কম সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারের বাইরেই রেখে সংশোধনের নির্দেশ:প্রধান বিচারপতি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডিত অপরাধীদের সাজা ভোগের ক্ষেত্রে কারাগারের বাইরে রেখে আসামির সংশোধন-সংক্রান্ত ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০’ এর বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ ও প্রতিপালনের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান বলেন, কারাগারের বাইরে আসামিকে রেখে তার সংশোধনে সুযোগ দিতে আমাদের ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০’ নামে একটি আইন রয়েছে। কিন্তু আইনটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্বল্প সাজার আসামিরা কারাগারে বড় বড় অপরাধীদের সঙ্গে থেকে ভবিষ্যতে বড় অপরাধী হয়ে গড়ে উঠছে। তাই এ সংশ্লিষ্ট আইনের বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় প্রায় সর্বক্ষেত্রেই দণ্ডিত অপরাধীদের সাজা ভোগের নিমিত্ত কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এতে দেশের কারাগারসমূহে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়াসহ দেশের একটি প্রচলিত আইনের বিধানকে সরাসরি অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ফলে কারাগারের পরিবেশসহ সমাজে এক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে চলেছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০’ এর বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে দেখা দিয়েছে। এখানে কর্তব্য যে, আমাদের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীকে সবক্ষেত্রেই সাজা আরোপ করা আইন সমর্থন করে না; কেন না সাজা প্রদানের অন্যতম উদ্দেশ্য সংশোধনমূলক, প্রতিহিংসামূলক নয়।

সাজা প্রদানের উক্ত আদর্শিক বিষয় বিবেচনায় রেখে অপরাধীদের বয়স, পূর্বাপর আচার-আচরণ, দৈহিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত আইনের বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। কোনো অবস্থাতেই প্রচলিত আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা (Ignore) করা বা প্রয়োগ না করা শুধুমাত্র অনাকাঙ্ক্ষিতই নয় বরং অসদাচরণের (Misconduct) শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০’ এর ৪ ধারার বিধান অনুযায়ী পূর্বে দণ্ডিত হয়নি এমন কোনো অপরাধী অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে আদালত অপরাধীর বয়স, স্বভাব-চরিত্র, প্রাক-পরিচয় অথবা শারীরিক বা মানসিক অবস্থা এবং অপরাধের ধরন অথবা অপরাধ সংঘটনে শাস্তি লাঘবকারী পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক যদি মনে করেন যে, দণ্ডপ্রদান অসমীচীন এবং প্রবেশনের আদেশ প্রদান করা যথাযথ নয়, তাহলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে সতর্ক করে অপরাধীকে অব্যাহতি দিতে পারেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে আদেশে বিবৃত সময় হতে অনধিক এক বছর সময়ের জন্য কোনো অপরাধ না করার এবং সদাচরণে থাকার শর্তে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়া মুচলেকা প্রদানে বিমুক্ত হওয়ার আদেশ দিতে পারেন।

শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতির এরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত অপরাধীকে সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেবেন যে, ঐ সময়কালে কোনো অপরাধ সংঘটন করলে বা সদাচরণের মধ্যে না থাকলে সে মূল অপরাধের জন্য প্রদত্ত সাজা ভোগ করবে।

তাই দণ্ডিত অপরাধীদের সমাজের মূলস্রোতে পুনর্বাসনের এবং সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে অধস্তন ফৌজদারী আদালতসমূহকে উপযুক্ত ক্ষেত্রে ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০’ এর বিধানাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশিত হয়ে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

তবে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনাবলী অনুসরণে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে বা কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ওই আইন প্রতিপালনে অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনার জন্য স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ//  মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৩০ মাঘ ১৪২৫
Share.

Comments are closed.