‘খালেদারও বিচার হতে হবে’

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একুশের আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নজিব আহমেদ।

১৪ বছর আগে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবিরোধী সমাবেশে মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণের সময় মানববর্ম সৃষ্টি করে যে কয়জন শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিলেন, তাদের মধ্যে নজিব একজন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কালো অধ্যায়টি নিয়ে দায়ের করা মামলায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ বুধবার ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

জঙ্গিদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিনাশের লক্ষ্যে যে শেখ হাসিনার ওই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল, তা রায়েও উঠে এসেছে।

ওই হামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দলীয় নেতা-কর্মী ও তার ব্যক্তিগত কর্মীরা বাঁচালেও প্রাণ হারান ২৪ জন, আহত হন কয়েকশ।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নজিব বলেন, ‘আইনের উর্ধ্বে কেউ না। সে প্রধানমন্ত্রীই হোক, সে রাষ্ট্রপতিই হোক.. সে যেই হোক না কেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

‘আমি দাবি করবো, খালেদা জিয়া এবং তখনকার যারা মন্ত্রী ছিল খালেদা জিয়া সরকারের; তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট যে ট্রাকে ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাতে নজিবও ছিলেন।

গ্রেনেড ও গুলির মধ্যে নিজের প্রাণের পরোয়া না করে নজিবসহ চারজন শেখ হাসিনাকে অক্ষত অবস্থায় সুধা সদনে নিয়ে এসেছিলেন। আর্জেস গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে ক্ষত নজিবও বয়ে চলেছেন।

গ্রেনেড হামলায় আহতরা রায়ের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে হামলার ‘হোতা’ তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন।

হামলার দায় খালেদা জিয়াও এড়াতে পারেন না বলে প্রতিক্রিয়া এসেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকেও।

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী না থাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জানতেন, আর তিনি জানতেন না? এটা হয় না। তাই তিনিও এই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।’

সাব্বির// এসএমএইচ//১১ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৬শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.