চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক উপেক্ষা করেই বিএনপি নেতা কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণা

0

বশির আলমামুন,চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে গত পাচঁদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। আর ‘গ্রেপ্তার আতঙ্ক’ উপেক্ষা করেই প্রার্থীদের সাথে প্রচারণায় যোগ দিয়েছেন দলের নেতকর্মীরা। এগিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষও। ফলে প্রচারণায় নেমেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা। গত সোমবার বিকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরে আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর চার আসনের দুই প্রার্থী গত বুধবার সকাল থেকেই প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেন। এরা হলেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। এছাড়া জেলে থাকায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন নি। তবে তার পক্ষে আনুষ্টানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পর তিনি শাহাদাতের পক্ষে হোটেল টাওয়ার ইন পর্যন্ত র‌্যালি করেন এবং ভোট চান। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ারখালী) আসনের প্রার্থী ও নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান গত বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করেন। তবে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে গতকাল বিকেলে নগরীতে ঘুরে বিএনপি প্রার্থী ও নেতা কর্মীদের ভোটারদের কাছ থেকে ভোট চাইতে দেখাগেছে। তারা নগরীর অলি-গলি এবং বাসা-বাড়িতে গিয়ে নারী পুরুষের কাছ থেকে ভোট চাইছে। সালাম দিচ্ছে, কাইকে বুকে টেনে নিচ্ছে, কারো মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, কুমল বিনিময় করছে। এসময় নেতাকার্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন পুরো এলাকা। গণসংযোগকালে ভোটরদের মাঝে প্রচারপত্র বিলি করেন নেতাকর্মীরা।
পরে জামালখাল খান ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্পটে ডা. শাহাদাতের পক্ষে নেতার্মীরা গণসংযোগ করেন। প্রসঙ্গত, ডা. শাহাদাত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি। গত ৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্টের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেন তাকে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছি। তারা ভোটাধিকার ফিরে পেতে মরিয়া। প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। তবে প্রশাসনের অসযোগিতা পাচ্ছি পদে পদে। গত দুইদিনে মিথ্যা মামলায় আমাদের ছয়জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার আতঙ্ক উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাশেদ খান বলেন, (আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) সাথে গণসংযোগ করেছি। প্রচুর সাড়া পাওয়া গেছে সাধারণ মানুষের। যেখানেই গেছি জনসভার মত লোক এসে জড়ো হচ্ছে। মহিলারা পর্যন্ত রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন।’ ‘কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক আছি। তিনি বলেন, আর কতদিন ঘরে বসে থাকা। ঘরেও তো নিরাপদ নয় আমরা। রাতের আঁধারে বাসায় হানা দিচ্ছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করছে। এর চেয়ে রাজপথই ভাল। সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে এসেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছে। সাধারণ মানুষও সাড়া দিচ্ছে। এবার গণতন্ত্রের জয় হবেই। তিনি বলেন প্রত্যেক ওয়ার্ড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। সব মামলায় রাজনৈতিক। নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আসতে পারছে না। নির্বাচন উপলক্ষে দলের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য এসে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা সরাসরি মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছে। অনেকে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসলেও পুলিশ তাদের আটক করে হয়রানি করছে। তবে ইতিমধ্যে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল সকালে ছোটপুল এলাকায় করিম নামে এক পথচারী বলেন, গতবারও ভোট দিতে পারে নি। এবার পারবো কি না জানি না। তবে আশাবাদী। ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিব। যার মাধ্যমে এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন হবে তাকেই বেছে নিব।
এদিকে গ্রেফতার আতঙ্কে নগরীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্ধের পরম মঙ্গলবার রাতে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরুর মেহেদীবাগস্থ বাস ভবনের সামনে থেকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ডিবি পরিচলে তুলে নিয়ে যাওযা হয় ডবলমুরিং থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর সেকান্দর আলমকে।
বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। নেতাকর্মীদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বিএনপি বৃহৎ দল হয়েও প্রচারণার জন্য নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে পাচ্ছি না। যার ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছি।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.