ইহকালের মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন টেলিসামাদ

0

বিনোদন ডেস্ক:

 

আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে গুণী এই অভিনেতা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

প্রায় এক বছর ধরেই শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে হাসপাতাল-বাসায় আসা-যাওয়া করছিলেন টেলিসামাদ। এর মধ্যে শরীরে অস্ত্রোপচারও করা হয়।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টায় হঠাৎ করেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন টেলি সামাদ। তার পরই তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। গতকাল শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা গেলেন তিনি।

সত্তরের দশকের শুরুতে রূপালি পর্দায় পা রাখা টেলিসামাদ ছয় শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন টেলিসামাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। ছবি আঁকার নেশার পাশাপাশি অভিনয়ের নেশাও ছিল তাঁর।

 

১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় তাঁর।  সাড়ে চার দশক ধরে ঢালিউডে কাজ করছেন তিনি। অনিমেষ আইচ পরিচালিত  ২০১৫ সালে  টেলিসামাদের সর্বশেষ ছবি ‘জিরো ডিগ্রি’ মুক্তি পায়।

টেলিসামাদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- ‘রিকসাওয়ালার ছেলে’, ‘কুমারী মা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘মাটির ঘর’, ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’, ‘কাজের মানুষ’ ইত্যাদি। এরমধ্যে  ‘নয়নমণি’ ও ‘পায়ে চলার পথ’ ছবিতে  অভিনয়ের  কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

পারিবারিকভাবে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, খাদ্যনালির সমস্যা, রক্তে প্লাটিনাম কমে যাওয়া, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন টেলিসামাদ। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর হার্টে  বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল। এরপর  গত বছরের ২০ অক্টোবর তাঁর বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতেও জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়

 

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/  শনিবার, ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২৩ চৈত্র ১৪২৫

Share.

Comments are closed.