আগামীতে নিরাপত্তার বিষয় খতিয়ে বিদেশে ক্রিকেট টিম পাঠাবো: প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

আল্লাহ তালার কাছে সুক্রিয়া আদায় করি যে আমাদের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা ওই মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিল কিন্তু আহত এক মহিলা তাদের ঢুকতে নিষেধ করে। তাই তারা প্রাণে রক্ষা পায়। আগামীতে যেখানে আমাদের ক্রিকেট টিম পাঠাবো অন্তত তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভালভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা পাঠাবো। আমাদের দেশে যারা খেলতে আসে তাদের আমরা যথাযথ নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকাল ১০টায় তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ভুলতার চার লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার উদ্বোধনের আগে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য গভীর শোক জানাচ্ছি। মসজিদের ভেতরে ঢুকে ৪৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন বাংলাদেশি আছেন। এছাড়া ডজন খানেক লোক আহত হন। এ ধরণের ঘৃণ্য ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় মানুষকে হত্যা করার মতো জগণ্য কাজ আর হতে পারে না। যারা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তাদের কোনও ধর্ম নেই, জাতি নেই, দেশও নাই। সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক কষ্টে আমাদের দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দমনে সক্ষম হয়েছি। তারপরও অনেকে প্রশ্ন তুলেন। কিন্তু জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস কখনো মানুষের মঙ্গল করতে পারে না। ধর্মীয় স্বাধীনতা সকল মানুষের স্বাধীনতা। আমাদের দেশের মানুষ সহজভাবে যার যার ধর্ম সঠিকভাবে পালন করতে পারে। সে সুযোগটা আমরা করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। সেখানে কেন এমন ঘটনা ঘটবে?

এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চারলেন ফ্লাইওভার এবং লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওবায়দুল কাদেরের জন্য দোয়া করবেন, যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে এসে পুরো উদ্যমে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নিয়ে আমাদের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনেক আগ্রহ ছিল। কথা ছিল সেখানে গিয়ে আমি ব্রিজটি উদ্বোধন করবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওবায়দুল কাদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওবায়দুল কাদের ফিরে এলে তাকে নিয়ে ব্রিজ পরিদর্শনে যাবো।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে নির্মিত ৩৯৭ দশমিক ৩ মিটার দৈর্ঘ্যের চারলেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা। এছাড়া আগের কাঁচপুর সেতু পুনর্বাসনের ফলে এর আয়ুষ্কাল নির্ধারিত ৫০ বছর মেয়াদের সঙ্গে আরও ৪০ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৫৩ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে ৫৪ দশমিক ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/ /  শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯

Share.

Comments are closed.