চট্টগ্রামে আসতে শুরু করেছে গরু, নগরীর অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ গরুর বাজার

0

সাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কর্তৃক নির্ধারিত ৩ টি স্থায়ী এবং ৬ টি অস্থায়ী কোরবানীর গবাদি পশুর বাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।
চসিকের তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী গরুর বাজারের সংখ্যা তিনটি সাগরীকা গরু বাজার, বিবির হাট গরু বাজার এবং পোস্তার পাড়া ছাগল বাজার। অস্থায়ী গবাদি পশুর বাজারের সংখ্যা ছয়টি হলো কর্ণফুলী গরু বাজার(নুর নগর হাউজিং এস্টেট), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পশু বাজার, কমল মহাজনহাট পশুর বাজার,স্টিলমিল বাজার, সল্টগোলা সংলগ্ন রেলক্রসিং স্থান, ৪১ নং ওয়ার্ডস্থ, বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি,কে গ্রুপের খালি মাঠ।

অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ গরুর বাজার।
মায়ানমার থেকে গরু বেপারীরা গরু আনতে পারছেনা।
বাজারে কিছু সংখ্যক ভারতীয় গরু দেখা যায়।

চট্টগ্রাম নগরীর বিবির হাট গরুর বাজারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোরবানি পশু আনা হয়েছে। বিশেষ করে চাপাইনবাবঞ্জ, মাগুরা, নাটোর, কুষ্ঠিয়া, সিলেট থেকে তথা উত্তরাঞ্চল থেকে অধিকাংশ গরু আনা হয়েছে। নগরীর বিবির হাট গরুর হাটে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মো. নুরু মানবকন্ঠকে বলেন, আমরা নিজস্ব খামারে গরু পালন করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুকে খাদ্য খাইয়ে তরতাজা করে চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য এনেছি। গরু বাজারে গরু আসতে শুরু করেছে তবে এখনো পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড় চোখে পড়ার মত নয়।
কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন খান মানবকন্ঠকে বলেন, অনেকে বলে কুষ্টিয়ার গরু ভারত থেকে আনা হয়েছে তবে সে কথা কিছুটা সত্য। কারণ, গত বছর যে সকল গরু ভারত থেকে বর্ডার দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিল সে সকল গরুকে আমরা নিজস্ব খামারে তরতাজা করে লালন পালনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গরুর হাটে বিক্রি করে থাকি।
নগরীর সাগরীকা গরুর বাজারে একিই চিত্র দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল দেখার মত।নগরীর বিবির হাটের ইজারদার আরিফুর ইসলাম মানবকন্ঠকে বলেন, বিবির হাটে প্রায় চার হাজার গরু রাখার মত স্থান রয়েছে। তাছাড়া বিবির হাটের অন্তর্ভুক্ত আশেপাশের বাজারগুলোতে প্রায় দশ-বারো হাজারের মত কোরবানির পশু রাখা যাবে। এক্ষেত্রে প্রায় ষোল হাজারের মত গবাদি পশু রাখার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিবির হাট গরু বাজার। চসিক এবং প্রাণিসম্পদ থেকে কোরবানির পশুদের জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তাছাড়া দেখা যায় যে, বিবির হাটে গরু নিয়ে আসা টেকনাফের গরু ব্যবসায়ী আমীন মানবকন্ঠকে বলেন, আমরা মূলত মায়ানমার থেকে গরু এনে ব্যবসা করি তবে এবারে মায়ানমারের সেনাবাহীনিরা বাংলাদেশে গরু আসতে দিচ্ছেনা। এক্ষেত্রে তিনি বলেন হয়তোবা কোরবানির দুই-একদিন আগে মায়ানমার গরু ছাড়তে পারে।
নগরীর সাগরীকা গরুর বাজারের অফিস সেক্রেটারী কাজী আমিনুল ইসলাম মানবকন্ঠকে বলেন, সাগরীকা গরু বাজারে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ হাজার গবাদি পশু ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্থান রয়েছে। গরু এখনো পর্যন্ত প্রায় তিনশ গাড়ির মত এসেছে আগামী দুই তিনদিনের মধ্যে প্রায় আরো অধিক সংখ্যক কোরবানির গরু আসা শুরু করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে। কোরবনির পশুর ক্ষেত্রে হাসিল ধরা হয়েছে হাজারে ৫০ টাকা করে।
নগরীর কিছু কিছু জায়গায় অবৈধ গরুর বাজার গড়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর কর্ণেলহাটস্থ আশেপাশের এলাকায় অবৈধ গরু বাজার বসিয়ে ব্যবসা করছে স্বার্থন্বেষী মহল। অনুসন্ধানে জানা যায়, পাঁচজন শেয়ার হোল্ডারের মাধ্যমে অবৈধ গরুর বাজার গড়ে তুলেছে। কোন প্রকার হাসিল ছাড়ায় গবাদি পশু বিক্রয় করছে অবৈধভাবে গড়ে তোলা গরু ব্যবসায়ীরা। চসিকের অভিযানে বেশ কিছু অবৈধ গরু বাজার উচ্ছেদ করা হলেও এখনো বেশ কিছু অবৈধ গরুর বাজার রয়ে গেছে। তাছাড়া অনেকের অভিযোগ পাড়ায় পাড়ায় নিজস্ব গরুর হাট গড়ে উঠেছে। পাড়ায় পাড়ায় অবৈধ গরুর হাট গড়ে উঠাই অনেকে চসিক কর্তৃক নির্ধারিত গরুর হাটে যেতে অপরাগতা জানায়।

সাব্বির=৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.