ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত

0

রায়হান মাহবুব,ইবি প্রতিনিধি:

১৭৫ একর জুড়ে বিস্তৃত নয়নাভিরাম,দৃষ্টিনন্দন, মনকাড়া ক্যাম্পাস, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়(ইবি)। প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছরে ক্যাম্পাসটি নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, অনেক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে এখন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যাম্পাসের পরিনত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ তম ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহনের পর তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপা›তর করতে যা যা করণীয় সেটার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন। তারই অংশ হিসেবে সেশনজট মুক্ত করণ, সমাবর্তনের আয়োজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
আগামী রোববার(৭ জানুয়ারী ) ৪র্থ বারের মতো স্বরণকালের ঐতিহাসিক সমাবর্তন হতে যাচ্ছে ইবিতে। এ লক্ষে পুরো ক্যাম্পাস এখন যেন সেজেছে নববধূর সাজে। সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয় সময় হচ্ছে রাতের ক্যাম্পাস। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পুরো ক্যাম্পাস মিটিমিটি রঙিন আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে। ক্যাম্পাসের মেইন গেট, প্রশাসনিক ভবন, পুরো ডাইনা চত্তর, মুক্ত বাংলা, পানির ফোয়ারা, ভিসির বাংলো, অনুষদ ভবনসমূহ, আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের মোট ৮ টি হলে সারা রাত জ্বলছে মিটিমিটি রঙিন বাতির আলোর ঝলকানি। রাতে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে নজর কেড়েছে ‘পানির ফোয়ারা’-র আলোকচ্ছটা। চতুর্দিকে প্লেটে উপর হরেক রঙের রঙিন বাতির বিকিরণ পড়ছে ফোয়ারার উপর। যা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। এছাড়া অনুষদ ভবন ও ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের প্রবেশ পথে বসানো হয়েছে ২ টি আলোক বাতির গেট। গেটে শোভা পাচ্ছে স্টার্চু অব লিবার্টি, বিগবেন, আইফেল টাওয়ার ও ঘোড়ার উপর যুদ্ধে রত সেনাপতির সুদর্শন নকশা। যা রাতে অপূর্ব রুপে ফুটিয়ে তুলছে। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে বিশাল আলোকবাতি। যা বহুদূর পর্যন্ত আলোর ঝলকানিতে ভরে তুলছে ১৭৫ একরের প্রতিটি প্রান্তর। লালন শাহ হলের সামনের পুরো এলাকা জুড়ে সোডিয়াম লাইটের ঝলকানি সত্যিই প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনকে উদ্বেলিত করছে। কথা হলো আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমার সাথে। সে মুখ ভরা হাসিতে বলে উঠলো, ‘আমার ক্যাম্পাস যে মুহূর্তের মধ্যে এতো পরিবর্তন হবে ভাবতে পারিনি। ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার সময় এতোটা দৃষ্টিনন্দন ছিল না। খুব ভালো লাগছে ক্যাম্পাসে ঘুরতে।’ নাইমার মতো এমনই বিকেল হতে রাত অবধি দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা। সমাবর্তনকে সামনে রেখে পুরো ক্যাম্পাস এখন সরব। চতুর্দিকে শুধু উৎসবের আমেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষে প্রতিটি উপ-কমিটি ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরের নেতৃত্বে সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিধায় কাঙ্খিত সমাবর্তন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতের পরিস্থিতিসহ ২৪ ঘন্টা তদারকির জন্য নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’

Share.

Comments are closed.