আমি একটি বিরতি পেতেই পারি : সাকিব

0

স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্রাম চেয়েছিলেন ৬ মাস। পেয়েছেন প্রায় ১ মাস। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাকে বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি। তবে তা নিয়েও চলছে হৈচৈ। চতুর্দিকে বইছে সমালোচনার ঝড়। নানা মনে নানা প্রশ্ন। সেসব প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন সাকিব আল হাসান।
এমনিতেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে কম আসেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে সম্প্রতি নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্রাম নিয়ে খুলে দেন কথার ঝাঁপি।
তিনি বলেন, ১/২ বছর নয়; টানা ১০-১১ বছর খেলে আসছি। আমি একটি বিরতি পেতেই পারি।
হুট করেই বিশ্রাম নিচ্ছেন সাকিব তা নয়। পরিবার-পরিজন, কাছের মানুষদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে রেখেছিলেন। সার্বিক বিবেচনায় বিরতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা সম্পর্কে গেলো মাসে আমি আমার পরিবারকে জানাই। তাতে তারা সম্মতি দেন। পরে বিসিবি জানাই। বিজ্ঞ বিবেচনায় আমাকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ২ টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বোর্ড।
বাংলাদেশের হয়ে ২০০৮ সালের প্রথমদিকে টেস্ট খেলা শুরু করেন সাকিব। সেই হিসাবে প্রায় ১০ বছর পর টেস্ট খেলা থেকে বিরত থাকছেন। অবশ্য তার জন্য দরজা খোলাও রেখেছে বিসিবি। চাইলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন এ বিচক্ষণ ক্রিকেটার।
তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, আপাতত খেলা নিয়ে ভাবছি না। কিছুদিন আমার বিশ্রাম নেয়া দরকার। আমি আশা করি, ক্যারিয়ারে এটি আমাকে সাহায্য করবে। আমি আমার ক্যারিয়ারকে আরো দীর্ঘায়িত করতে পারবো। এজন্য মানসিক শক্তি বাড়ানো দরকার। সুতরাং বিরতিটা আমার দরকার। আমি মনে করি, এটি আমার প্রাপ্য।
টেস্টে একজন ব্যাটসম্যানকে পারফরম করতে হয় ২ ইনিংসে। বোলারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। তবে সাকিবকে ৪ ইনিংসেই অবদান রাখতে হয়। ব্যাট-বল হাতে সমানতালে পারফরম করতে হয়। টানা খেললে তাতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতেই পারে।
সাকিব বলেন, ৪ ইনিংসেই আমাকে অবদান রাখতে হয়। যদি আমি এর অর্ধেক দিই, তাহলে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো না। আমি মনে করি, তখনই আমার খেলা উচিত; যখন ৪ ইনিংসেই দলের চাহিদা মেটাতে পারবো। শুধু ম্যাচ ফি বা বেতনের জন্য খেলার কোনো মানেই হয় না। এটি আমার পেশা সত্য, তবে ভালোবাসা-আবেগ থেকেই খেলাটি শুরু করেছিলাম। খেলাটির প্রতি মায়া আছে বলেই আমি বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে পেরেছি।
সব যুক্তি ঠিক আছে। তবে সমালোচকরা তা মানছেন না। প্রশ্ন তুলেই যাচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তা নিয়ে মনে কিছুই করি না। নানাজন নানা কথা বলতেই পারে। একটি বিষয় দেখুন, বিরতি নেয়ার জন্য বিসিবিকে কিন্তু আমার প্ররোচিত করা লাগে নি। কারণ, তারা বিষয়টি বোঝেন। মাত্র ১ মাসের ছুটি। গেলো ৩/৪ বছরে তাও পাইনি।
দলের অন্য কেউ দরকার বোধ করলে তাদেরও বিরতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাকিব। তার কথা অনুযায়ী, সেই তালিকায় পড়ছেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। তারাও প্রায় টানা ১০ বছর খেলে যাচ্ছেন।
কাওছার আক্তার মুক্তা // এসএমএইচ//বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৯ ভাদ্র ১৪২৪

Share.

Comments are closed.