সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি, ব্যাখ্যা চাইলেন কাদের

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করাপশান ইজ করাপশান, এর দ্বিতীয় কোন ব্যাখ্যা নেই। এখন সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন সেই বিষয়টি তার কাছে আমার জানতে হবে।

শুক্রবার দুপুরের আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডীস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় সংবাদ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কিভাবে দেখছে তা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোনো অপরাধ নয়’ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, তবে প্রমাণ করতে হবে যে ‘সরল বিশ্বাসেই’ কাজটি হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছিলেন দুদক চেয়ারম্যান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‌‘দুদকের চেয়ারম্যান, তিনি কী বলেছেন আমার ঠিক জানা নেই। তবে আমি দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখতে চাই। করাপশান ইজ করাপশান। করাপশানের দ্বিতীয় কোন ব্যাখ্যা নেই। এখন সরল বিশ্বাস বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন সেই বিষয়টি তার কাছে আমার জানতে হবে। কারো কম দুর্নীতি কারো বেশি। দুর্নীতির আলাদা কোন সংজ্ঞা নেই।’

তিনি বলেন, ‘করাপশান ইজ এ ওয়ে অফ লাইফ এ ক্রস দ্যা ওয়ার্ল্ড। করাপশান এখন সারা দুনিয়াতে হচ্ছে। কোথাও বেশি কোথাও কম। কোথাও দুর্নীতিটাকে বেশি করে দেখানো হয়। এখানে পলিটিক্যালি মোটিবেটেট বিষয় আছে যে, আমি কাউকে পছন্দ করি না তাই তাকে ঢালাও ভাবে করাপ্ট বলে সাভ্যস্থ করা। এটা দেশে দেশে আছে, এটা ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স এর এটি ধারা।’

সাম্প্রতিক নৈতিক অবক্ষয়ে রোধে সামাজিক সচেতনতায় দলীয়ভাবে কোন কার্যক্রম আওয়ামী লীগ হাতে নেবে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই বিষয়টা আমাদের গত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিরতা এই বিষয়গুলোকে টেকেল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ভাবে কঠোর হস্তে দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের বিষয়টি পূর্নব্যক্ত করেছেন। এখানে প্রত্যেকেই খোলামেলা ভাবে আলোচনা করেছেন। সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না, যা সত্য তা আমরা আলোচনা করেছি। প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।’

এছাড়া বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা স্টেপ নিতে শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্টে বলে গেছেন। সরকারীভাবেও ব্যবস্থা নিতে তিনি বলে গেছেন। আমাকেও বলে গেছেন, পানিসম্পদ, নৌ-পরিবহন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ যারা দায়িত্বে আছেন তাদের নিয়ে টিম গঠন করতে। আজকে সিলেট গাইবান্ধাতে আমাদের প্রতিনিধিরা গেছেন। আমরা কালকের সম্পাদক মণ্ডলীর সভায় টিম ওয়ার্ক করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ব্যবস্থা নিচ্ছি। টিম যাবে স্থানীয়ভাবে। যেখানে যেখানে সাহায্য সহযোগিতা করা দরকার করা হবে। জেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যে বলে দেওয়া হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর ভবিষ্যত রাজনীতি কেমন হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা রাজনৈতিক দল যারা সংসদে বিরোধী দল, যাদের আসন সংখ্যাও একেবারে কম নয়। তারা বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। এখন জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক পরিস্থিতি কী রূপ নেবে সেটা জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তারা ভুল করলে ভুলের মাশুল দিতে হবে। আজকে শুনতে পাচ্ছি তারা যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনা করবে। সবকিছু তাদের নিজেদের ব্যাপার, নিজেদের সিদ্ধান্ত। আমরা সবসময়ই বলি রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে, যারা সময়োপযোগী রাজনীতি খুঁজে নিতে পারবে। যুগের দাবির রাজনীতিকে যারা আলিঙ্গন করবে, তাদের হারিয়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই।’

স্বৈরশাসক এরশাদকে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে বিএনপির এমন সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাস্তবতা হলো এটা, পৃথিবীতে অনেক স্বৈরাচার জনগণের কাছে গ্রহণ যোগ্য হয়নি। কিন্তু এরশাদ সাহেব যখনই বিদায় নিয়েছেন, পতনের পরপরই তিনি পাঁচটি আসনে দাঁড়িয়ে পাঁচ আসনেই জিতেছেন। এখন পার্লামেন্টে ইলেক্টেড যে মেম্বার, আমি তার অস্তিত্বকে এবং অস্তিত্বের বাস্তবতাকে কিভাবে অস্বীকার করবো। এরশাদের দল সংসদে ৩০-৪০ সিট নিয়ে আছে। তারা পার্লামেন্ট-এ তাদের একটা রোল থাকে, বিরোধী দলের ভূমিকা তারা রাখছে। এই অবস্থায় জনগণের প্রতিনিধিকে আমি কিভাবে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবো। এখন জিয়াউর রহমান সাহেব কিভাবে এসেছে। সেটাও তো ভাবতে হবে। তিনি কিভাবে আসছেন? তারা যে এখন বলে, একশত পার্সেন্ট ভোট আবিষ্কার করেছেন। একশত ভোট যদি অস্বাভাবিক হয়, একশত চৌদ্দ পার্সেন্ট ভোট কি ধরণের অস্বাভাবিক? জিয়াউর রহমানের হা/না ভোটে, না বাক্সই ছিল না এটা কি ধরনের অস্বাভাবিক। এ প্রশ্নের জবাব চাই। কোর্টে যাওয়ার আগে নিজেদেরে বিবেক কে প্রশ্ন করুন, আয়নায় নিজেদের চেহারাটা দেখুন।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

সাব্বির=১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.