গরমে সতেজ থাকবো যেভাবে

0

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

ভ্যাপসা গরমে আমাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমরা সহজেই হয়ে পড়ি ক্লান্ত। শরীর ভেঙে পড়ে একটু পরিশ্রমেই। শ্রমজীবী মানুষের প্রাণ হয়ে ওঠে ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড গরমে অস্থির হয়ে ওঠছে চারপাশ। সর্বত্রই অস্বস্তিকর অবস্থা। মাঝে মাঝে বৃষ্টির দেখা পেলেও গরম কমছে না। মাঝে মধ্যে বিশেষ করে মাঝ রাতে আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে পরিবেশ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গত কয়েক মাস ধরে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অবস্থার কারণে তাপমাত্রার চেয়ে আরও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এই গরমে। চরম এই গরমের অজুহাতে কিন্তু বসে থাকার সুযোগ নেই কর্মমুখী মানুষের। জরুরি প্রয়োজনে নানা কাজে, এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে হয়। বর্ষার এই ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী ও শিশুরা। কর্মজীবী নারী ও স্কুল-কলেজমুখী ছাত্রছাত্রীদের পড়তে হয় সীমাহীন বিড়ম্বনায়। আর চরম এই গরমে রোগ-শোকও বাড়ছে। এই অবস্থার মাঝেও ফিট রাখতে হবে নিজেকে।
এ ভ্যাপসা গরমে সতেজ থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হসপিটালের চিফ ডায়েটিশিয়ান সেলিনা বদরুদ্দিন বলেন, আমাদের খাবারের মেনুতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই সম্ভব অনেকটা সতেজ এবং সজীব থাকা। বর্ষার ভ্যাপসা গরমে পানি, শরবত ও জুসজাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেলে শরীর সতেজ থাকে। এছাড়াও এমন কিছু খাবার আছে যা থেকে আপনি পেতে পারেন বিশেষ পুষ্টি যেটা এই সময় বেশি প্রয়োজন।

পানি জাতীয় খাবার বেশি খান

শরীরে পানির প্রয়োজন হয় সারা বছরই এবং গরমে এর প্রয়োজনটা অনেক বেশি। কারণ- এ সময় শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে ক্রমাগত পানি বের হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এক গ্লাস পানি খাওয়ার চেয়ে যদি আমরা এমন একটি ফল খাই যাতে পানির পরিমাণটা সমান, তবে সেটা থেকে শরীরে বেশি পরিমাণে পানি সরবরাহ হয়। এই অভ্যাসটি তাদের জন্য বেশি কার্যকরী যারা কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে চান, কারণ পানিপূর্ণ খাবার খেলে ক্ষুধা মিটে যায় এবং পানির প্রয়োজন পূরণ হয়, কিন্তু এসব খাবারে ক্যালরি খুব একটা বেশি থাকে না। তাই বলে এই নয় যে আপনি গরমে পানি খাওয়া বাদ দিয়ে দেবেন। দিনে কমপক্ষে ৮/১০ গ্লাস পানি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং এর পাশাপাশি বাড়িয়ে দিন ফল খাওয়া। প্রকৃতির নিয়ম এমনই যে সময় আমাদের শরীরের জন্য দরকারি উপাদানগুলো ঠিক সেই মৌসুমের ফল ও শাকসবজি বাজারে পাওয়া যায়। এমন অনেক ফল এ সময় পাওয়া যায় যার বেশির ভাগই পানিসমৃদ্ধ। এসব ফল শুধু পানির অভাবই মেটায় না বরং শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো বের করে দেয় এবং পুষ্টি উপাদানগুলোকে পৌঁছে দেয় সারা শরীরে।

পেঁপে

বৃষ্টিভেজা ভ্যাপসা গরমে একাধিক বার গোসল করা বা মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দেয়া হোক, একটা ক্লান্তির ছাপ চেহারায় থেকেই যায়। যাকে দূর করা যায় না। যতই মেকআপ করা হোক না কেন। এর সমাধান হয়ে ওঠতে পারে পেঁপে। পেঁপের আছে ভিটামিন ই এবং কিছু এনজাইম যা ত্বকের সতেজ ভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং এই গরমেও আপনার চেহারায় আনে উজ্জ্বলতা।

