ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ বৃদ্ধির ঘোষণায় পাশ্চাত্যের উদ্বেগ

0

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক :

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ইউরোপীয় দেশগুলো।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলছে ইরান। তাদের এই কর্মকাণ্ডের চরম মূল্য দিতে হবে।

হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে ইরানকে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন সরকার এমন সময় ইরানকে এ সমঝোতা মেনে চলার আহ্বান জানাল যখন খোদ ওয়াশিংটন এক বছরেরও বেশি সময় আগে এটি থেকে বেরিয়ে গেছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তার ফেডেরিকা মোগেরিনির মুখপাত্র মায়া কোচিজানচিচ বলেছেন, ইইউ ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরান যতদিন পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ততদিন এটি বাস্তবায়ন করে যাবে।

মোগেরিনির মুখপাত্র এমন সময় এ দাবি করলেন যখন আইএইএ’র পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি প্রতিবেদনে পরমাণু সমঝোতার প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেয়া হলেও ইইউ এ সমঝোতায় ঘোষিত অধিকার ইরানকে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানে ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়ানোর ঘোষণা সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন, তার সংস্থা কূটনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে সব সময় পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে এসেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে এই আন্তর্জাতিক চুক্তির বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে আইএইএ’তে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানোভ ভিয়েনায় বলেছেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কারণে তেহরান এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ৩০০ কেজি ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা পরমাণু সমঝোতায়ই বলা হয়েছে এবং এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সোমবারঘোষণা করেন, তার দেশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ৩০০ কেজির সীমা বাড়িয়েছে।

ইরানের এই ঘোষণার এর কিছুক্ষণ পর আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ভিয়েনায় একথার সত্যতা নিশ্চিত করে।

আইএইএ’র এ ঘোষণার পরই পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য ছয় জাতির সঙ্গে তেহরান যে চুক্তি করেছিল গত বছরের মে মাসে তা থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপরই তিনি ইরানের ওপর নতুন করে পারমাণবিক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করেন।

দিন কয়েক আগেই ইরানের ওপর নতুন করে ‘কঠোর’নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুলল্লাহ খামেনিসহ আরো আটজন ইরানি কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

সম্প্রতি ওমান সাগরে দুই মার্কিন তেল ট্যাঙ্করে বিস্ফোরণ এবং ইরান কর্তৃক একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার জের ধরে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে তিনি ইরানের ওপর সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েও তা থেকে সরে আসেন।

গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘কঠোর’আখ্যায়িত করে বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো দাবি করেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে লক্ষ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

 সাব্বির//২রা জুলাই, ২০১৯ ইং ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.