বেগম জিয়া দুই মাস পর রোহিঙ্গাদের জন্য মায়াকান্না করছেন :সেতুমন্ত্রী

0

বিডিজার্নাল প্রতিবেদক : 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিশাল গাড়িবহর নিয়ে ত্রাণ দিতে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর প্রভাবে কম করে হলেও সাত দিন ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের ট্রাক-কাভার্ড মালিক শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট বিষয়ে রাজধানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। সেখান থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে।

বিএনপি চেয়ারপারসন গত শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। শনিবার চট্টগ্রামে রাতযাপন করে রবিবার রাতে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছেন। সার্কিট হাউজে রাতযাপন শেষে সোমবার দুপুরে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন।

রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার পথে ফেনী ও মিরসরাইয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

খালেদার এই সফরের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া দুই মাস পর দেশে এসে রোহিঙ্গাদের জন্য মায়াকান্না করছেন। তাঁর রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মন থেকে টান থাকলে এতদিন ধরে লন্ডনে বসে থাকতেন না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (খালেদা) সাত দিন লাগিয়ে কক্সবাজার গিয়েছেন। এই সাত দিনে কম করে হলেও দশ লাখ টাকার ত্রাণ বিভিন্ন সংস্থা থেকে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে যেত। তার গাড়িবহরের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কম করে হলেও সাত দিনের জন্য ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একদিনে ২০ হাজার রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করেছিলাম। সেখানে বেগম জিয়া মাত্র দশ হাজার লোকের ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন।’

শ্রমিক-মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইনি জটিলতা নিরসন করে সহজ পদ্ধতিতে আমরা ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করবো। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেনের মেয়রের সঙ্গে আমি কথা বলে দশ হাজার টাকার কর প্রত্যাহারের ব্যাপারে কথা বলবো।’

হাইওয়েতে চাঁদাবাজির ব্যাপারে কাদের বলেন, ‘আমি আবার রবিবারের বৈঠকে চাঁদাবাজি কীভাবে বন্ধ করা যায় এই ব্যাপারে হাইওয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডিআইজির সঙ্গে কথা বলবো। এছাড়াও কাভার্ডভ্যানের জন্য আলাদা টার্মিনাল বিষয়ে আমি নৌপরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দেখবো।’

এছাড়াও মালিক শ্রমিক পরিষদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দূরপাল্লার যানবাহন মধ্য রাস্তায় বিরতির ব্যাপারে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের জায়গা নির্বাচন করার কথা ছিল সেই মার্চে। আর তোমরা এখনো জায়গা ঠিক না করে আমাদের দোষারোপ করছো।  আগে জায়গা ঠিক করে আমাকে জানাও। পরে এই ব্যাপারে আমি ব্যবস্থা নেব।’

সিটিং সার্ভিসের ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এই ব্যাপারে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে সিটিং সার্ভিস বিষয়ক নৈরাজ্য অরাজকতার সমাধানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। সেখানে কমিটির পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই সাংবাদিক। সাংবাদিকদের সুপারিশকৃত চিঠি হাতে পাওয়া সাপেক্ষে আমরা এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

Share.

Comments are closed.