বাংলা ভাষার চর্চা বাড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা এসেছিল তারা দেশে যে অবস্থা কায়েম করেছিল, সেই দিনগুলোতে যেন আবার ফিরে যেতে না হয়, সে জন্য দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে মাতৃভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে শনিবার রাজধানীতে আওয়ামী লীগের আলোচনায় বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতা অর্জন, বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর দেশ গড়ার সংগ্রামে তার নেয়া নানা উদ্যোগ, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বলেন, এর পরেই বাংলাদেশ তার আদর্শ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ পরিচালিত হতে থাকে। বলেন, ‘এটাকে পাকিস্তানের প্রদেশ বানানোর একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণয়ন হয়। ওই শাসনতন্ত্রে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়। ওই সময় ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

আমরা যা কিছু পেয়েছি সংগ্রামের মধ্য থেকে পেয়েছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। সেই সংগ্রামের পথ ধরে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রতিটি অর্জনের পেছনে এদেশের জনগণের ত্যাগ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এখন বাংলাদেশের ওপর দায়িত্ব পড়েছে মাতৃভাষাকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করার, আর আমরা এর জন্যই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউশন গঠন করেছি।

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এই ভাষার চর্চা, দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করে মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার চর্চা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে কাজগুলো করেছিলাম, মাঝখানে আবার পথ হারিয়ে যায় বাংলাদেশ। এমন একটা সময় দেখেছি অনেকে নিজে মুক্তিযোদ্ধা বলতে সাহস পেতেন না। একটা সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা এ কথাটা লিখতে সাহস পেতেন না, কারণ তিনি চাকরি পাবেন না। তখন ছিল রাজাকারদের দাপট।’

২০০৯ থেকে টানা ক্ষমতায় থাকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্ততপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে আজকে মানুষ গর্ববোধ করে, কেউ ভীত সন্ত্রস্ত হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো আবার সামনে এসেছে, মানুষ বলার সুযোগ পাচ্ছে, লেখার সুযোগ পাচ্ছে। আজ আত্মবিশ্বাসটা ফিরে এসেছে। এই আত্মবিশ্বাসটা যেন হারিয়ে না যায়।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবার আমাদেরকে যেন সেই অন্ধকারের দিকে চলে যেতে না হয়, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে আবার দ্বিধাবোধ করতে না হয়, সেই পরিস্থিতি যেন আর কোনোদিন বাংলার মাটিতে না আসে। সে জন্য আমি সবাইকে বলব, সচেতন থাকতে হবে। আবার যেন আমরা সেই ধরনের বিপদে না পড়ে যাই।…পেয়ারা পাকিস্তানওয়ালাদের কাছ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে চলতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী রফিকুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

Share.

Comments are closed.