সংসদ নির্বাচনে বাড়ছে ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বাড়ছে ২ হাজার ৪৯২টি। ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে বাড়ছে ভোটকক্ষের সংখ্যাও।

সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্ম-সচিব মো. আবুল কাশেমের সই করা এক তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা যাচাই-বাচাই করছে। সংসদ নির্বাচনের ২৫ দিন আগে এগুলো হালনাগাদ করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

ইসি সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের তালিকা ইসিতে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা থাকছে ৪০ হাজার ১৯৯টি। দশম সংসদে এই সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৭০৭টি। এবার ১৭ হাজার ৪৬২টি বেড়ে হচ্ছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটকক্ষ ৯৭ হাজার ৮৫৯টি, নারী ভোটকক্ষ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮১টি। গত সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকক্ষ ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮টি।

এর আগে, গত ৫ আগস্ট সারাদেশের ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র ছিল ৪০ হাজার ৬৫৭টি এবং ভোটকক্ষ ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৪১৬টি। তবে পরে ইসির খসড়া তালিকার সঙ্গে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকা সমন্বয় করার পর ভোটকেন্দ্র কমেছে ৪৫৮টি এবং ভোটকক্ষ বেড়েছে ৮৭৬টি।

আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এসব ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যাও পরিবর্তন হতে পারে। তাদের পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই করে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে কমিশন।

এদিকে, ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর কোনো ভোটকেন্দ্র কোনো প্রার্থীর বাড়ির কাছে অথবা প্রভাব বলয়ের মধ্যে পড়েছে বলে কোনো প্রার্থীর কাছে প্রতীয়মান হলে তিনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তদন্ত করে অভিযোগের যথার্থতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে নির্বাচন কমিশন তা পরিবর্তন করে দিতে পারে।

ইসি সূত্র জানায়, গত সোমবার ইসির যুগ্ম-সচিব মো. আবুল কাশেমের সই করা তালিকা অনুযায়ী, ১০টি অঞ্চলের মধ্যে প্রত্যেকটিতেই ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা বেড়েছে। দশম জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৭ হাজার ৭০৭টি, ২ হাজার ৪৯২টি বেড়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ১৯৯টি।

১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪ হাজার ৩৩৫টি, একাদশ নির্বাচনে তা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৪৯২টি। একইভাবে রাজশাহী অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ৪ হাজার ৮১৫টি, একাদশে তা ৫ হাজার ১১১টি; খুলনা অঞ্চলে ভোটকেন্দ্র ছিল ৪ হাজার ৫৮২টি, একাদশে ৪ হাজার ৮৩৪টি; বরিশাল অঞ্চলে ২ হাজার ৩৪২টি ভোটকেন্দ্র বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬৭৬টি; ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৪ হাজার ৪৯৭টি থেকে বেড়ে ভোটকেন্দ্র হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৯টি।

অন্যদিকে দশম সংসদে ঢাকা অঞ্চলে ভোটকেন্দ্র ছিল ৫ হাজার ৭৪৯টি, তা একাদশ সংসদে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ১৫টি; ফরিদপুর অঞ্চলে ১ হাজার ৯১৭টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৪টি, সিলেট অঞ্চলে ২ হাজার ৬২৪টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০২টি; কুমিল্লা অঞ্চলে ৩ হাজার ৯৯৫টি থেকে ভোটকেন্দ্র বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২ হাজার ৮৫১টি ভোটকেন্দ্র বেড়ে একাদশ নির্বাচনে হয়েছে ২ হাজার ৯৮২টি ভোটকেন্দ্র।

ইসি সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলে ভোটকক্ষের সংখ্যা ২২ হাজার ৯৩৩টি; রাজশাহী অঞ্চলে ২৭ হাজার ৭৩৭টি; খুলনা অঞ্চলে ২৪ হাজার ২০২টি; বরিশাল অঞ্চলে ১৩ হাজার ৪৪৫টি; ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২৫ হাজার ১৫৪টি; ঢাকা অঞ্চলে ৩০ হাজার ৭০৭টি; ফরিদপুর অঞ্চলে ৯ হাজার ৭৩৩টি; সিলেট অঞ্চলে ১৩ হাজার ৫৯৬টি; কুমিল্লা অঞ্চলে ২৩ হাজার ৩১২টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৫ হাজার ৭২১টি।

সাব্বির// এসএমএইচ//১২ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২৮শে ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.