সহসাই বাড়ছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমান ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে তা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করা হচ্ছে। বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ের প্রস্তাবটি নিয়ে নতুন সরকার কাজ শুরু করছে। প্রস্তাবটি দ্রুতই নতুন মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা হেছে।

এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি যেহেতু সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চিন্তাভাবনা করেই এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুপরিকল্পনা ছাড়া তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিতে চাই। কারণ প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তিনি তা করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বয়স বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব তৈরি করেছে কি না জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, মাত্রই তো এই মন্ত্রণালয়ে যোগ দিলাম। এখন এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের সাধারণ গড় আয়ু বেড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ জনগণও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন। এর সঙ্গে বিভিন্ন মহলও চাইছেন এই বিষয়ে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসুক সরকার। তাই বলতে পারি সহসাই এ বিষয়ে একটি পজিটিভ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ে গত আগস্ট মাসে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। সে সময় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রতিমন্ত্রী এর সারসংক্ষেপ দেখেছেন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ বয়স বর্তমানে ৩০ বছর। আর অবসরের বয়স ৫৯ বছর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রস্তাব তৈরি করা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।

জানা গেছে, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর। ১৯৯১ সালে তা বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়। এরপর আর বয়সসীমা বাড়েনি। তবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ থেকে দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। অবসরের বয়স বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা কমে যায়। এরপর থেকেই চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবি আবারও সামনে চলে আসে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম সভায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়। এর আগে কমিটির ২১তম সভায় ৩২ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং ১লা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.