চট্টগ্রামে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে মসলার দাম

0

সাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রাম:

দুয়ারে কড়া নাড়ছে কোরবানির ঈদ। ঈদকে ঘিরে মসলা ও পেঁয়াজ-রসুনের দাম বাড়ানো শুরু করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এলাচ, লবঙ্গ ও দারুচিনির দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। একইসঙ্গে আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও বেড়েছে।
নগরের কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া আমদানিকৃত চায়না আদা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগে যা বিক্রি হয়েছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আমদানিকৃত চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা কেজি। আর দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৪০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া গোলমরিচ, হলুদ, মরিচ গুঁড়া, জয়ত্রী, এলাচ ও দারুচিনির দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি এলাচ ও জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকার উপরে। এর বাইরে লবঙ্গ ৮৫০ টাকা, গোলমরিচ ৬০০ টাকা, জিরা সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও দারুচিনি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের মসলার দোকানের বিক্রেতা জামালউদ্দিন মানবকণ্ঠকে বলেন, এলাচের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। প্রতি কেজি এলাচ এখন পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকার উপরে।
খাতুনগঞ্জ টিএনএস করপোরেশনের স্বত্ত্বাধিকারী নওশাদ হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নগরের পাইকারি বাজারে আদা ও রসুনের দাম বাড়তি।

তবে রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা মানবকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে দাবি করেন, চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বেশি দাম দিয়ে মসলা আনতে হচ্ছে। তাই খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হয়েছে।
বাজারে মসলা কিনতে আসা জিয়াউদ্দিন নামের এক স্কুল শিক্ষক মানবকণ্ঠকে বলেন, দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তারা প্রতিবার কোরবানির ঈদের এক থেকে দেড় মাস আগেই মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই অসাধু তৎপরতা বন্ধ করতে সরকারের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিকল্প নেই।
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মানবকণ্ঠকে বলেন, সপ্তাহখানেক আগ থেকেই মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। ভোক্তাদের যাতে বেশি দামে মসলা কিনতে না হয় সেজন্য প্রশাসনের বাজার তদারকি বাড়াতে হবে।
তবে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মানবকণ্ঠকে বলেন, মসলার দাম গত মাসের তুলনায় কমে গেছে। কোরবানির ঈদের আগে আরো কমে যাবে। মসলার যোগান ভালো থাকায় দাম বাড়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।

সাব্বির=৬ই আগস্ট, ২০১৯ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৬বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.