হাজতে গণধর্ষণ: সেই ওসি-এসআই ক্লোজড

0

খুলনা প্রতিনিধি

থানা হাজতে নারী আসামিকে গণধর্ষণের অভিযোগে খুলনা জিআরপি থানার ওসি উসমান গনি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজ করা হয়েছে। বুধবার তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ এতথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমরা এখন আদালতের কোনো কিছু পাইনি। এমনকি ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হয়নি।

এর আগে ২ আগস্ট খুলনার জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সোমবার দুপুরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষা শেষে ওই নারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার তরুণীর দুলাভাই জানান, ২ আগস্ট শুক্রবার তার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে সন্দেহজনকভাবে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে (ভিকটিমের দুলাভাই) ফোন করে ওসি উসমান গনি থানায় ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি এত টাকা কোথায় পাবেন বললে ওসি তাকেও থানা হাজতে আটকে রাখার হুমকি দেন।

একপর্যায়ে বলেন, টাকা না দিলে তার শ্যালিকাকে ফেনসিডিলসহ আরো কঠিন মামলায় চালান দেওয়া হবে। পরে রাত বেশি হলে তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর মধ্যে গভীর রাতে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উসমান গনি পাঠান প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরো চার জন পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে।

পরদিন ৩ আগস্ট শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়।

সোমবার ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ঘটনা তদন্ত ও সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন সাতদিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাব্বির=৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.