সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা : মওদুদ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘৫৮ জন মানুষ মারা গেছে ৮ মে থেকে ২৫ মের মধ্যে গত ১৭ দিনে। মানুষের কি জীবনের কোনো মূল্য নেই?’আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদী নাগরিক সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদএসব কথা বলেন।বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সভায় মওদুদ আহমেদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার এতোদিন নিশ্চুপ ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাদের কাছে তালিকা আছে। তাহলে এই অভিযান আগে থেকে চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি কেন? কারণ হলো এই মাদক ব্যবসায় তাদের নেতারা জড়িত। হাজার হাজার কোটি টাকা তারা এখান থেকে আয় করেছে।’বিএনপিও মাদক নির্মূল চায় জানিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরাও চাই মাদক নির্মূল করা হোক। কিন্তু তার মানে এই নয় বিনাবিচারে কাউকে হত্যা করা হবে। এর দায়দায়িত্ব সরকারের, আমাদের এ ব্যাপারে কিছু করার নেই। যাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে এরা তো মালিক না, এরা তো বাহক। তারা বিক্রি করে মালিককেই দেয়। সেই মালিক কারা? তারা এই সরকারের মদদপুষ্ট। এভাবে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। মাদক ব্যবসা উচ্ছেদ হোক। কিন্তু মানুষ মারা চাই না।’আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, খুলনায় জনগণের নির্বাচন হয়নি, হয়েছে পুলিশি নির্বাচন। খুলনা প্রায় ১০০ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এখন তারা খুলনা স্টাইলে গাজীপুরে নির্বাচন করতে চায়। তারা যদি সেই চেষ্টা করে এবার আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সেটা প্রতিহত করার চেষ্টা করব। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাদের বাধা দিব।নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, এরা সরকারের একটি তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশন। সরকার যা চাইবে তারা তাই করবে। আচরণবিধি পরিবর্তন করছে। এখন সংসদ সদস্য প্রচার চালাতে পারবেন। সংসদ সদস্য মানে তো আওয়ামী লীগের, এরা যেন প্রচারে চালাতে পারে। এটির দূরভিসন্ধিমূলক লক্ষ্য আছে, তারা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি করেছে। তারা সংসদ রেখে আগামী নির্বাচন করতে চায় বলেই এই নিয়ম রেখেছে।বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, সর্বোচ্চ আদালত জামিন দেওয়ার পর কী আর কোনো কথা থাকে? যদি তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা থাকেও সেটাও দুই-একদিনেই জামিন হয়ে যায়। কিন্তু নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকার যা চাইবে তাই করবে। নির্বাচন কমিশনও তাই করে।খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, একদিন বেশিও যদি খালেদা জিয়া কারাগারে থাকেন তাহলে তার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। আইন আদালত ও শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া জনগণের কোনো দাবি কোনোদিন আদায় করা যায়নি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একমাত্র উপায়ও রাজপথ। রমজান মাসের পরে আমাদেরকে কঠোর কর্মসূচির কথা চিন্তা করতে হবে। আর সেভাবেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন গণতন্ত্রের আন্দোলন। এটি অব্যাহত থাকবে। আমরা বর্তমান অবস্থার অবসান চাই। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে সম্পূর্ণভাবে নৈরাজ্য নিরাজ করছে না। দেশের কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই।প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফিরবেন না। আমরা আশা করি, তিনি তিস্তার পানি চুক্তি বাস্তবায়ন করেই ফিরবেন। আর না হলে আমরা বলব তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ।

সাইফুল//এসএমএইচ//২৫শে মে, ২০১৮ ইং ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.