আমি কোন মন্ত্র-টন্ত্র জানিনা: পড়শী

0

বিনোদন ডেস্ক :

সত্যি কোনো মন্ত্র-টন্ত্র জানি না। এখন কেউ যদি বলেন, প্রতিটি আয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপন করছি- তাহলে বুঝব যা চেয়েছি, তার কিছুটা হলেও করতে পেরেছি। কারণ বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা করছি, ভিন্ন ধাঁচের গান করার। আমার মনে হয়েছে, এখনই সময় নিরীক্ষাধর্মী কাজের। সে ভাবনা থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন দেখা যাক কতটুকু কী করতে পারি।’ পড়শীর মুখে এমন কথা শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

কেননা এরই মধ্যে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অগণিত শ্রোতার মন জয় করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন সঙ্গীত ক্যারিয়ারের বেশ খানিকটা পথ। সময়ের সঙ্গে পথ চলতে গিয়ে তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে শ্রোতার ভালোলাগা, মন্দলাগার বিষয়টি। এ কারণেই সাহসী হয়ে উঠেছেন নিরীক্ষাধর্মী কাজে। শুধু তাই নয়, গায়কীতে নিজেকে ভেঙে বারবার শ্রোতার মন জয় করার বিষয়টিও সহজে আয়ত্ত করতে পেরেছেন। তার গাওয়া ‘আনাড়ি’, ‘চুপি চুপি’, ‘বড় একা’, ‘নিঃস্ব’, ‘রাস্তা’, ‘মন নাজেহাল’, ‘অনুশোচনা’, ‘না বলা ভালোবাসা’, ‘উড়েছে ধুলো’, ‘হৃদয় আমার’, ‘একলা প্রহর’, ‘পলকে পলকে’, ‘আবাহন’সহ সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিটি গানেই সে ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবার পড়শী ভক্তদের চমকে দিতে দুটি জনপ্রিয় গানের কভার করেছেন। ‘টাইটানিক’ ছবিতে শিল্পী সিলন ডিয়নের গাওয়া ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ এবং বিশ্বনন্দিত ব্যান্ড ঈগলসের ‘লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ’ গান দুটি স্বকণ্ঠে রেকর্ড করা প্রসঙ্গে পড়শী বলেন, “এই আইডিয়াটা আমার নয়, হৃদয় খানের। ক’দিন আগে তার স্টুডিওতে গিয়েছিলাম একটি ছবির গান রেকর্ড করতে।

গান রেকর্ডিং খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় হৃদয় খান বলেন, এসো খানিকটা জ্যামিং করি। ব্যস আমরা বসে যাই ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ গানের জ্যামিং নিয়ে। তখনই হৃদয় খানের মাথায় আসে গানটি কভার করা যায় কি-না। তিনি পরিকল্পনার কথা বললে আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর এই গানের পাশাপাশি ঈগলস ব্যান্ডের ‘লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ’ গানটিও কভার করি। এই হলো দুটি জনপ্রিয় গান কভার করার গল্প।” পশড়ীর কাছে জানা হলো প্রথম ইংরেজি গান কভার করার গল্প।

হৃদয় খান অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পেতে যাওয়া এই গান দুটি ভক্তদের মনে কতটা অনুরণন তুলবে- তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে পড়শী কভার নয়, মৌলিক গানের মধ্য দিয়ে শ্রোতার ভালোবাসা পেতে আগ্রহী। তার কথায়, সৃষ্টির আনন্দ তো মৌলিক কাজের মধ্যে থাকে। তাই নতুন কিছু করার বাসনায় দিন-রাত একাকার করে কাজ করে যাচ্ছেন। একক গানের পাশাপাশি ব্যান্ড বর্ণমালার নিরীক্ষাধর্মী কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এর পাশাপাশি ‘যদি একদিন’সহ বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাকও করেছেন। স্টেজ শো আর টিভি আয়োজনও রুটিন-বাঁধা কাজের মধ্যে রয়েছে তার। কিন্তু এতকিছুর পরও পড়শীর ভাবনা একটাই- সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়া। তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়। এ জন্য আমরা যারা শিল্পী তাদেরও লড়াই করে যেতে হয় সময়ের চাহিদা পূরণে। সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/   বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০১৯, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৫

Share.

Comments are closed.