রোহিঙ্গাদের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের জন্য পরিবেশ অনিরাপদ ও ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের কারণে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, শিগগিরই রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাবেন।

বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপশনে (জিসিএ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। একই দিনে ঢাকায় পৌঁছেছেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইনিও।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জিসিএ সম্মেলনের প্রারম্ভিক পর্ব শুরু হয়। মূল পর্ব বুধবার। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথকভাবে একান্ত বৈঠক করবেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনি এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বন্যা লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ সমস্যাগুলো আরও বাড়ছে। আমরা এসব সমস্যা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড করেছি। এ ফান্ডে প্রায় ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আমরা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা মাথায় রাখছি। ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি সৌর প্যানেল দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করছি। এছাড়া ডেল্টা প্লান ২১০০ গ্রহণ করেছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যেন টিকে থাকতে পারে সে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ থেকে বাচার জন্য সাইক্লোন সেল্টার বানিয়েছি। এসব স্থানে মানুষ নিজে এবং গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিতে পারে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর সমুদ্র ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ এবং গবাদিপশুকে বাঁচানোর জন্য মুজিব কেল্লা স্থাপন করা হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দেড় লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এবার ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানে। আমাদের সরকারের সতর্কতার কারণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরও ১০ জন মারা যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২০ ভাগ বনায়ন তৈরি করতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে গ্রীণ বেল্ট গড়ে তোলার জন্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বন্যা, খরা, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান আবিষ্কার করেছি।

দুর্গত এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় যেন খাদ্যদ্রব্য মজুত রাখতে পারে, সে জন্য সাইলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনি বিভিন্নভাবে মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাব্বির=১০ই জুলাই, ২০১৯ ইং ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.