জীববৈচিত্র্য রক্ষায় টাঙ্গুয়া গড়ে উঠছে নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র

0

ভ্রমণ ডেস্ক:

জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই টাঙ্গুয়া হাওরে গড়ে উঠছে নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র। টাঙ্গুয়া হাওরের জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা যাচাই ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনায় এমন কথাই জানালেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান। আর এরই মধ্য দিয়ে তাহিরপুর উপজেলাবাসীর পর্যটন উপজেলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। পর্যটকদের জন্য শ্রীঘ্রই হাওরে তৈরী হচ্ছে ৫টি নান্দনিক কটেজ, নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ১২ জন টুরিস্ট গাইড ও কুকার।

রামসার সাইট টাঙ্গুয়া হাওর, ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্প, লাকমা ছড়া, বারেক টিলা, এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান, হাওলি জমিদার বাড়িসহ আরো বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার হাওর বেস্টিত মেঘালয় সীমান্ত উপজেলা তাহিরপুরে।

৯০ দশকের শুরুতে হাতে গুনা কিছু ভ্রমণ পিয়াসু মানুষের পদচারণা পড়ে তাহিরপুরের এসব দর্শনীয় স্থানগুলোতে। পরবর্তীতে ২০০০ সালের শুরু থেকেই অনাকাঙ্খিতভাবে বেড়ে যায় দর্শনার্থীদের পদচারণা। আর এ থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাহিরপুরবাসীর পক্ষ থেকে দাবি ওঠে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের মার্চ মাসে টাঙ্গুয়া হাওরসহ তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। এ লক্ষ্যে গত বুধবার ১২ জুলাই বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান স্থানীয় জন প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বসাধারণের সাথে মত বিনিময় সভা করে টাঙ্গুয়া হাওরে শ্রীঘ্রই পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান।

কান্ট্রিট্যুরিজম বাংলাদেশ এডমিন রাসেল ভুঁইয়া জানান, তাহিরপুর উপজেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থানেই পর্যটন কেন্দ্র করার মত। টাঙ্গুয়া হাওরে আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় ভ্রমণকালীন সময়ে রাতের বেলা পর্যটকরা নৌকায় থাকেন। কটেজ নির্মিত হলে সে সমস্যা কিছুটা কমবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার। টাঙ্গুয়া হাওরে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে তাহিরপুরবাসী আনন্দিত।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম বলেন, আমিও একজন ভ্রমণ পিয়াসু মানুষ। তাহিরপুর উপজেলায় অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। প্রতিটি স্থানেই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার মত। পর্যটন কেন্দ্রের নামে আমরা যেন হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না করি।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। টাঙ্গুয়া হাওরের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় সাবাইকে দায় দায়িত্ব নিতে হবে। যাতে পর্যটনের নামে টাঙ্গুয়া হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না হয়।

সাব্বির// এসএমএইচ//৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.