মেঘনাপাড়ে প্রাণবন্ত বিকেল

0

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

জীবনের গতি যেমন থেমে নেই। তেমনি নদী স্রোতের জোয়ার-ভাটাও থেমে নেই। পড়ন্ত বিকেলে ক্লান্তি ভরা মন নিয়ে ছুটে চলা গন্তব্যহীন নদীর পাড়ে। মনের গহিনে শনশন শব্দে বেজে উঠে মন। অচেনা পথে পা বাড়িয়ে এগিয়ে যেতে থাকি দুর অজানায়। দেখা অদেখা গ্রামীণ উপকূলীয় অঞ্চল মেঘনার পাড়। বলছি লক্ষ্মীপুরের রামগতি- কমলনগরে মেঘনাপাড়ের মনোরম দৃষ্টিতে আকৃষ্ট দৃশ্যের কথা। চোখ জুড়ে পানির খেলায় মেতে উঠে রাশি রাশি জলকণা। মাঝি নৌকা নিয়ে যায় মাছ শিকারে।

পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের ঝিকমিক রৌদ্রে পানি জলমল করে। চোখের কোনে লালচে বাদামী রং। দুরে দেখা যায় ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা। মাঝি আপন মনে গান গেয়ে পাল তুলে জাল পেলে দৌড়ে বেড়ায়। অতিথি পাখির আগমনে হাওয়া বদলে যায়। মধুর কণ্ঠে ডাকতে থাকে নদীর ধারায়। নদীর পাড় দিয়ে সারি সারি জাহাজের যাতায়াত দেখতেই মন চাই।

কথাগুলো বলছি, রামগতি-আলেকজান্ডার, কমলনগরে- মাতাব্বর হাট-মতিরহাট মেঘনাপাড়ে মনোমুগ্ধকর সৈকতের। এখানে পড়ন্ত বিকেল বা সন্ধ্যা নামার মুহূর্তটা খুবই উপভোগ্য। এ স্থানগুলো পর্যটকের মনের ক্লান্তির মনকে সতেজ করে। নদী বাঁধের ব্লকের উপর বসে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে আনন্দ করা যায়।

আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়: রামগতিতে আলেকজান্ডার বাজারে দক্ষিণ-পশ্চিমে নদী বাঁধে ব্লকে দাঁড়িয়েছে মেঘনারপাড়। নদী রক্ষা বাধ আঁকাবাঁকা হওয়াতে ব্লকগুলোর দারুণ দৃশ্যের সূর্যাস্তের মাঝে হারিয়ে যায় মন। এখানে সূর্যাস্তের অবলোকনে ব্যস্ত হয়ে হুমড়ি খায় দর্শক। এটি জেলার পর্যটক কেন্দ্রগুলোর অন্যতম। এখানে ছুটে আসে দুর-দূরান্ত থেকে অতিথিরা। বিভিন্ন উৎসবে মেতে উঠে পর্যটকের ভিড়। এমন দৃশ্য হার মানায় পর্যটকদের হৃদয়।

এছাড়াও নদীর মাঝখানে অবস্থিত নতুন চর। সেখানে সবুজ ঘাসে আঁকাবাঁকা পথে পাঠক মন খুলে বেড়াতে যায়। মাঝে মাঝে এ চর হারিয়ে যায় ডুবন্ত হয়ে । আবার নিজস্ব ধারায় জেগে উঠে নদী বুকে।

মাতাব্বর হাট মেঘনাপাড়: কমলনগরে মাতাব্বর হাট এলাকাটি অত্যন্ত নতুন। এটি ছিল নদী ভাঙা কবলিত অঞ্চল। উপজেলা রক্ষার্থে মাত্র এক কিমি: নদী বাঁধে ব্লকের সারি সারি পথ। নদী রক্ষা বাঁধ শেষ হতে না হতেই ভিড় জমতে শুরু করে ভ্রমণ পিয়াসি মানুষ। রীতিমত সাড়া জাগিয়ে তোলে এখানে আসা পথচারীরা। এ স্থানটি পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এখান থেকে সূর্যাস্তে মনোরম দৃশ্য সাড়া জাগিয়ে তুলছে দর্শকের মনে। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তরুণ তরুণীদের আড্ডায়। এখানে ব্লকের উপর বসে আড্ডায় মেতে ডুবে যায় অন্যজগৎ ইন্টারনেটে।

এ স্থানটি উপজেলার খুব নিকটে। তাই স্থানীয়দের মনে এটি জায়গা করে নিয়েছে। যখন খুশি এখানে ভিড় জমে পর্যটকদের।

মতিরহাট মেঘনাপাড়: কমলনগরে দর্শনীয় স্থান মতিরহাট বাজার মেঘনার পাড়। মেঘনার কোলে দীর্ঘদিন জেগে আছে এ এলাকাটি। মতিরহাট বাজারের উত্তর-দক্ষিণ প্রান্তে মেঘনার জলের সঙ্গে মিশে একাকার সৈকত। এটাকে মিনি কক্সবাজারও বলা চলে। এটি পর্যটকের মনে জেলার মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এখানে বিকেল বেলায় সূর্যরশ্মির সঙ্গে জোয়ার-ভাটার দৃশ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করছে। এ দৃশ্যটি বেশ অতুলনীয়-ব্যতিক্রম। এছাড়াও এখান থেকে নদীর মাঝখানে মাঝের চরের দেখা মিলে। দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসে মাঝের চরে। চরের আঁকাবাঁকা পথে খালে দেখায় ডিঙ্গি নৌকোয় মাছ শিকারে মাঝিরা। গরু-মহিষ-ছাগলের মাঠে ব্যস্ত রাখাল। সবুজ ফসলের সোনালী পরিবেশ এ যেন মন পাগল করা দৃশ্য। যতদূর চোখ যায়, তত দুর কে যেন হাতছানি দেয়। মায়া পড়ে চির চেনা এ পথের চমৎকার অবলোকন দৃশ্যের।

যখন ক্লান্ত সূর্যটা হেলে পড়ে পশ্চিমা আকাশে। তখন সূর্যের মায়াবী রশ্মি যেন মেঘনার জলে মিশে একাকার। মেঘনার জলে তাকালেই ঝিলমিল আরেকটা সূর্যের খেলা। দৃষ্টির ফলকে চোখ বন্ধ করলে দেখা মিলে না লালচে রং বে রং এর সূর্যের। হঠাৎ হারিয়ে যায় কোনো অজানায়।

এখানের প্রধান আকর্ষণ মাছ ঘাট। তাজা ইলিশে ভরপুর। মাঝে মাঝে জীবন্ত ইলিশও দেখা যায়। পর্যটকরা ফেরার সময় তাজা ইলিশ নিয়ে যায়। ইলিশ দক্ষিণাঞ্চলে বড় সম্পদ। এখানে ব্লক কারখানা তৈরি হওয়াতে পাথরের জাহাজ নোঙর করে। কিছু সময় অনেক জাহাজের সমাগমে এটাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

 সাব্বির=৩রা জুলাই, ২০১৯ ইং ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.