বই পড়ার নেশা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে গেছে:তথ্যমন্ত্রী

0

 চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বইপড়ার নেশা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে যাওয়ায় সমাজে বিরূপ প্রভাবও পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামের উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।সুন্দর বইমেলা আয়োজনের জন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জায়গা নির্বাচনে চসিক চমৎকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার ৫৫টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে। অনুষ্ঠানমালা নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বাঙালিরা মেধাবী। ইউরোপের বাইরে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কবিগুরু। গাছের যে প্রাণ আছে প্রথম যে আবিষ্কার করেন তিনি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। বাঙালিরা যুগে যুগে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সাহিত্য পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ সাহিত্য। অনেক বই অন্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীতে সমাদৃত হয়েছে।আজ তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপ্লব। গত ১০ বছরে দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপ্লব ঘটে গেছে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন দ্বিতীয়বার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান তখন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ। এখন হয়েছে ৮ কোটির বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সমসংখ্যক মানুষ। দেশে কয়েক হাজার অনলাইন মিডিয়া আছে। স্থানীয় পত্রিকাসহ প্রায় ২ হাজারের কাছাকাছি পত্রিকা। ৩০টির বেশি টেলিভিশন অন এয়ারে আছে। ৪০টি লাইসেন্স পেয়েছে। আরও কয়েকটি অন এয়ারে আসবে। ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেক ইতিবাচক দিক আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আবার অনেক নেতিবাচক দিক আছে। আমার ছোটবেলায় হেমসেন লেন থেকে মুসলিম হাইস্কুলে হেঁটেই যেতাম। দু-তিনজন বন্ধু হাঁটার সময় বই পড়ে পড়ে হাঁটত। তারা যাতে বই পড়তে পড়তে ফুটপাত থেকে পড়ে না যায় সে জন্য আমরা দু-একজন পাহারা দিতাম। তখন বইপড়ার নেশা ছিল।তিনি বলেন, বইমেলার আয়োজন মানুষকে বইমুখী করার জন্য। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার জন্য। যারা বই লেখেন তারা বেঁচে থাকেন। বাংলাদেশে অনেক রাজনীতিবিদ ছিলেন। সবাইকে মানুষ মনে রাখেনি। যারা জীবনী লিখে গেছেন, বই লিখে গেছেন তারা কিন্তু বেঁচে আছেন। সমাজে অনেক গুণী মানুষ ছিলেন। অনেকে হারিয়ে গেছেন। কিন্তু যাদের সম্পর্কে কোনো পুস্তিকা বেরিয়েছে তারা বেঁচে আছেন। বই শুধু সুকোমল বৃত্তি প্রকাশ করার জন্য নয়, সমাজকে পরিশীলিত করার জন্য নয় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে বই অনবদ্য ভূমিকা রাখে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া যায়। কোনো পত্রিকা যদি নিউজ না-ও ছাপে, কোনো টেলিভিশন যদি নিউজ না-ও দেখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো মানুষ লাখো কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ইতিবাচক অনেক দিক আছে। এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে, কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করতে হবে। তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার পরিবর্তে জীবনে আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার জন্য, স্বপ্ন দেখার জন্য, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে বই তুলে দিলে তাদের জীবনে উপকার বয়ে আনবে।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সহায়তায় ১৯ দিনব্যাপী এ বইমেলার আয়োজন করেছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১১০টি প্রকাশকের স্টল রয়েছে।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে বইমেলা শুরু হবে। আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হবে। অনেক বেশি স্টল দেওয়া যাবে।তিনি বলেন, এ চট্টগ্রামে একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন বইমেলা করতো একুশকে ঘিরে। কিন্তু লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশকদের ক্ষোভ ছিল। নাগরিক সমাজের দাবির প্রেক্ষিতে এবারের বইমেলা সাজিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা সফল হয়েছি। অনেক প্রকাশক স্টল দিয়েছে, অনেক নতুন বই মেলায় এসেছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে বইমেলা হবে।স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা।বক্তব্য দেন বইমেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, বইমেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, সচিব সুমন বড়ুয়া ও যুগ্ম সচিব জামাল উদ্দিন।নাজমুল হক ডিউক বলেন, এবার নতুন উদ্যমে একুশের বইমেলার আয়োজন। চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আমরা যদি বই কিনি তবে প্রকাশকরা আগামীতে মেলায় আসার আগ্রহ দেখাবেন।জামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা হচ্ছে। আগে বিক্ষিপ্ত বইমেলা হতো। সম্মিলিত একুশে বইমেলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব, আমাদের প্রকাশনা শিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বইমেলা সফল করুন।
 নিলা চাকমা/এসএমএইচ//  রোববার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৮ মাঘ ১৪২৫
Share.

Comments are closed.