কোটা সংস্কার আন্দোলন:রাবি শিক্ষকের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা

0

রাবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষকের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ক্যাম্পাসে নগ্ন পদযাত্রার ঘোষণা দেন। কিন্তু সকালে মমতাজউদ্দিন কলাভবনে তাঁর সহকর্মীরা নিজ চেম্বারে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা যায়। তবে ওই শিক্ষকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সেখানে তারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন।

মঙ্গলবার সকালে ফরিদ উদ্দিন খান তার ফেসবুকে নগ্নপদযাত্রা ও জোহা চত্বরে এক ঘণ্টা অবস্থানের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং লাঞ্ছনার প্রতিবাদে আজ আমি নগ্নপদে অফিসে যাব। সকাল ১১ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জোহা স্যারের মাজারে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করবো। খালিহাতে, নগ্নপায়ে এবং নীরবে যে কেউ যোগদান করতে পারেন। কোনও স্লোগান না, ফেস্টুন না, বক্তৃতা না, না কোনও রাজনীতি। এই নগ্নপায়ে নীরব প্রতিবাদ বোঝাবে আমরা আর সভ্য সমাজের নাগরিক নয়, যেখানে বাকস্বাধীনতা আছে যেখানে ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদের সুযোগ আছে।’

এরপর সকালে তিনি অফিসে এসেছিলেন। তবে তাকে সেখান থেকে জোহা চত্বরে আসতে দেওয়া হয়নি। তার নিজ চেম্বারে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক কেবিএম মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন সহকর্মী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

জানা যায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান তার সঙ্গে বিভাগে দেখা করেন। এরপর সোয়া ১১টার দিকে তিনি শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন খানের চেম্বার থেকে বেরিয়ে যান। এসময় ওই শিক্ষকের চেম্বারের সামনে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী পদযাত্রায় যোগ দিতে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিভাগের সভাপতি তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে ছাড়া সেখান থেকে যেতে রাজি হননি।

এসময় ওই চেম্বারে শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাধা দিয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক কেবিএম মাহবুবুবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের সহকর্মী লাঞ্ছিত হোক। তাই বিভাগের সভাপতি হিসেবে আমি তাকে বাধা দিয়েছি।’ এসময় শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন পাঁচ মিনিটের জন্য সেখানে যেতে চাইলেও সভাপতি তাকে বাধা দেন।

এদিকে ড. ফরিদ উদ্দিন খানের ডাকে সাড়া দিয়ে জোহা চত্বরে সমবেত হন কয়েকজন শিক্ষক। তারা হলেন- পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকিব, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছাইফুল ইসলাম, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক বায়তুল মোকাদ্দেছুর রহমান প্রমুখ। তারা সেখানে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

একই সময়ে সেখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দেন। তারা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান তাদের সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যাননি। পরে সোয়া ১২টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্যারিস রোড হয়ে প্রশাসন ভবনের দিকে আসছিলেন। তবে সিনেট ভবনের সামনে আসতেই পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। এরপর প্রক্টর ও পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

ফরিদ উদ্দিনকে বাধাদানের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ফরিদ উদ্দিন আমার ¯েœহভাজন, তাই অফিসে আসার পথে তার চেম্বারে গিয়েছিলাম। তাকে বুঝিয়েছি যে তার যদি খারাপ লাগে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিবে। তাকে না আসার জন্যে বুঝিয়েছি, বাধা দিইনি।

প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোটা আন্দোলনের নামে একটি মহল এই আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এখানেও শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’

এর আগে গত ১ জুলাই ও ২ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচিতে হামলা চালায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সাব্বির// এসএমএইচ//৩রা জুলাই, ২০১৮ ইং ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.