ঈদুল আযহায় ২১৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত, ৬৯৬ জন আহত

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :
এবারের ঈদুল আজহায় দেশের সড়ক ও মহাসড়কে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২৭২টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৭৫৯ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত চার বছর যাবত বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এবার অনেক আগেভাগে ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় ঘরমুখো যাত্রা ফেরত যাত্রার চেয়ে খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৮ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ১৩ দিনে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে নৌপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪৩ জন নিহত হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক ও ১০টি অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ পথচারিকে গাড়ি চাপা, ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১ দশমিক ৪০ শতাংশ চাকায় উড়না পেছিয়ে, ৩ দশমিক ২০ শতাংশ গাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ও ১১ দশমিক ২০ শতাংশ অনান্য কারণে ঘটেছে। যানবাহনের ৩৭ ভাগ বাস, ৩৫ ভাগ ট্রাক ও পিকআপ, ২৩ ভাগ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেল, ৫ ভাগ অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভাঙা ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তাঘাট। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো। বিপদজনক ওভারটেকিং। যানজটে আটকে থাকা বাণিজ্যিক টিপধারী পরিবহনগুলোকে অতিরিক্তি মুনাফার আশায় দ্রুত ফেরত আসার জন্য মালিকপক্ষের বারবার তাগাদা। ধীরগতির পশুবাহী ট্রাক, নছিমন-করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, অটোরিক্সা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশার সঙ্গে বাণিজ্যিক টিপধারী দ্রুতগতির বাস ও মাইক্রোবাস একইসাথে চলাচল। টিনএজদের দ্রুত গতির মোটরসাইকেল। ফুটপাত দখলে থাকায় অথবা ফুটপাত না থাকায় রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশগু তুলে ধরা হয়।
কাওছার আক্তার মুক্তা // এসএমএইচ//বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৯ ভাদ্র ১৪২৪

Share.

Comments are closed.