খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই পটিয়া পৌরসভার অবহেলিত এলাকার নাম সুচক্রদন্ডী

0

ওবাইদুল হক(পিবলু),পটিয়া:

বাংলা সাহিত্যের অমর পুঁিথ গবেষক আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের জন্মস্থান পটিয়া পৌরসভার সুচক্রদন্ডী এলাকা বর্তমানে বিভিন্নভাবে অবহেলিত। এ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার লোকজন বর্ষা মওসুমে পানির মধ্যে নিমজ্জিত থাকে। রাস্তঘাট সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় লোকজন ও যানবাহন চলাচল করতে দুর্ভোগের সম্মুখীন।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকার লোকজন থেকে জানা যায়, হাঁঈদগাও পাহাড়ি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত খালটি সুচক্রদন্ডী হয়ে ইন্দ্রপুল চানঁখালী জোয়ার ভাটা খালের সাথে মিলিত হয়। শত বছর ধরে এ খাল দিয়ে পটিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার পানি প্রবাহিত হয়ে চাঁনখালী খালে গিয়ে পড়ে। এতে সুচক্রদন্ডী এলাকসহ পৌরসভার ২, ৩ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার পানি সুষ্ঠুভাবে প্রবাহের দরুন এলাকায় কোন জলাবদ্ধতা সৃষ্ঠি হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দ্রপুল এলাকায় একটি মুনাফালোভী প্রভাবশালী মহল খালের তীর দখল করে লবন মিল ও লবনের মাঠ তৈরি করায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের উপর যে ব্রীজ রয়েছে সে ব্রীজের মুখ ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে লবন মাঠ ও লবনের গুদাম। গত দুই বছর পূর্বে ব্রীজের মুখে খাল ভরাট করে মেসার্স গাজী আবদুল কাদের সল্ট রিফাইনারী ইন্ড্রাষ্ট্রিজের মালিকের এক নাম্বার লবনের গুদাম তৈরি করে। অন্যদিকে লবন মিলের পূর্ব পার্শ্বে পটিয়া পৌরসভা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এমজিএসপি প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ পাওয়া ড্রেন নির্মানের জন্য রাস্তার পার্শ্বে ড্রেন নির্মান কাজ শুরু করলেও গত ছয় মাসেও কাজ শেষ করতে পারে নি। উক্ত প্রকল্পের সহযোগী ঠিকাদার মেসার্স এয়াকুব এন্ড ব্রাদার্স দুই কিলোমিটার ড্রেন নির্মান কাজ করার জন্য গত ছয় মাস আগে নালা খনন করে সেখানে ড্রেন নির্মানের প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করতে প্রায় কোটি টাকার লোহার রড স্থাপন করে। স্থাপনের ছয় মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আর সি সি ঢালাই না করায় কোটি টাকার রডগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার পথে। সুচক্রদন্ডী এলকার রামকৃঞ্চ মিশন রোড থেকে আবদুর রহমান সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়র প্রবেশমুখ পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে সে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উটে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে রিটর্নিং ওয়াল না থাকায় ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তা ধেবে গিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে রাস্তা ভেঙ্গে পড়েছে। এতে সড়কের প্রসস্থতা কমে গিয়ে সরু হয়ে পড়ায় যান চলাচলের বিঘœতা সৃষ্ঠি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুচক্রদন্ডী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের মজলুম জননেতা জনাব আলী ফকির বাড়ীর সামনের সড়কটি কার্পেটিং উটে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়কে যানবাহন চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজকর্মী শহীদুল আলম জানান, ‘ইতিহাস বিজড়িত স্থান সুচক্রদন্ডী এলাকা। কিন্তু অবহেলার ও লাঞ্চনার কারণে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে এ সুচক্রদন্ডী এলাকা। পুরনো প্রবাহমান খালের জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে লবনের মাঠ ও গুদাম। ফলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় বসতি এলাকা পানির মধ্যে নিমজ্জিত হতে হচ্ছে। ড্রেন করার প্রকল্প নামে রাস্তার পাশে বসানো কোটি টাকার লোহার রড মরিচা ধরে নষ্টের পথে। দেখার যেন কেউ নেই।’
পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, ‘গত ছয় মাস পূর্বে ঠিকাদার উক্ত স্থানে কাজ করার জন্য রডগুলো স্থাপন করে। বর্ষা আসায় কাজ শেষ করতে পারে নি। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু হবে।’

সাব্বির// এসএমএইচ//৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২২শে ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.