মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

0

ঢাবি প্রতিনিধি:

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কারণে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোটা বহালের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় শাহবাগ মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে দেখা করতে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এসময় ঢাকা ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সাথে ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের দাবি আদায়ে রাস্তায় নামতে হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এদেশ স্বাধীন করেছে। তারা রাস্তায় থাকবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও তার সরকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ব্যাপারে আন্তরিক। এসময় তিনি শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিতে আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ আহ্বানের পরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীরা শুক্রবার ভো ছয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান না নেয়ার ঘোষণা দেন। এ সময়ে তারা শাহবাগ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করবেন, একই সঙ্গে বিকেল তিনটা থেকে আবারো অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্র জারি করা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, সব সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চের স্মারকে উল্লিখিত কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে— ৯ম গ্রেড (পূর্বের প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ থেকে ১৩তম গ্রেড (পূর্বের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়— ৯ম গ্রেড (পূর্বের প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ থেকে ১৩তম গ্রেড (পূর্বের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।

এর আগে বুধবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (ক্যাডার, নন-ক্যাডার পদে) প্রচলিত কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভপাতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বহুদিন ধরেই আন্দোলন করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাদের দাবি ছিল, কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। আন্দোলনের মুখে ২ জুলাই গঠন করা হয় কোটা সংস্কার কমিটি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল সরকার গঠিত সচিব কমিটি। গতকাল বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিব কমিটির সেই সুপারিশই বহাল রাখা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামো অনুযায়ী মোট ২০টি গ্রেড রয়েছে। এর প্রথম গ্রেডে অবস্থান করেন সচিবরা। আর প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের শুরুটা হয় নবম থেকে ১৩ তম গ্রেডের মধ্যে। একজন গেজেটেড বা নন গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, ও শর্তসাপেক্ষে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা অর্থাৎ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিধান রেখেছে সরকার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে এই ৫৬ শতাংশ কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে সচিব কমিটি। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোনও কোটা তুলে দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ দেয়নি ওই কমিটি।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা থাকলেই শুধু আন্দোলন। তাই কোটার দরকার নেই। কোটা না থাকলে আন্দোলন নেই, সংস্কারও নেই। তিনি বলেন, যদি কেউ কোটা চায়, তাহলে এখন কোটা চাই বলে আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলন যদি ভালোভাবে করতে পারে, তখন ভেবেচিন্তে দেখা হবে কী করা যায়? এরপর যদি কেউ কোনো কোটা চায়, তাহলে তাকে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া কোটা দেয়া হবে না।

সাব্বির// এসএমএইচ//৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২০শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.