চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ট, চালু হবে উইম্যান ব্যাংক

0

শেখ মেহেদী হাসান:

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বেপজাতে ১০০ একর জায়গার উপর উদ্যোক্তা নারীদের জন্য নির্মিত হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ট। এছাড়াও উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক লেনদেনের সুবিধার জন্য চালু হবে উইম্যান ব্যাংক লিমিটেড। এ দু’টি প্রকল্প নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানালেন চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সদস্য মনোয়ারা হাকিম আলী। এ দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা আরো এগিয়ে যাবেন বলে তাঁর আশাবাদ। বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা জানান।
বর্তমান সরকারকে নারীবান্ধব সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। বাংলাদেশের অতীতের সরকারগুলোর বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কোন বরাদ্দই ছিল না। সেখানে বর্তমান সরকার নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে থোক বরাদ্দ রেখেছে। অর্থাৎ সরকার বিশ^াস করে যে নারী উদ্যোক্তা বলতে একটি গোষ্ঠী আছে। এসব সুযোগ-সুবিধার কারণেই মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের যুগোপযোগী নারী নীতির কারণেই চট্টগ্রামের মত রক্ষণশীল জায়গাতেও নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আগে নারীরা শুধু বুটিক আর প্রিন্টিং নিয়েই ব্যস্ত থাকত। এখন ব্যাংকিং, ইন্ড্রাস্ট্রি, ক্যাটারিং, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি কাজেও নারীদের পদচারণা দেখা যাচ্ছে। ফলে নারীদের কাজের গতিও বেড়ে গেছে।
বিগত ১২ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে উইম্যান চেম্বার এন্ড ইন্ড্রাস্টি’র উদ্যোগে মেলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রামেই উইম্যান চেম্বার অব কমার্স মেলা করে। এটা আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। মেলার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও দুর্বলতাগুলো খুঁজে যায়। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সেগুলো তারা পরে কাজে লাগাতে পারে। এ মেলা চালিয়ে নিতে আমাদের অনেক প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। সবার কাছ থেকে শতভাগ সহযোগিতা না পেলেও নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এখনো প্রতিবছর আমরা মেলাটি চালিয়ে নিচ্ছি।
নারীদের রক্ষণশীলতা দূর করতে ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের বুঝিয়েছেন উল্লেখ করে মনোয়ারা হাকিম বলেন, চট্টগ্রামে কোন একটা মেয়ে নিজের হাতে গাড়ি চালাবে কয়েক বছর আগেও এটা ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। কিন্তু এখন সেটা সত্যি হয়েছে। এ প্রাপ্তির জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক নারীর ঘরে গিয়েছি। তাদের পরিবারকে বুঝিয়েছি। নারীরাও যে পুরুষদের মত সমানতালে কাজ করতে পারে সে ধারণাটা তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি। বিভিন্ন গার্লস স্কুলে গিয়েছি, তাদের কাউন্সেলিং করেছি। মেয়েদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে। কিন্তু সমাজ ও পরিবারের চাপে সেগুলোর বিকাশ ঠিকমত হয় না। তাই মেয়েদের বুঝিয়েছি, তোমরা যদি সংসার সামলে ব্যবসা বা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সময় দিতে পার তাহলে সেটা তোমার পরিবারের জন্যই ভালো হবে। ফলে আস্তে আস্তে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, অধিকার আদায়ে মেয়েদের হতে হবে কৌশলী। মেয়েরা সবসময়ই বলে পুরুষরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সত্যি কথা হল, পুরুষরা নয় বরং মেয়েরাই পুরুষদের নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ একটা পুরুষ সংসারের বিভিন্ন বিষয়ে নারীর কাছেই নির্ভরশীল। নারী যদি ওই কাজগুলো না করে তাহলে পুরুষটি অচল হয়ে পড়বে। তাই মায়া, মমতা ও  দিয়ে পুরুষের কাছ থেকে অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সংসার সামলে কোন নারী যদি কাজ করতে পারে তাহলে কোন পুরুষেরই সে কাজে বাধা দেয়ার কথা নয়।
মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, আমি সবসময়ই চাই নারীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। আমি কখনোই পদ আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না। কারণ নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হলে নারীদের অর্থনৈতিক জাগরণ ঝিমিয়ে পড়বে। তাই এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি থাকাকালে বাংলাদেশে ১০টি উইম্যান চেম্বার করে দিয়েছি। সেগুলো এখন নিজেদের মত কাজ করছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//১২ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৭শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.