চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতুর পাটাতনে গর্ত

0

চট্টগ্রাম ব্যূরো :

দক্ষিন চট্টগ্রাম সহ দুই জেলার যোগাযোগের মাধ্যম চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর (তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু) এক পাশের পাটাতন ভেঙ্গে গিয়ে বড় আকারের আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুকির মধ্যে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এ সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। দেশের বৃহৎ এ সেতুটির এমন বেহাল দশা দেখা দেয়ায়  পুরো চট্টগ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী জেলা বাসির মাধ্যে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার ঝড় চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রন না থাকায় অতিরিক্ত ওজনের মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে। এতে সেতুটিকে ক্রমেই ঝুঁকিপুর্ন হয়ে উঠছে। এর আগেও শাহ আমানত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কতৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুসহ যেকোনো স্থাপত্যশৈলীর ওজন বা চাপ সহনশীলতার পর্যায়ে রাখার নিয়ম রয়েছে। যেমন দেশের অন্যতম মেঘনা সেতুতে যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা রয়েছে। যা ওজন পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ সেতুতে ৩০ টনের বেশি মালবোঝাই গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু শাহ আমানত সেতুতে ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় সেতুর রক্ষণব্যবস্থা সম্পূর্ণ অরক্ষিত।’ তাই ইচ্ছে মত মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন ও মালবাহি গড়ি বিনা বাধায় চলাচল করছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান, পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার সাথে চট্টগ্রাম শহরের সড়ক পথে যোগাযোগের এক মাত্র মাধ্যম এ সেতুর উপর দিয়ে  প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহি বাস ও মালবোঝাই ট্রাক সহ হরেক রকমের গাড়ি চলাচল করে থাকে। ওই সব এলাকায় উৎপাদিত কৃষি মৎস সহ নান পণ্য এ সেতুর উপর দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে। আবার শহর থেকে বিভিন্ন মালামাল গ্রামে যায়। তাই দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে শাহ আমানত সেতুর গুরুত্ব অনেকটা বেশী। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হলে ওই সব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এতে পুরো দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় ইতোমধ্যে সেতুর বেশ কিছু মূল্যবান যন্ত্র খোয়া গেছে। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে ইচ্ছে মত পারাপার হচ্ছে যানবাহন।
সওজ সূত্রে জানাযায় বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০ দশমিক ২৪ মিটার প্রস্থর কংক্রিটের এ সেতুটি নির্মাণ করে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন। ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু উদ্বোধনের আট বছর পরও সেতুতে এক্সেল লোড কন্ট্রোল বা ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত এ সেতু পার হওয়ায় বড় আকারের আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ জানান পাটাতনে গর্ড় হয় নাই। বৃষ্টির পানিতে সেতুর ড্রেনের পাশে একটিু বালি সরে গিয়েছিল। গতকাল সকালেই জরুরী ভাবে ওই স্থান মেরামত করা হয়েছে। এতে যান চলাচলে কোন বিঘœ হচ্ছেনা এবং শংকার কিছু নেই।

সাব্বির// এসএমএইচ//৩০শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১৭ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.