ঠোঁট ফেটে গেলে যা করবেন

0

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ঠোঁট দেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল ত্বক। এর ধরনও ভিন্ন হয়। কারও ঠোঁট পাতলা, কারও আবার পুরু। সমান কিংবা অসমান ঠোঁটও আছে। কারো কারো মুখের ত্বকের রং আর ঠোঁটের রং আলাদা হয়। তবে সঠিক সাজ আর নিয়মিত যত্ন সব ধরনের ঠোঁটকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

ফেটে গেলে যা করবেন

ঠোঁট ফাটার অভিজ্ঞতা সবারই আছে। তবে ঠান্ডার দিনে এ সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। তাই ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে এখনই। রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘আমাদের সবার ঠোঁটের আকার এক নয়। পাতলা, পুরো এরকম ভিন্ন ভিন্ন আকার রয়েছে। আবার ঠোঁটের রং ত্বকের রঙের অসামঞ্জস্য হয়।

আফরোজা পারভীন ঠোঁট সুন্দর ও সুস্থ রাখতে বলেন। তিনি বলেন, ‘সুস্থ-সুন্দর ঠোঁটের জন্য পানির কোনো বিকল্প নেই। পানি হলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। ঠোঁট শুকিয়ে এলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেবেন। অনেকেই বারবার জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজান। ফলে ঠোঁট আরো শুষ্ক হয়ে পড়ে। যেহেতু ঠান্ডা ও আর্দ্রতাহীন আবহাওয়ায় অধিকাংশ ঠোঁট রুক্ষ হয়ে ফেটে যায়, সে ক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর আগে বেশি করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখা ভালো। সকালে তুলা দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলুন। মৃত কোষ চলে যাবে। প্রতি রাতে এভাবে যতœ নেবেন। ছোট লিপবাম ও চ্যাপস্টিক হাতের কাছে রাখা ভালো।

ঠোঁট ফাটলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস কম নিতে হবে। তাহলে ঠোঁট ফাটা কমে যাবে। ঠোঁট ফাটলে অনেক সময় ত্বকের মরা অংশ জমে ঠোঁটের ওপর। এটা আটকাতে রাতে ঘুমানোর সময় বাদাম তেল লাগাতে হবে ঠোঁটে। মরা অংশ কখনোই টেনে তোলা যাবে না। খুব বেশিক্ষণ ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। সব সময় ভালো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন।

কালচে ঠোঁটের যতœআত্তি

ছেলেদের ঠোঁটের যত্ন প্রসঙ্গে আফরোজা পারভীন বলেন, ছেলেদের ঠোঁটের রং বেশির ভাগেরই কালো রঙের হয়। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের। তাই ধূমপায়ীদের ঠোঁটে কালো দাগের ছোপ পড়ে। কালো রং দূর করতে অবশ্যই ধূমপান বাদ দিতে হবে। এটি সৌন্দর্য ও সুস্থতাহানি ছাড়া অন্য কিছুই নয়। আবার ঠোঁটের অসমান ও কালো দাগ নিয়ে বিব্রত থাকেন অনেকে। সেক্ষেত্রে রোজ রাতে ‍ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো করে ম্যাসাজ করতে হবে কিছুক্ষণ। তারপর ঠোঁটে গ্লিসারিন লাগিয়ে নিতে হবে। এর ফলে ঠোঁটে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকবে আর নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের রং স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে এই পদ্ধতি বেশ উপকারী।

তবে তিনি মনে করেন ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই নানা কারণে ঠোঁট কালো হতে পারে বা ঠোঁটে কালো কালো দাগ পড়তে পারে। যেমন- আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাতাসের আর্দ্রতা, শারীরিক অসুস্থতা, কেমোথেরাপি, মানসিক চাপ, নিম্নমানের কসমেটিকসের ব্যবহার, রাতে ঘুমানোর আগে লিপস্টিক না তোলা, সরাসরি সূর্যের আলো ইত্যাদি। মেয়েরা প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে এসে ঠোঁট থেকে লিপস্টিক বা লিপগ্লস তুলে ফেলতে হবে। সামান্য একটু তুলায় অলিভ অয়েল লাগিয়ে হালকা করে মুছে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ঠোঁটের এই মেক-আপ তুলে ফেলতে হবে। কারণ ঠোঁট কালো হওয়ার জন্য এটা বিশেষভাবে দায়ী। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা জরুরি। কারণ মুখের ভেতরের ত্বক ভালো রাখলে ঠোঁটও সুস্থ-সুন্দর দেখাবে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু সময় ঠোঁট ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজের জন্য কয়েক ফোঁটা লেবুর রস আমন্ড বাদাম তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই ট্রিটমেন্টে ঠোঁটের আর্দ্রতা ফিরে আসবে। নিয়মিত ব্যবহারে খুব সহজেই কালো দাগ কমে আসবে। লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে লাগালে একই উপকার পাওয়া যাবে।

ঠোঁটের প্রসাধন

ঠোঁটে প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ লিপস্টিক বেছে নিতে হবে। রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করার জন্য বাইরে বের হওয়ার আগে ঠোঁটেও সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। কারণ রোদের ক্ষতিকর রশ্মি ঠোঁটের ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে তোলে। ফলে ঠোঁটের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো মানের লিপবাম ব্যবহার করা বেশ জরুরি। এটি ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রেখে ঠোঁটকে করে তোলে সজীব ও প্রাণোচ্ছল। বাজারে সংবেদনশীল ঠোঁটের জন্য বিশেষ উপযোগী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপ স্ক্রাব কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। তবে শীত কিংবা গ্রীষ্ম কখনোই ঠোঁট খুব বেশি সময় শুষ্ক রাখা ঠিক নয়। সেজন্য ঠোঁটকে সতেজ রাখতে সবসময় গ্লিসারিন ব্যবহার করা উচিত। সাবান থেকে ঠোঁট দূরে রাখুন। ফেসওয়াস কিংবা ক্ষারবিহীন সাবান লাগানো যেতে পারে।

ঠোঁটের যত্নে খাবার

প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের ফলে ডার্ক লিপ্সয়ের সমস্যা হতে পারে। তাই শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। খাবার-দাবারের ব্যাপারেও বেশ সচেতন থাকা জরুরি। মৌসুমি যত সবজি আছে তার সবকটি পর্যায়ক্রমে খেতে হবে। তবে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফলগুলো আপনার ত্বক বা ঠোঁটের সুরক্ষায় কাজ করবে। স্নেহ জাতীয় পদার্থও খুব উপকারী।

যা করতে মানা

চা, কফিসহ অন্যান্য পানীয় আপনার ঠোঁট কালো হওয়ার জন্য দায়ী। এগুলো খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করা জরুরি। কেননা, ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হবেই। পানিশূন্যতাও ঠোঁটের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন পানি পান করতে হবে। সরাসরি সূর্যের আলো ঠোঁটের স্বাভাবিক রং নষ্ট করে। যতদূর সম্ভব সূর্যের আলো এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরে যেতে হলে ভালো মানের সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত। শুধু শীতকালই নয়, ঠোঁটকে গোলাপি রঙের করতে হলে সারা বছরই পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে। ঠোঁটের আর্দ্রতা রক্ষায় এটা প্রয়োজন। ঠোঁট কামড়ানোর অভ্যাস থাকলে এখনি বাদ দিতে হবে। নইলে ঠোঁটে দীর্ঘস্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে।

এসএমএইচ// মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

Share.

Comments are closed.