জাবিতে পরিবহণ সংকট চরমে, দেখার কেউ নেই 

0

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চরম পরিবহণ সংকট দেখা দিয়েছে । এতে ভোগান্তির কবলে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির হাজারো শিক্ষার্থী। আর দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ সংকট থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এবং অনেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে বাসা বা মেসে থাকেন। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী একাডেমিক কাজ, টিউশনসহ বিভিন্ন কাজে ক্যাম্পাসের বাহিরে নিয়মিত যাতায়াত করেন। 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তারা জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে টিউশন করতে হয়। প্রতিদিন টিউশন করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। কিন্তুু যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের যে বাস চালু রয়েছে তা অত্যন্ত কম। বাসগুলোর ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭০-৮০ জন করে। কিন্তুু এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরিবহণের জন্য মাত্র ১২টি বাস চালু রেখেছে প্রশাসন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। 
আবার চালু থাকা বাসগুলোর সিডিউল ও রুট নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেক সময় নিদিষ্ট রুটে দাঁড়িয়ে হাত তুললেও বাসগুলো থামে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের বাসে নিয়মিত যাতায়াত করলেও তাদের (কর্মকর্তা-কর্মচারী) বাসে কোন শিক্ষার্থীকে উঠতে দেয় না বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বাস সংকটের বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার অবগত করলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয় নি বলে অভিযোগ তাদের।
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নুরজাহান আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি
প্রায়ই মিরপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করি। সকালে যখন ক্লাসে যাই তখন সিটে বসে যেতে পারি কিন্তু ক্লাস শেষে বিকেল বেলা বাসা ফেরার পথে বাসে সিটতো দূরের কথা মাঝে মাঝে দাঁড়ানোর জায়গাও পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে দরজার পাশে ঝুলে ঝুলে যাতায়াত করতে হয়। পাবলিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেও ন্যূনতম পরিবহণ সুবিধা পাচ্ছি না।’আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অনুুপ রায় বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত বাস সংখ্যা বাড়ানো। তারা মেরামত করা বাস ও নতুন কিছু বাস চালু করতে পারলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে বাস আছে মোট ১৪ টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১২টি বাস রাজধানী ঢাকা-মিরপুর-উত্তরা-এয়ারপোর্ট-বঙ্গবাজার-মানিকগঞ্জ-কাকরাইলসহ অন্যান্য রুটে চলাচল করে। আর বাকি ২টি বাস প্রায় দুই বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা বাস ২টি গাবতলী বাস ডিপুতে (ঢাকা মেট্রো-ছ ০৮০০১৯ ও ঢাকা মেট্রো-চ ০৮০০২০) মেরামত কাজ চলছে। মেরামত করতে এই ২টি বাসের পেছনে খরচ লেগেছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবার গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-মিরপুর-উত্তরা ও বঙ্গবাজার রুটে ছেড়ে যাওয়া ৬টি বাসে আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী চলাচল করছে। এর মধ্যে সকাল সাড়ে নয়টায় বঙ্গবাজার রুটের বাস দুটিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উঠে যার এক’শ জন শিক্ষার্থী বসে আর বাকি শতাধিক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। ডাবল ডেকার এই দুটি বাসের উপর তলা ও নিচ তলায় শিক্ষার্থীরা গা ঘেষাঘেষি করে পাশাপাশি অবস্থান করে। আবার অনেকে কোন উপায় না পেয়ে দরজার পাশে অবস্থান নেন। এতে যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনাসহ নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ভীড় ঠেলে বাসে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায় যা তাদের জন্য অসহনীয় ও বিব্রতকর বলে জানান মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ড. খো. লুৎফুল এলাহীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরসহ মোট ১২ টি বাস চালু আছে। বাকি ২টি বাসের মেরামত কাজ শেষ। আশা করি আগামী মাসে বাস ২টি চালু করা সম্ভব হবে। উপাচার্য মহোদয়ের সাথে নতুন ২টি বাসের বিষয়ে আলাপ হয়েছে। আগামী দুই এক মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আমি আশাবাদী। চালুকৃত বাসগুলোর সাথে মেরামতকৃত ও নতুন বাস যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ সংকট দ্রুত কমে যাবে।’

সাব্বির// এসএমএইচ//১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.