পদ্মা সেতু পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ‘পশ্চিমা দেশের অনেক রাষ্ট্রদূত আমাকে হুমকি দিত’

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেছেন, ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরালে, পদ্মা সেতু হবে না বলে পশ্চিমা দেশের অনেক রাষ্ট্রদূত আমাকে হুমকি দিত। রোববার পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে মাওয়ায় এক সুধি সমাবেশে তিনি দেশের অন্যতম বড় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তিতে পড়ার কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রচারণায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। অনেকের ধারণা ছিল বিশ্বব্যাংকের টাকা ছাড়া পদ্মা সেতু হবে না। আমি ঘোষণা দিয়েলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। নিজস্ব অর্থায়নে আজ পদ্মা সেতুর ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এটা সন্তোষজনক।

এর আগে সকালে মাওয়ায় পৌঁছে তিনি সেতুর নামফলক উন্মোচনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কাজের উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার পাশের গোল চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা এই সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ম অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব ব্যাংকসহ পশ্চিমা বিশ্বের কিছু নেতা পদ্ম সেতু নির্মাণে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি সমর্থন দিয়েছি। গ্রামীণ ফোনের লভ্যাংশ গ্রামীণ ব্যাংক পাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে দরিদ্র মানুষের জন্য সেই টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু ফোনের কোনো লভ্যাংশ গ্রামীণ ব্যাংক পায়নি।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির বয়সসীমা ৬০ বছর হলেও ড. ইউনূসের বয়স ৭০ বছর হয়ে গিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রস্তাব দেওয়া হলো এমডি পদ ছেড়ে দিয়ে উপদেষ্টা হিসেবে তিনি যেন গ্রামীণ ব্যাংকে থাকেন। কিন্তু তিনি সেটা না মেনে সরকার ও বাংলাদেশে ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করে দিলেন।

ড. ইউনূস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো অনুমোদন ছাড়াই এমডি ছিলেন এবং সরকারি বেতনও নিতেন। এটা সম্পূর্ণ ইলিগাল। তাকে আমরা কখনও অসম্মান করতে চাইনি। অর্থমন্ত্রী ও গওহর রিজভী ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তাকে এমিরেটাস অ্যাডভাইজার করার প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন দুইটা। একটা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরেকটা সরকারের বিরুদ্ধে। কোর্ট চাইলে সেই বেতন ফেরত নিতে পারত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিলারি ক্লিন্টন তাকে এমডি রাখতে ফোন করেন। টনি ব্লেয়ার ছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার স্ত্রী শেলি ব্লেয়ার ফোন করলেন। মামলায় তিনি হেরে গেলেন। পশ্চিমা দেশের অনেক রাষ্ট্রদূত এসে আমাকে হুমকি দিত। ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যংক থেকে সরানো হলে পদ্মা সেতু হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি।

পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির যে অভিযোগ বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল সে প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পদ্মাসেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল, যার পেছনে ছিলেন ড. ইউনূস। তারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলল, আমি বললাম আমি প্রমাণ চাই। তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। আমার বিরুদ্ধে, আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বার বার তারা তদন্ত করল। কিন্তু কোনো প্রমাণ পেল না। স্টেট ব্যাংক আমার ছেলে জয়কে তিনবার ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। আমরা প্রমাণ করেছি। সমস্ত অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা। কোনো দুর্নীতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, জনগণের ওপর আমার ভরসা ছিল। সেই ভরসা নিয়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করতে হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। কিন্তু এর পেছনে যে অপমান যে নির্যাতন আমাদেরকে ভোগ করতে হয়েছে, এর পেছনে দেশের কিছু লোক জড়িত। যারা গরীবকে টাকা দিয়ে সুদ খায় তারা এর চেয়ে বেশি কী করতে পারে?

এদিকে বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.