ডালিম

এই গরমে জিমে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন? ভাবছেন শরীর বেশি ক্লান্ত হয়ে যাবে? এক গ্লাস ডালিমের জুস খেয়ে নিন এবং নিশ্চিন্তে রওনা হয় যান জিমের দিকে, কারণ ডালিমে আছে এমন উপাদান যা ভারী ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তাই এনার্জি ড্রিংক খাওয়া বাদ দিন এবং ডালিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শসা

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে ‘পড়ষফ ধং ধ পঁপঁসনবৎ’ এবং এটি বলার যথেষ্ট ভালো কারণও রয়েছে। শসার ৯৬ ভাগই পানি। অন্যান্য ফল ও সবজির মতো এতে অনেক অনেক ভিটামিন না থাকলেও আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে-এর চাহিদা পূর্ণ করতে পারে এই বহুল প্রচলিত খাবারটি। আপনার প্রতিদিনের সালাদে রাখুন অনেকখানি শসা। গরমে প্রাণ জুড়াতে শসা এবং পুদিনা পাতার শরবত খেতে পারেন।

ডাব

ডাবের পানির পুষ্টিগুণ যে কোনো এনার্জি ড্রিংকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি এবং এটি ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল মুক্ত। এতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে পটাশিয়াম যা গরম কমানোর অন্যতম একটি উপাদান। দিনে একটি করে ডাবের পানি কাজ করতে পারে স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে। এর থেকে ক্যালরি পাওয়া যায় কম তাই ডায়েট কোলা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন ডাবের পানি।

মশলাদার খাবার খান

মশলাদার খাবার খেলে গরমে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হয়। অনেকের বেলায়ই তা ঘটে। কিন্তু এটাও সত্যি যে ঝাল/মশলা দেয়া খাবার খেলে শরীরে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়, বিশেষ করে ত্বকের নিচের রক্ত প্রবাহী জালিকাগুলোতে। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা সমানভাবে বণ্টন হয়। এছাড়া মশলার প্রভাব একটু কমে এলেই মনে হয় তাপমাত্রা অনেক কমে গেছে। খাবারে এমন কিছু মশলা/ফ্লেভার যোগ করতে পারেন যেগুলোর আছে শরীর ঠাণ্ডা রাখার ক্ষমতা যেমন এলাচি এবং পুদিনা পাতা।

বর্ষার গরমে এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার

আইসক্রিম ও বরফ ঠাণ্ডা ড্রিংকস খেতে যতই ভালো লাগুক না কেন, এগুলো আসলে আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমায় না বরং এসব খাবার হজম হতে শুরু করলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া শুরু করে। ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানির বদলে রুম টেম্পারেচারের খাদ্য/পানীয় বেছে নিন। আইসক্রিমের বদলে খেতে পারেন মিষ্টি বা টকদই। আইসড কফির বদলে খেতে পারেন হারবাল টি। কমিয়ে দিন মাংস এবং চর্বি/তেল খাওয়ার পরিমাণ। ডুবো তেলে ভাজা এবং উচ্চ তাপে রান্না করা বাদ দিয়ে কম আঁচে রান্না করা এবং সেদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাড়িয়ে দিন কাঁচা ফল এবং সবজি খাওয়ার পরিমাণ।

প্রতি বেলার খাবার ঠিক রাখুন

যারা ডায়েটিং করেন কিংবা ব্যস্ততার কারণে খাবার বাদ দেন তারা গরমের সময় এই কাজটি ভুলেও করতে যাবেন না। এতে করে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই সময় ভালো, পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যকর এবং পানি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অনেক বেশি জরুরি শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য। প্রতিদিন পরিমিত ঘুমাবেন, দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলবেন। পেটের অসুখ যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। নিজের প্রতি আস্থা রাখুন, সব সময় পজেটিভ ধারণা পোষণ করুন। আপনার সব চাওয়া-পাওয়ার জন্য স্রষ্টার সাহায্য প্রার্থনা করুন। জীবনের সব ক্ষেত্রে বিধাতার নিয়ম-নীতি মেনে চললে আপনার সুখ, সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/বুধবার ১৫ মে ২০১৯, ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

 

Share.

Comments are closed.