রাফি হত্যা মামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

0

বিডি জার্নাল প্রতিবেদক:

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামি আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কাদেরকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১৭ এপ্রিল) পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনোজ কুমার মজুমদার  জানান, পীরেরবাগে বড় ভাই আব্দুর রহিমের বাসায় এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আব্দুল কাদির আত্মগোপনে ছিলেন। কাদিরের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পিবিআইয়ের একটি টিম তাকে ধরতে অভিযান চালায়।

পিবিআই প্রধান জানান, হাফেজ আবদুল কাদির নুসরাত হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

পিবিআই জানায়, নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কারাগারে রয়েছেন। নুসরাত হত্যা মামলার আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত, শামীমরা গত ৪ এপ্রিল কারাগারে অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে দেখা করেন। ওইদিন নুসরাতকে হত্যার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজ তাদের নির্দেশ দেন।

অধ্যক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পরদিন ৫ এপ্রিল মাদরাসার পশ্চিম হোস্টেলের একটি কক্ষে পরিকল্পনাকারীরা বৈঠক করেন। ওই কক্ষটিতে হাফেজ আব্দুল কাদির থাকতেন। নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে হাফেজ আবদুল কাদির প্রথম থেকেই জড়িত ছিলেন—জানায় পিবিআই।

পিবিআইয়ের প্রধান বনোজ কুমার জানান, ৫ এপ্রিলের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত হয় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে। এ জন্য তিনটি বোরখা ও কেরোসিন কিনতে কামরুন্নাহার মনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মনি ৬ এপ্রিল সকালে এক লিটার কেরোসিন ও তিনটি বোরখা মাদরাসা প্রাঙ্গণে অবস্থিত সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে রাখেন।  ওইদিন সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যান নুসরাত জাহান রাফি। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টার দিকে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে কেরোসিন ঢেলে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানো হয়। আগুনে গুরুতর দগ্ধ হন নুসরাত।

এদিকে ব্দুল কাদিরের মামা মাহবুবুল আলম জানান, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার অনুগত হিসেবে আব্দুল কাদির ওই মাদরাসার হোস্টেলে থাকতেন।

আগুনে দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নুসরাতকে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই ৮ এপ্রিল মামলা করেন। ওই মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে আট আসামির নাম এজাহারে রয়েছে।

 

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/১৭ এপ্রিল ২০১৯, ৪ বৈশাখ ১৪২৬

Share.

Comments are closed.