এই টার্কি ব্যবসা গড়ে তুলুন। কারণ এইগুলোর রোগ, খাদ্য, বাসস্থানের জন্য বেশি অর্থ খাটানোর প্রয়োজন পড়ে না। অল্প কিছু জায়গায় টার্কি খামার দিলে আপনি বছর শেষে কয়েকগুণ বেশি লাভ করতে পারবেন।’

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, টার্কির চাষ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে। এ এলাকায় অনেক বেকারের কর্মসংস্থান সৃৃষ্টি হয়েছে। এর অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুব চাকচিক্যভাবে তার টার্কি উৎপাদন ও সরবরাহের প্রচারণা করতে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তার টার্কি দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। ফেসবুব, বিকাশ ও মোবাইলেই-(০১৮১৯-৩৬৩৬৩৯) আপতত চলে তার টার্কি ব্যবসা।

বিপ্লব বলেন, যারা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে ও বাচ্ছা ক্রয় বিক্রয় করতে
যোগাযোগ  করতে বলেন নিচে উল্লেখযোগ্য ঠিকানাতে:

বিপ্লব এগ্রো ফার্ম এন্ড সেইল সেন্টার
ঠিকানা:লালবেগ, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম,
ওয়ান ব্যাংকের পুর্ব পাসে।
যোগাযোগ: 01830061660 ‌/ 01819363639

সাব্বির//এসএমএইচ // আগস্ট ২০১৭

Share.

Comments are closed.