নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় আরও একজন গ্রেফতার

0

বিডি জার্নাল প্রতিবেদন:

মঙ্গলবার রাতে পৌর শহরের তুলাতুলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত জোবায়ের মামলার এজহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি। আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া গ্রেফতার অপর চারজনের রিমাণ্ড আজ (বুধবার) থেকে শুরু হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত বোরকা পরা চারজনকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্তত দু’জন নারী এবং একজনের নাম শম্পা বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সেই ‘শম্পা’ সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে, যার প্রকৃত নাম উম্মে সুলতানা পপি। তিনি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার শ্যালিকার মেয়ে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

রোববার তার চিকিৎসায় ৯ সদস্যের বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর ওপর এমন নির্মমতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার নুসরাত জাহান রাফি ‘ডাইং ডিক্লারেশন’ (মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্য) দেন। নুসরাত তার বক্তব্যে বলেছেন, ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে ওড়না পুড়ে গেলে তার হাত মুক্ত হয়। বোরকা, নেকাব ও হাতমোজা পরা যে চার নারী তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন, তাদের একজনের নাম সম্পা বলে জানান নুসরাত।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

ওই ছাত্রীর স্বজনরা বলেন, ‌২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্নীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করেন তার মা। ওই মামলায় অধ্যক্ষ কারাগারে রয়েছেন। মামলা তুলে নিতে অধ্যক্ষের লোকজন হুমকি দিয়ে আসছিল বারবার।

তারা জানান, আলিম পরীক্ষা চললেও আতঙ্কে স্বজনরা পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন। মামলা তুলে না নেওয়াতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় নুসরাতকে।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/ বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২৭ চৈত্র ১৪২৫

Share.

Comments are closed.