ঈদকে সামনে রেখে জুতা-সেন্ডেল তৈরীর ধুম পড়েছে চট্টগ্রামের পাদুকা পল্লীতে: লাভের আশা কারিগরদের

0

চট্টগ্রাম ব্যূরো:

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পাদুকা পল্লী খ্যাত পূর্ব মাদারবাড়িতে জুতা তৈরীর কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। এবারে ঈদের বাজারে ব্যবসা ভাল হবে বলে আশা করছেন জুতা কারখানা মালিকরা। ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা পাদুকা পল্লীতে জুতার অর্ডার নিয়ে আসছেন প্রতিদিন।
সরেজমিনে দেখাগেছে নগরীর ৩০ নং ওর্য়াড়ের পূর্ব মাদারবাড়ী নছু মালুম লেইন, নালাপাড়া, আলকরন, ২৯ নং ওর্য়াড়ের পশ্চিম মাদার বাড়ী, মোগলটুলি সহ বিভিন্ন স্থানে হাতে তৈরি জুতার ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে । অবশ্য নছুমালুম লেইনেই রয়েছে ছোট বড় শতাধিক জুতার কারখানা। মাদারবাড়ি এলাকার লেইন বাইলেইনের পাশে ছোট দোকান ঘর নিয়েই গড়ে উঠেছে এসব জুতার কারখানাগুলো। ছোট্ট কক্ষের মধ্যে কয়েকজন কারিগর মিলে এবং তাদের সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে আপন মনে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা বানাচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে এসব কারখানায় কারিগররা কাজ করেন কমিশনের ভিত্তিতে। জুতা ও স্যান্ডেলের আকার-আকৃতির ওপর ভিত্তি করে কারিগরেরা কমিশন পান। তাদের থাকা-খাওয়াও সবই হয় কারখানায়। মান ও নকশার ওপর নির্ধারিত হয় তাদের তৈরি জুতার দাম। মাদারবাড়ির কয়েকটি কারখানার মালিক-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এবার ঈদ মওসূমে গরম আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকায় জুতার চেয়ে স্যান্ডেলের চাহিদা বেশি হবে। তাই অধিকাংশ কারখানায় জুতার পরিবর্তে স্যান্ডেল তৈরির কাজে বেশি ব্যস্ত রয়েছে কারিগরেরা।
এবার ভাল ব্যবসা হবে বলে আশা প্রকাশ করে তারা জানান, গত বছর প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রত্যাশিতার চাহিদা ছিল কম। তাই ঈদের বাজার মন্দা গেছে। বছরের দশমাসে যে পরিমাণ জুতা- সেন্ডেল বিক্রি হয়, তার দি¦গুন বিক্রি হয় ঈদ মওসুমে। প্রধানত নিন্মবিত্তদের এবং মধ্যবিত্তদের সামর্থ্যরে মধ্যে কেনার উপযোগী জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হয় মাদারবাড়িতে। সব কারখানা নিত্য নতুন ডিজাইনের স্যান্ডেল, সু, পাম্পহিল, হাই হিল ও ফ্ল্যাট হিলসহ বিভিন্ন ধরনের জুতা তৈরি করে। কাজ এত নিখুঁত যে অভিজাত বিপণিকেন্দ্রগুলোতে যখন এখানকার পণ্য শোভা পায়, তখন এগুলো হাতে তৈরি সেটা পরখ করাই যায় না। এসব কারখানায় ডজনের নিচে জুতা বিক্রি হয় না। এখানকার তৈরী জুতা সেন্ডেল রিয়াজুদ্দিন বাজার, নুপুর মার্কেটেই বেশি সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পাইকারি দোকানেও সরবরাহ করা হয়। ঈদের বাজার ধরতে প্রতিবছর ব্যস্ততা বাড়ে রমজানের ঠিক এই সময়টাতে। ঈদ পর্যন্ত তা থাকে। কারখানার মালিক এবং কারিগররা জানালেন, নগরীর বাইরে কক্সবাজার, ফেণী, নোয়াখালি, কুমিল্লা, সিলেট, রংপুর, বগুড়া এবং রাজধানীর ব্যবসায়ীরা কখনো নিজে এসে, আবার কখনো ফোনে জুতা-স্যান্ডেলের অর্ডার দেন। তাদের চাহিদামতো নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় জুতা স্যান্ডেল।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা ) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সাথে এখানকার পাদুকা শিল্প মালিকরা দেখা করে সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। জমির অতিরিক্ত মূল্যের কারণে আলাদা কারখানা করে এই শিল্প সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না বলে অবহিত করেন। এ সময় তাদের জন্য পৃথক শিল্প এলাকার দাবি জানান। বেজা চেয়ারম্যান নির্মিয়মান মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পাদুকা শিল্পের জন্য উপ-অঞ্চল তৈরির আশ্বাস দেন। পাদুকা শিল্প মালিকরা এখন সেই অপেক্ষায়।
চট্টগ্রামের পাদুকা শিল্প মালিক সমিতির নেতা আলতাফ হোসেন জানান জুতা তৈরীর উপকরণ যেমন চামড়া ,রাবার, কাঠ ,ঘাম,ইত্যাদির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন তেমন পোষায় না। কাররিগর ও কারখানা খরচ সামাল দিতে কষ্ট সাদ্য হয়ে পড়েছে। তবুও ঈদের মওসূমে চাহিদা থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আমারা এ কাজে নামি। সরকারী পৃষ্ট পোষকতা পেলে এ পেশায় নিয়েজিত মালিক শ্রমিকরা আর্থিক সচ্ছলার মুখ দেখছে।

সাইফুল//এসএমএইচ//২৫শে মে, ২০১৮ ইং ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.