আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে দশ বছরের হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন

0

মো. ইমরান হোসাইন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম):

পাহাড় কেটে ফেলায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র হারায় বিখ্যাত এশিয়ান হাতি। পরিবেশ, বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ায় পথ পরিবর্তন করে হাতি গুলো দিকবিদিক ছুটছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলীর লোকালয়ে ঘুরপাক করছে বন্যহাতি গুলো। বন্য হাতির আক্রমণে প্রায় ১০ বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক, প্রায় দুইশতাধিক পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর। প্রতিনিয়ত হাতির ভয়ে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছে এ দুই উপজেলার মানুষ।

 আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে দশ বছরের হাতির আক্রমণে আহত শতাধিক; ঘরবাড়ি ভাঙচুর

হাতি সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেই বন্য প্রাণী ও বন বিভাগের

গত কয়েক বছর ধরে দিনে এবং রাতে পাহাড় থেকে বন্য হাতির একটি দল লোকালয়ে ঢুকে জমির ফসল থেকে শুরু করে ঘর-বাড়ি এবং গাছ-গাছালির ব্যাপক ক্ষতি করছে। হাতির দলটি জমির ধানসহ নানা জাতের গাছপালা ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাত জেগে মশাল জ¦ালিয়ে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসি। ভয়ে এলাকা ছেড়ে কাছাকাছি আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। দিনে দুপুরে কিন বা রাতে হাতির পাল চলে আসে লোকালয়ে। বছর ঘুরতে না ঘুরতে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আহত হচ্ছে বৃদ্ধা, নারী ও শিশুসহ অনেকেই। খাবারের খোঁজে স্থান করে নেন কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) ও আশপাশের পাহাড় গুলোতে। হাতি গুলো সরিয়ে নেয়ার কোন উদ্যোগ এখনো পর্যন্ত নিচ্ছে না বন বিভাগ ও প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুয়াপঞ্চক, বৈরাগ, মোহাম্মদপুর, ফকিরখিল, বটতলী, হাজিগাঁও, গুচ্ছগ্রাম এছাড়া কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান, দৌলতপুর, দক্ষিণ শাহমীরপুরসহ দুইশতাধিক পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর ও হাতির পায়ে পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৬ জন। কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান খিলপাড়া গ্রামে জালাল আহমদ (৭২), ২০১২ সালেও মরিয়ম আশ্রম এলাকায় জুয়েল দাশ নামে এক ছাত্র, ১৩ জুলাই আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের আবদুর রহমান (৭০), ২৬ জুন বটতলী ইউনিয়নের পুরাতন গুচ্ছগ্রামে ডা. ফরিদের বাড়ির মৃত আবু তাহেরের স্ত্রী মোমেনা খাতুন (৬৫), ১৪ জুলাই রাতে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের হাতির আক্রমণে কান্তিরহাট হলিফাপাড়া এলাকার নেওয়াজ তালুকদার বাড়ির মৃত বদিউজ্জামাল চৌধুরীর পুত্র মো. আকতার হোসেন চৌধুরী (৫০), বরুমছড়া গ্রামের এক মহিলাসহ সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রোববার হাতি শুঁড় দিয়ে তুলে উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকার আলী মাষ্টারের বাড়ির মৃত আবদুল আউয়ালের পুত্র মো. আবদুল মোতালেব বাবুল (৬৮) হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় ৭ জন।
বৈরাগের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুছা তালুকদার জানায়, বৈরাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হাতি দল আক্রমণ চালায়। এ হাতি গুলোর ভয়ে স্থানীয়রা রাত জেগে পাহারা দেয়। হাতির অবস্থান সম্পর্কে বন বিভাগ ও প্রশাসনকে জানানো হলেও এখানো পর্যন্ত কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান বলেন, কয়েক বছর ধরে হাতি গুলো খাবারের খোঁজে ছুঁটে আসে দেয়াং পাহাড়ে। হাতি গুলোর আসার খবর বন বিভাগ ও প্রশাসন জানলেও এখনো পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার কারণে প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখিন ও প্রাণ হারাচ্ছে এলাকাবাসী।
বন বিভাগ পটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, হাতি গুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন্য প্রাণী বিভাগ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা প্রতিদিন দেয়াঙ পাহাড়ে গিয়ে হাতি গুলোকে আরও গভীর জঙ্গলে পাঠানোর চেষ্টা করছি।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, বন্য হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবারদের সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। দ্রুত হাতি গুলো সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাব্বির=২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.