আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

0

বিনোদন ডেস্ক:

ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত গুণী নির্মাতা, অভিনেতা ও পরিচালক আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (২০ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আমজাদ হোসেনের বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীকসহ আরও কয়েকজন। সেসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের এই আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা শেষে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বের হলাম। তিনি বেশ অনেক্ষণ আমাদের সময় দিয়েছেন। আমাদের সব কথা শুনেছেন। চিকিৎসার জন্য সব দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন। বাবার চিকিৎসার জন্য যা করা দরকার তাই করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদি বিদেশে নিয়ে যেতে হয় সেটাও করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

সকালে দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে পারেন, বরেণ্য চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। 
মঙ্গলবার সকালে আমজাদ হোসেনের ছেলে নির্মাতা সোহেল আরমানের ঘুমটাও ভাঙে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের ফোনে। জানান, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। এরপরই বেলা ১২টার দিকে আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, সোহেল আরমান ও পরিচালক এসএ হক অলিক দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
বিষয়টি নিয়ে সোহেল আরমান বলেন, ‌‘খুব তড়িঘড়ির মধ্যে আমরা গণভবনে পৌঁছাই। গিয়ে দেখি, আমাদের জন্য ইমার্জেন্সি পাস রাখা। কর্মকর্তারা আমাদের নিয়ে গিয়ে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আসেন। তিনি যে বাবাকে এতটা সম্মান ও পছন্দ করেন তা সেখানে গিয়ে টের পেয়েছি। সকালে খবরের কাগজের মাধ্যমে নাকি তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাঁর বোনের (শেখ রেহানা) সঙ্গেও আলোচনা করেন, বাবার বিষয়ে কী করা যায় তা নিয়ে।’
প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, জানতে চাইলে এ নির্মাতা আরও বলেন, ‘‘তিনি মূলত বাবাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। বলেন, আমজাদ ভাইয়ের এ ঘটনা কীভাবে ঘটল! এরপর বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টি দেখছি। দরকার হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে আমজাদ ভাইকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে এর আগে আমার চিকিৎসকরা উনার শারীরিক পরীক্ষা করবেন। কারণ উনার অবস্থা যদি কিছুটা স্থিতিশীল না হয়, সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলো রোগী ফিরিয়ে দেয়।’ বাবার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন।’’
প্রায় ৪০ মিনিট প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
হঠাৎ এভাবে কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া প্রসঙ্গে সোহেল আরমান আরও যোগ করে বলেন, ‘আসলে আমরা সত্যিই আপ্লুত, প্রধানমন্ত্রী এভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন নির্বাচনের সময়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সাক্ষাত করবো, তাও আমরা ভাবিনি। এখানে অনুদান বা টাকা-পয়সার বিষয় নয়। তিনি আমাদের ডেকে নিয়ে আজ যে সম্মান বাবাকে দিলেন, সন্তান হিসেবে আমরা ভীষণ গর্বিত হয়েছি।’
এদিকে জানা যায়, সকালেই (২০ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসকের বিশেষ দল রাজধানীর তেজগাঁয়ের ইমপালস হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
হাসপাতালটির আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন এই খ্যাতিমান নির্মাতা। গতকাল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও আজ কিছুটা ভালো বলে জানা গেছে।
সোহেল আরমান বলেন, ‌‘চিকিৎসকদের মতে স্বাভাবিক মানুষের প্যারামিটার ১৫ থাকে। খুব ক্রিটিকাল অবস্থায় এটি ৪-এর নিচে চলে যায়। বাবার গতকাল ৪ ছিল; আজ তা বেড়ে হয়েছে ৫। এটা খুব যে ভালো অবস্থা, তা মোটেও বলা যাবে না। তবে উন্নতি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এটা যদি ৬ বা ৭-এ যায়, তবে বাবাকে দেশের বাইরে স্থানান্তর করা যাবে।’
১৮ নভেম্বর সকালে নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে আমজাদ হোসেনের স্ট্রোক হয়। তাকে দ্রুত রাজধানীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক মহিউদ্দিন। তিনি জানান, আমজাদ হোসেন এখন পর্যবেক্ষণে আছেন। ৭২ ঘণ্টা পার হলে তার বিষয়ে নতুন করে রিপোর্ট তৈরি করা হবে।
চলতি বছরই থাইল্যান্ডের সুকুমভিত হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। সে সময় তার ক্ষুদ্রান্ত্রে দুটি সফল অস্ত্রোপচার হয়েছিল।
৭৬ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নানা ধরনের কাজের জন্য সমাদৃত। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি একাধিক চলচ্চিত্র জাতীয় পুরস্কারের সম্মান পেয়েছেন। নিজের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

সাব্বির// এসএমএইচ//২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.