মোদি বাহিনীর হাত থেকে নারীদের রক্ষায় মরিয়া কাশ্মীর

0

অনলাইন ডেস্ক

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর ওই রাজ্যের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বভাবতই উদ্বিগ্ন সেখানকার প্রভাবশালী নেতারা। উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর ধর্ষণসহ বিভিন্ন নারী নির্যাতনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রাজ্যের রমনীকুলকে বাঁচাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে তারা বেশ কিছু কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছেন, যাদের কাজ হবে নারীদের যে কোনো ধরনের বিপদে ছুটে যাওয়া।

এর আগেও কাশ্মীরি নারীদের ওপর ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে ভারতীয় সেনারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন রিপোর্টের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে এসব নির্যাতনের কাহিনী। কিন্তু এবার তো পরিস্থিতি আরো জটিল। কেননা বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর ভারতের যে কেনো অঞ্চলের মানুষ সেখানে গিয়ে জমি ক্রয় করতে পারবে। এমনকি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই রাজ্যের মুসলিম নারীদের ভোগ করার সম্ভবনাও প্রবল হয়ে উঠছে।

তাই এবার উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সেনা উপস্থিতির পাশাপাশি বিজেপি নেতাদের নোংরা কথাবার্তায় চিন্তিত কাশ্মীরের জনগণ। তারা হিন্দুত্ববাদী মোদি বাহিনীর হাত থেকে নিজেদের মা, বোন আর মেয়েদের ইজ্জত রক্ষায় সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক এক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। এই প্রচেষ্টারই ফল হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি তৈরি করা। যেই কমিটির লোকজন কোনো নারীর ওপর নির্যাতন বা হামলার খবর পেলেই ছুটে আসবে এবং তাদের রক্ষা করবে।

এ জাতীয় কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা যদি পঞ্চায়েত পর্যায়ে একত্রিত থাকি তাহলে শয়তানের পক্ষেও আমাদের এলাকা ও বাড়িতে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না।’

কাশ্মীরি জনতাকে মোদি বাহিনীর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে নানা পোস্টার ও লিফলেট প্রচার করা হয়েছে। ওইসব পোস্টারে বিভিন্ন সড়কে ছোট ছোট মসজিদ তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে করে ওইসব মসজিদের মাধ্যমে তারা নিজেদের এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে।

এইসব পোস্টার ও লিফলেটে নানা উদ্দীপক স্লোগান লেখা রয়েছে। এরকমই একটা পোস্টারে লেখা, ‘আমাদের নতুন ইতিহাস তৈরি করতে হবে। প্রমাণ করতে হবে আমরাই সেরা জাতি।’

মোদির দলের লোকজনকে লক্ষ্য করে অন্য এক পোস্টারের ভাষা হচ্ছে, ‘কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আড়ালে যেন কোনো আরএসএসের সদস্যকে বসতে দেওয়া চলবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সাপকে বিশ্বাস করবেন, কিন্তু এসব হিন্দুত্ববাদীদের বিশ্বাস করবেন না। তারা শয়তানের মতো আপনার ওপর হামলে পড়বে। তাই এ সময়ে গোটা কাশ্মীরি জাতিকে পাথরে মতো শক্ত থাকেত হবে।’

কাশ্মীরের চরমপন্থি দল হুরিয়াত এবং ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামি দলের নেতারা এই কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেয় মোদি সরকার। এরপরই কাশ্মীরি নারীদের ভোগ করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠে দেশটির বিকৃতমনা পুরুষেরা। অমিত শাহের এই ঘোষণার পরপরই গুগলে ‘কাশ্মীরি গার্ল’সার্চ করতে শুরু করেন ভারতীয় পুরুষেরা। কেবল সাধারণ পুরুষ নয়, বিভিন্ন নেতা এমনকি খোদ মন্ত্রী পর্যন্ত কাশ্মীরি নারীদের বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আর নিজেদের এসব বিকৃত বাসনা গোপন করার কোনো চেষ্টাই তারা করেননি। বরং জন সমাবেশে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ঘোষনা করেছেন।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার শুক্রবার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘আমাদের পথের কাঁটা সরে গেছে। এখন কেবল বিহার থেকে নয়, আমরা এখন কাশ্মীর থেকেও মেয়ে আনতে পারবো।’

এর আগে বিজেপি নেতা বিক্রম সাইনি তার দলের নেতা-কর্মীদের কাশ্মীরে গিয়ে জমি ও নারীদের ওপর দখল নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি মোদি সরকারের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরদিনই কাশ্মীরের মুজাফফরনগরে গিয়ে বলেন, ‘মোদিজীকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন। এ আনন্দে ড্রাম বাজাচ্ছে গোটা ভারত। বিজেপিতে অবিবাহিত কর্মীরা, যারা এতদিন ধরে কাশ্মীরের সুন্দরী নারীদের বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছে, তারা এখন নির্ভয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন। তোমরা সবাই কাশ্মীরে যাও এবং সেখানকার সুন্দরী নারীদের বিয়ে করো। একই সঙ্গে সেখানকার জমাজমির মালিক হও।’

এইসব নোংরা বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা তার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ মুখ খুলেননি। তাই ধারণা করা হয়, বিক্রম সাইনির মতো নেতাদের এসব কথার পিছনে মোদি সরকারের প্রশ্রয় রয়েছে।

সাব্বির=২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

Comments are closed.