গোসল করতে গিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার!

0

অনলাইন ডেস্ক

মাদারীপুরে গোসল করতে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করেছেন।

ঘটনার পর থেকে ওই তিন তরুণ পলাতক। এদিকে মামলা তুলে নিতে বখাটেরা ওই কিশোরীর বাবাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের একটি গ্রামে বাক্প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী গোসল করার জন্য বাড়ির পাশের একটি নদে যায়। এ সময় ওই কিশোরীকে গতিরোধ করে তন্ময় চোকদার (২২), জিসান চোকদার (১৮) ও হাসান মোল্লা (২১) নামে তিন বখাটে। পরে তারা ওই কিশোরীকে জোরকরে পাশের একটি ঝোপের মধ্যে নিয়ে যায়।

বাকপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরী কথা বলতে না পারার সুযোগ নিয়ে তারা কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। ওই কিশোরী গোসল করতে গিয়ে বাড়ি না ফেরায় নদের দিকে যেতে থাকে তার মা। এ সময় নদের পাশে ঝোপের মধ্যে চিৎকারের শব্দ শুনতে পায় ওই কিশোরীর মা। পরে তিনি সামনে এগিয়ে গেলে বখাটে ওই তরুণরা পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় কিশোরীকে তার মা বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিলে ওই দিন রাতেই একটি সালিশ মীমাংসার আয়োজন করে। মীমাংসায় বখাটে ওই তিন তরুণের পরিবার না আসায় সাসিসদাররা ঘটনাটি মীমাংসাযোগ্য নয় বলে চলে যায়।

শুক্রবার দুপুরে কিশোরীর বাবা তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিকেলে তিনি বাদী হয়ে ওই তিনজনকে আসামি করে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

ওই কিশোরীর বাবা ও মামলার বাদী বলেন, মামলা করার পর থেকে বখাটেরা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে শাসিয়ে বেড়াচ্ছে। ওরা বলছে, মামলা করে কি করবি? পুলিশকে টাকা দিয়ে মামলা শেষ করে তোকে দেখে নিবো, কিভাবে এলাকায় থাকিস। আমি এখন বাড়ি থেকে বের হতে পাছি না। ভয় হয় রাতে ওরা আমার বাড়িতে হামলা না করে। আমার মেয়ের সাথে যারা এই কাজ করেছে আমি তাদের বিচার চাই।

শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত তন্ময় চোকদারের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তন্ময়ের বাবা করিম চকিদার বলেন, আমার ছেলে কখনোই এই কাজ করতে পারে না। আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর সাথে স্থানীয় রাজনীতি রয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানাচ্ছি।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছি এবং যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

সাব্বির=১০ই আগস্ট, ২০১৯ ইং ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.