দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে:আছাদুজ্জামান মিয়া

0

বিডিজার্নাল প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এসময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব উৎসব উদযাপন করা, ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করা। নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার দায়িত্ব আপনাদের না, নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। পূজায় নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকবে।

শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দুর্গোৎসব-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় ঘোষণা, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, দুর্গোৎসব কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়। এটা সার্বজনীন, প্রত্যেক নাগরিকের উৎসব। সুতরাং দুর্গাপূজাকে দেশব্যাপী উৎসবমুখর, নিরাপদ ও নিষ্কণ্টক করার স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে যেখানে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে, সব স্থানে আমরা নিরাপত্তা বিধান করেছি।

মহালয়া থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পূজা উদযাপন পরিষদও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সুশৃঙ্খলভাকে উৎসব সমাপ্ত করতে সহায়ক হবে।

পূজা মণ্ডপের ভেতরে-বাইরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি প্রধান বলেন, যদিও পূজার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারপরেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কারণ অন্ধকারেই ইভটিজিং হয়, অন্ধকারেই বিভিন্ন অপরাধ হয়।

কমিশনার বলেন, ইভটিজিং প্রতিরোধে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বহির্গমন পথের ব্যবস্থা রাখবেন। যাদের সামর্থ্য আছে এবং যেসব বড় বড় স্থায়ী মণ্ডপ আছে, যেখানে প্রচুর জনসমাগম হয় সেখানে সিসিটিভির ব্যবস্থা রাখবেন।

নিজস্ব স্বেচ্চাসেবক নিয়োজিত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা ছদ্মবেশে আপনার পূজামণ্ডপে আসতে পারে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখবেন। কাউকে সন্দেহ হলেই চ্যালেঞ্জ করে তল্লাশি করবেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন। এছাড়া মণ্ডপ এলাকায় কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ, ছুরি-কাঁচি, ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। বড় বড় মন্দিরগুলোতে আমরা আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করবো। যাদের এ ব্যবস্থা থাকবে না সেসব স্থানে ম্যানুয়ালি চেক করে দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।’

কমিশনার আশ্বস্থ করে বলেন, প্রত্যেকটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে আমরা সচেষ্ট। কেউ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে, কাউকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর সাম্প্রদায়িক অ্যাক্টিভিস্ট সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা এমন কিছু দেখলে মাথা গরম না করে আমাদের অবহিত করুন। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে। যেকোনো সমস্যার সমাধানে আমরা আন্তরিক।

হলি আর্টিজানে হামলার পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক সময়ে রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মহল চক্রান্ত করছে। হাজার বছর ধরে আমরা এ দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছি। আমাদের এখানে উগ্রপন্থার স্থান নেই। তারপরেও যেকোনো ধরনের চক্রান্ত মোকাবেলায় আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপুর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মনিরুজ্জামান, সোয়াটের ডিসি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিএমপির লালবাগ বিভাগের ডিসি ইব্রাহিম খান প্রমুখ।

Share.

Comments are closed.