খুচরা আধুলীরা সব ঐক্য করেছে : প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খুচরা আধুলীরা সব ঐক্য করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার মাদারীপুরের শিবচরে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বলে মনে করেন। আদতে খুচরা আধুলীরা সব ঐক্য করেছে। তিনি জঙ্গিবাদের কথা বলেন অথচ তিনি গিয়ে জোট করলেন জঙ্গিবাদের মদদদাতা জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে।

ড. কামাল হোসেন ‘মরা গাঙে’ যোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মান্না (নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না), রব (জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব)— তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। তারা কী করতে পারবেন? তারা কী করতে চান? বাংলাদেশের উন্নয়ন তারা চোখে দেখেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল হোসেনকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি নৌকা থেকে নেমে ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন, যে ধানের শীষে ধান নেই, চিটা ছাড়া।’

তিনি বলেন, ড. কামালও কালো টাকা সাদা করেছেন, খালেদাও করেছেন। তারা আজকে জোট করেছে। রতনে রতন চেনে, শেয়ালে চেনে কচু।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি এক জোট। ওরা যখনই সুযোগ পায়, মানুষকে হত্যা করে, গুম করে। শুধু মানুষ হত্যা না, বিএনপির আমলে বাংলাদেশ ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোকো-তারেক (খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো) মানি লন্ডারিং করতে গিয়ে আমেরিকায় ধরা পড়েছে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে (ড. কামাল হোসেন) ঐক্য করেছে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ‘খুনি পরিবার’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া পরিবার খুনি পরিবার। তারা যখনই সুযোগ পেয়েছে, মানুষ খুন করেছে। শুধু মানুষ খুন না, মানুষ গুম করেছে। আমাদের হত্যার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া মিলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে। ওই দিন তারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। তবে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। তারা খুনি। গ্রেনেড হামলার আলামত না রেখেই তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, তারেক জিয়া এখন গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে পেরেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হয়েছে। এবার গ্রেনেড হামলার মামলার বিচারও আমরা করতে পেরেছি।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন, মানুষ ২০০৮ সালে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়ী করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তারা (বিএনপি-জামায়াত) মানুষ মেরেছে। কিন্তু মানুষ আবার ভোট দিয়েছে নৌকা মার্কায়। কারণ মানুষ জানে, নৌকা মার্কা মানে উন্নয়ন, নৌকা মার্কা মানে মানুষের ভালো থাকা। আওয়ামী লীগই এই দেশের উন্নয়ন করেছে, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। তাই মানুষ আবারও নৌকায় ভোট দেবে।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.