‘শিকারি’র অর্জন ও শাকিবের কিছু কথা

0

বিনোদন ডেস্ক :

নিজের ইন্ডাস্ট্রি তথা ঢালিউডে গত এক যুগ ধরেই রাজত্ব করছেন শাকিব খান। সাফল্যের সর্বোচ্চ স্থানে নিজেকে নিয়ে গেছেন এই সুপারস্টার। তবে আজকের শাকিব খান যতটা নন্দিত, বছর তিনেক আগে ততটা ছিলেন না। অনেকটা গৎবাঁধা একজন নায়ক ছিলেন তিনি। যদিও তার অভিনীত ছবিগুলো সুপারহিট হয়েছে, কিন্তু দর্শকমনে তার প্রতি কিছুটা হতাশা ছিলো। কেননা ঘুরেফিরে একই ঢংয়ের শাকিবকে দেখা যেতো তখন।

প্রেক্ষাপটের বদল হয় ২০১৬ সালে। তুরুপের তাসটির নাম ‘শিকারি’। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবি রাতারাতি বদলে দেয় শাকিবের ক্যারিয়ার। তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে যায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশেও। এর একটাই কারণ, ‘শিকারি’ ছবিতে শাকিবকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে। ফিটনেস আর আকর্ষণীয় লুকে রীতিমত বাজিমাত করেন কিং খান। মুক্তির পর ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল নামে।

এবার এই ‘শিকারি’ ছবিই পেয়েছে একটি সম্মাননা। দেশের অন্যতম প্রেক্ষাগৃহ রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে ২০১৬ সালের ‘হাইয়েস্ট সেলিং’ পুরস্কার জিতেছে ‘শিকারি’। অর্থাৎ সেই বছর সিনেপ্লেক্সে যতগুলো সিনেমা মুক্তি পেয়েছিলো, তার মধ্যে ‘শিকারি’ সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে।

সোমবার (৮ অক্টোবর) স্টার সিনেপ্লেক্সের ১৪ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। জমকালো এই আয়োজনে অংশ নেন ঢাকাই ছবির বড় বড় সব তারকা। ফারুক, শাকিব খান, ফেরদৌস, রিয়াজ, ওমর সানী, পপি, শহিদুজ্জামান সেলিম, জয়া আহসান, পূর্ণিমা, চঞ্চল চৌধুরী, আরিফিন শুভ, কনা, রৌশান, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, অনিমেষ আইচ, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, রেদওয়ান রনি, ভাবনার মতো তারকাদের উপস্থিতিতে স্টার সিনেপ্লেক্সে যেন তারার হাট বসে।

পুরো আয়োজনের উপস্থাপনা করেন এই সময়ের অন্যতম আলোচিত উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। মূল অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জয় মঞ্চে ডাকেন ঢাকাই ছবির চার সুপারস্টারকে। তারা হলেন ওমর সানী, ফেরদৌস, রিয়াজ ও শাকিব খান। একসঙ্গে এই চার তারকাকে দেখে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। করতালিতে মুখরিত হয় পুরো সিনেপ্লেক্স আঙিনা।

মঞ্চে ওঠার পর নিজের বক্তব্যে শাকিব খান বলেন, মুক্তির পর ‘শিকারি’ সাফল্য পেয়েছে। সেজন্য আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আমার ইন্ডাস্ট্রি ও দেশের মান রাখতে পেরেছি।

যোগ করে শাকিব আরো বলেন, ‘শিকারি’ আমার প্রথম যৌথ প্রযোজনার সিনেমা, আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা। এই সিনেমা দিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি শিল্পীর কোনো দেশ নেই, গণ্ডি নেই। শিল্পীর জন্য পুরো পৃথিবী উন্মুক্ত। ‘শিকারি’তে কাজের সময় চেষ্টা করেছি, আমার দেশের সম্মান রক্ষার জন্য। শুধু তাই নয়, যখনই দেশের বাইরে কাজ করি সবসময় দেশ ও ইন্ডাস্ট্রির সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।

‘শিকারি’ ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘শিকারি’র শুটিংয়ের সময় আমি যখন বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছিলাম তারা জানতো আমি বাংলাদেশের সুপারস্টার। তখনই আমি দেখেছি, সেখানকার টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি কি করি! ঠিক ওই সময় আমার ভেতরে কাজ করেছে, আমি ফেল করলে আমার ইন্ডাস্ট্রি ফেল করবে। ভেবেছিলাম আমি যদি সেরাটা না দিতে পারি, তবে লজ্জিত হবে আমার ইন্ডাস্ট্রি, আমার ইন্ডাস্ট্রির গুণী মানুষগুলো। এত বছরের ক্যারিয়ারে আমি যতটুকু শিখেছি অভিনয়, লুক চেঞ্জ, ফিটনেস সবদিক দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আমার ইন্ডাস্ট্রির সম্মান রক্ষার জন্য।

প্রসঙ্গত, ‘শিকারি’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন কলকাতার জয়দীপ মুখার্জি। ছবিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করে কলকাতার এসকে মুভিজ।

উল্লেখ্য, স্টার সিনেপ্লেক্স যাত্রা শুরু করে ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর। দীর্ঘ এই ১৪ বছরে এই প্রেক্ষাগৃহে হলিউড ও ঢালিউডের ছবি প্রদর্শন করে এসেছে। সেই ছবিগুলোর মধ্যে যেসব ছবি ভালো ব্যবসা করেছে, সেগুলোকে পুরস্কৃত করেছে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। ‘শিকারি’ ছাড়াও এদিন পুরস্কার পায় ‘মোল্লা বাড়ির বৌ’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘মনপুরা’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নম্বর’, ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’, ‘প্রজাপতি’, ‘জিরো ডিগ্রী’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘আয়নাবাজি’ ও ‘ভুবন মাঝি’।

সাব্বির// এসএমএইচ//৯ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৪শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.